২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই : ডব্লিউএইচও

-

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে এটি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সংস্থাটির শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্য সোয়ামিনাথন গত শুক্রবার এক সম্মেলনে বলেছেন, এখনকার পরিস্থিতি এক বছর আগের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে ওমিক্রন পাওয়া গেছে। খবর বিবিসির।
নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট অনেক বেশি পরিবর্তিত হলেও এটি আগেরগুলোর চেয়ে বেশি সংক্রমণশীল এবং কোভিড টিকাকে ফাঁকি দিতে পারে কি নাÑ এসব বিষয়ে এখনো পরিষ্কার হওয়া যায়নি। ভাইরাসটি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত করা হয়। দেশটির বিজ্ঞানীরা এর পরই এই ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপারে বিশ্বকে সতর্ক করে দেন।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে মানবদেহের যে ক্ষমতা, নতুন এই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট তাকে হয়তো অকার্যকর করে দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা এ কথাও উল্লেখ করেছিলেন, এই বিশ্লেষণের ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নন।
ড. সোয়ামিনাথন দক্ষিণ আফ্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, এই ভ্যারিয়েন্ট ‘অতি সংক্রমণশীল’ এবং সারা বিশ্বে এই ভ্যারিয়েন্ট প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেÑ যদিও এসব আগে থেকে ধারণা করা কঠিন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে বর্তমানে যেসব সংক্রমণ ঘটছে, তার ৯৯ শতাংশের জন্য দায়ী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। আমাদের কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? আমাদের প্রস্তুত ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন, আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। কারণ আমরা এখন এক বছর আগের চেয়ে ভিন্ন অবস্থানে আছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কার্যক্রমের পরিচালক মাইক রায়ান বলেছেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বর্তমানে যেসব টিকা রয়েছে সেগুলো ‘অত্যন্ত কার্যকর’ এবং এখন আমাদের সারা বিশ্বে আরো বিস্তৃতভাবে টিকা সরবরাহ করার ব্যাপারে মনোযোগ দিতে হবে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে এসব টিকাতে পরিবর্তন ঘটাতে হবেÑ এমন ধারণার পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক দেশ এরই মধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
অন্যান্য ধরনের চেয়ে ওমিক্রন গুরুতর নয় : সিঙ্গাপুর
করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরনের চেয়ে ওমিক্রনের ধরন গুরুতর; এমন কোনো প্রমাণ পায়নি সিঙ্গাপুর। গত শুক্রবার সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নিউজ এশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত আরো দু’জন সিঙ্গাপুর হয়ে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করেছে। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমিক্রন সম্পর্কিত আরো তথ্য প্রয়োজন।
সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার চেয়ে বেশি সংক্রামক। সময়ের সাথে সাথে এটি বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার শুরু করবে। এটি সিঙ্গাপুরে ছড়িয়ে পড়া এখন সময়ের ব্যাপার। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাঙ্গি বিমানবন্দরের মাধ্যমে ওমিক্রন ছড়িয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা একজনের মধ্যে ওমিক্রন পায় সিঙ্গাপুর। ওই ব্যক্তি ট্রানজিট ফ্লাইটের জন্য চাঙ্গি বিমানবন্দরে এসেছিলেন। ওই যাত্রী পরে সিঙ্গাপুর থেকে গত ২৮ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যান। ওমিক্রনে আক্রান্ত আরেকজন রোগী সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় যান। অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকেও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ওই ব্যক্তির দেহে ওমিক্রন পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এ দিকে সিঙ্গাপুর ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া আরেক ব্যক্তি গত ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চাঙ্গি বিমানবন্দরে আসে। পরে তিনি মালয়েশিয়া যান।
বাতিল হতে পারে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর : জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এই মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করতে পারেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে পরিকল্পিত বৈঠকটি বাতিল হতে পারে। খবর রয়টার্সের। গত মাসে জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু সম্মেলনে পার্শ্ববৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন কিশিদা ও বাইডেন। ওই সময় এ বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে সম্মত হন দুই নেতা। চীনের মতো দ্বিপক্ষীয় উদ্বেগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
এনএইচকে জানায়, কিন্তু করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সফরসূচি পরিবর্তনের কথা ভাবছেন কিশিদা। কোনো সূত্র উল্লেখ না করে এনএইচকে জানিয়েছে, এই বছরের বদলে তিনি নতুন বছরে যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন।


আরো সংবাদ


premium cement