২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`
দাবি ১১ দফা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের বাধা

-

নিরাপদ সড়কসহ ১১ দফা দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রামপুরা ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। বেলা দেড়টার পর শিক্ষার্থীরা ব্রিজের পাশে অবস্থান নিলে পুলিশের সাথে তাদের বাগি¦তণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে ব্রিজের হাতিরঝিল থানা অংশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা নিরাপদ সড়ক চেয়ে সেøাগান দেয়। পরে সমাবেশ শেষ করে সড়কে নিহতদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করে। আজ শুক্রবারও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়ে তারা চলে যায়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, তারা দুপুর ১২টায় রামপুরা ব্রিজে এসে দাঁড়াতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদের লাঞ্ছনা করা হয়। এ ছাড়া পুলিশ তাদের ফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা নেয়। একপর্যায়ে পুলিশের বাধায় তারা হাতিরঝিলের কর্নারে গিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলে, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি থেকে তারা সরে এসে রাস্তার পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিল। কিন্তু পুলিশ সেটিও করতে দেয়নি। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাদের বাধা দিয়েছে। প্রথম দিকে বাধার মুখে তারা কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। তবে পরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পুলিশ আর কিছু বলতে পারেনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সোহাগী বলে, ‘পুলিশ আমাদের আজ আটকিয়েছে। জেলখানা বড় করেন, আমরা আসছি। শিক্ষার্থীরা যখন দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে, তখন কিভাবে আটকাবেন? ছাত্রছাত্রীদের সাথে যখন জনগণ রাস্তায় নামবে তখন আসলে তাদের কিছু করার থাকবে না।’ রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে কয়েকজন শিক্ষার্থী মানববন্ধন করে। পরে তাদের বলি ‘তোমরা কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়ে এসেছ, এ রোদে দাঁড়ানোর দরকার নেই। তোমরা রাস্তা ছেড়ে চলে যাও। পরে আবার ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে রামপুরা ব্রিজে হাতিরঝিল থানা অংশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য পুলিশ সতর্ক ছিল। রাজধানীর খিলগাঁও জোনের এডিসি নুরুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সম্মান করি। তবে ছাত্রদের আন্দোলনে কিছু কুচক্রী ঢুকে পড়েছে। তারা আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি খুব সূক্ষ্মভাবে ফলো করা হচ্ছে। কারা কারা এই কাজ করছে এমন কিছু মানুষকে আমরা শনাক্ত করেছি। কুচক্রীরা ছাত্রদের আন্দোলনে যাতে ঢুকে পড়তে না পারে, আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত না করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।


আরো সংবাদ


premium cement