২১ জানুয়ারি ২০২২, ০৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

সরকার সচেতনভাবে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে : মির্জা ফখরুল

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কৃষক দলের সমাবেশের একাংশ। ইনসেটে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: নয়া দিগন্ত -

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে না দিয়ে সরকার সচেতনভাবে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল শুক্রবার কৃষক দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি বলেন, একটা মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত সচেতনভাবে হত্যা করা হচ্ছে- এই কথা আমরা বারবার বলছি। পৃথিবীর সমস্ত দেশ এটা জানে। আমাদের দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন, বুদ্ধিজীবী সবাই বলেছেন যে, দেশনেত্রীকে বাইরে চিকিৎসা করার সুযোগ দেন।
বর্তমান ‘দুঃশাসনকে’ পরাজিত করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এটা বেশি দিন চললে তিনি বাঁচবেন না।
লিভার সিরোসিসের ভালো চিকিৎসা বাংলাদেশে নাই মন্তব্য করে তিনি বলেন, একমাত্র আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে এ রোগের চিকিৎসা ভালো হয়।
বর্তমান সরকার জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বলেছিল, ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে, চাল আজ ৭০ টাকা। সারের দাম তিন গুণ বাড়িয়েছে। চাকরি দেয়ার কথা বলেছে, চাকরি তো দূরের কথা, ফুটপাথের হকার উচ্ছেদ করে জায়গা দখল করছে। গরিব আরো গরিব হচ্ছে। আর তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা নিরাপদ সরকারব্যবস্থা, যেখানে মানুষ ভোট দিতে পারবে। তারা চায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ভোট হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কখনো সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না। স্থানীয় নির্বাচনে কত প্রাণ চলে গেল। কুমিল্লার কাউন্সিলর হত্যার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের তিনজনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। যেন আসল অপরাধীর পরিচয় প্রকাশ না পায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া অবিচ্ছেদ্য। তিনি এখনো কারাগারে আছেন, হাসপাতালে আছেন। এটি হচ্ছে তার এ দেশের গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম। তিনি কখনো মাথা নোয়াননি।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীকে সরকার যদি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে না দেয়, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষের হৃদয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া আছেন। সেখান থেকে কেউ তাকে কেড়ে নিতে পারবে না। দেশের কৃষকদের ঘর থেকে বের করে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে, মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গত ১৩ নভেম্বর থেকে সিসিইউতে থাকা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য তাকে ‘বিদেশের উন্নত সেন্টারে’ নেয়ার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড সুপারিশ করেছে।
এই সুপারিশের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। তবে তার জবাব আসেনি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। সহস্রাধিক নেতাকর্মী তার ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের গৌতম চক্রবর্তী ও গোলাম হাফিজ কেনেডি বক্তব্য দেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২৫ নভেম্বর থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো সমাবেশ, মানববন্ধনের ধারাবাহিক কর্মসূচি করে যাচ্ছে। আজ শনিবার ছাত্রদলের সমাবেশের মধ্য দিয়ে আট দিনের এ কর্মসূচি শেষ হবে।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল শরীয়তপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার শরীয়তপুর জজ কোর্টের সামনের সড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে সার্কিট হাউজের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান খান দিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সভাপতি আরিফ উজ্জামান মোল্যা, জেলা কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর, জেলা যুবদলের সহসভাপতি মনির হোসেন মাঝি, জেলা কৃষক দলের প্রচার সম্পাদক আলী আহমেদ মোল্যা, সদর উপজেলা যুবদল সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, পৌরসভা যুবদল সভাপতি কামাল ঢালী, সদর উপজেলা কৃষকদল সভাপতি বাবুল খান, জাজিরা উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক জয়নাল কাজী, যুগ্ম-আহ্বায়ক বাদশা মিয়া, গোসাইরহাট উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক বাকি বিল্লাহ, শরীয়তপুর পৌরসভা বিএনপির সহসভাপিত কামাল শেখ প্রমুখ।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় বিক্ষোভ করেছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল বগুড়া জেলা শাখা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শহরের নবাব বাড়ী রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আহ্বায়ক আকরাম হোসেন মণ্ডলের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পৌরমেয়র রেজাউল করিম বাদশা, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ কে এম সাইফুল ইসলাম ও ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল। বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা এম আর ইসলাম স্বাধীন, সাজ্জাদুজ্জামান সিরাজ জয়, বগুড়া জেলা কৃষকদল নেতা আনোয়ারুল ইসলাম মিন্টু, ইব্রাহীম হোসেন, আব্দুল মালেক, গোলাম হোসেন রাজ, সানাউল, আরিফুল ইসলাম, হারুন অর রশিদ, এনামুল হক, মাকসুদুর রহমান, ফিরোজ, খাদেমুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, শাহিনুর ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার উন্নত চিকিৎসা থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তার কোনো ক্ষতি হলে দায়ী থাকবে সরকার। এ জন্য সরকারকে দেশবাসীর কাছে একদিন জবাব দিতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, কারামুক্তি ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে অবিলম্বে বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদল। জেলা সদরের দক্ষিণ মৌড়াইল থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কে ওঠার মুহূর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সামনে পৌঁছলেই পুলিশের বাধার সম্মুখিন হয়।
ফলে মিছিলটি আর সামনে এগোতে পারেনি। পরে সেখানেই এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরে আলম ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান উদ্দিন পলাশের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো: জিল্লুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক, আনিছুর রহমান মঞ্জু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা শাখা কৃষক দল যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন আহমেদ, মিজানুর রহমান, নুরুল হক আমিনী, মো: শামীম ইকবাল, জেলা শাখা ছাত্রদল সভাপতি শেখ মো: হাফিজুল্লাহ, যুবদল সভাপতি মনির হোসেন, জেলা বিএনপি নেতা আলী আজম, মো: শাহ আলম ভূঁইয়া, মো: সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ।


আরো সংবাদ


premium cement