১৯ জানুয়ারি ২০২২
`

ছাত্রলীগ নেতাসহ বহিষ্কার ৯

কুয়েট শিক্ষকের অস্বাভাবিক মৃত্যু
-

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অপর দিকে ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের নতুন একটি কমিটি গঠন করেছে। গত শুক্রবার রাতে এই কমিটি গঠন করা হয় বলে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন জানান।
গতকাল শনিবার দুপুরে কুয়েটের জনসংযোগ ও তথ্য শাখার রিপোর্টার কাম ক্যামেরাম্যান মো: মনিরুল ইসলাম সাগরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্রফেসর ড. মো: সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাটি ২ ও ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৭৬তম (জরুরি) সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যাদি পর্যালোচনা করে সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণের আওতায় ৯ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিএসই বিভাগের ছাত্র সাদমান নাহিয়ান সেজান (রোল-১৩০৭০২৪), সিই বিভাগের মো: তাহামিদুল হক ইশরাক (রোল-১৫০১০৯০), এলই বিভাগের মো: সাদমান সাকিব (রোল-১৫১৯০৩৩), এলই বিভাগের আ স ম রাগিব আহসান মুন্না (রোল-১৫১৯০৪৮), সিই বিভাগের মাহমুদুল হাসান (রোল-১৬০১০২৯), এমই বিভাগের মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান (রোল-১৬০৫০৩৯), সিএসই বিভাগের মো: রিয়াজ খান নিলয় (রোল-১৬০৭০৭৫), এমই বিভাগের ফয়সাল আহমেদ রিফাত (রোল-১৬০৫০৯৩) এবং এমএসই বিভাগের মো: নাইমুর রহমান অন্তু (রোল-১৬২৭০১০)।
প্রসঙ্গত, সেজানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী গত মঙ্গলবার দেখা করে আসার পর বাসায় ফিরে মারা যান কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিম। অভিযোগ উঠেছে, সেজানসহ ওই শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সেলিমকে লাঞ্ছিত করেছিলেন, যা তাকে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তবে সেজান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ দিকে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর শুক্রবার কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
অপর দিকে গত মঙ্গলবার অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেন হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাওয়ার ঘটনা তদন্তে ওই দিন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ওই তদন্ত কমিটির দুই সদস্য তদন্তে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে কেন তারা কমিটিতে থাকতে চাইছেন না সে বিষয়ে কিছু বলেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আলহাজ উদ্দিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সদস্য করা হয়েছে কুয়েটের প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব, খুলনা জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধিকে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ দিকে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর পর একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। সেখানে তাকে অনুসরণ করে কয়েকজন ছাত্রকে তার কক্ষে যেতে দেখা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে একদল ছাত্র ক্যাম্পাসে অধ্যাপক সেলিমকে জেরা করেন। পরে তারা তাকে অনুসরণ করে তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে তার কক্ষে যায়। সেখানে তারা আধা ঘণ্টার মতো অধ্যাপক সেলিমের সাথে ছিলেন এবং পরে অধ্যাপক সেলিম বের হয়ে বাসার দিকে যান।
অধ্যাপক সেলিমের কক্ষে ওই ছাত্ররা তাকে লাঞ্ছিত করে থাকতে পারেন, যা তাকে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
গতকাল শনিবার দুপুরে অধ্যাপক সেলিম হোসেনের স্ত্রী সাবিনা খাতুন রিক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছয় বছরের মেয়েকে এতিম ও আমাকে স্বামী হারা করা হয়েছে। আমি স্বামী হত্যায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।
এ দিকে শুক্রবার কুয়েট বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে গেছেন। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement