১৯ জানুয়ারি ২০২২
`

পুঁজিবাজার নিয়ে এবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়

-

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য এবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আগামী মঙ্গলবার বৈঠকটির আয়োজন করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এমন একসময় এই বৈঠকটির আয়োজন করা হচ্ছে যখন দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মধ্যে একধরনের মতবিরোধের কারণে দেশের পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নাহিদ হোসেন সই করা এ-সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর সাথে অংশীজনের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবগুলো যথাযথ বাস্তবায়নের কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএসইসি চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
এ দিকে কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়ায় টানা আট কার্যদিবস দরপতন হয় শেয়ারবাজারে। এ পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার বৈঠকে বসে এই দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বৈঠক শেষে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারের অদাবিকৃত ডিভিডেন্ড নিয়ে গঠিত স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ব্যাপারে একমত বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিষয়টি নিয়ে কিছু আইনগত অস্পষ্টতা রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বাজার নিয়ে হতাশ হবেন না। বাজার ভালো করার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা উভয় রেগুলেটরি বডি ভালো বাজারের জন্য যা যা করা দরকার তা করে যাবো।
বিএসইসির পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসার পর বুধবার শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক এক দিনে বেড়ে যায় ১৪৩ পয়েন্ট। তবে সন্ধ্যার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, শেয়ারবাজারে তফসিলি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রতিনিধি দলের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে আরো বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১৯৯৩-এ শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কিছু আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়ে বিএসইসির প্রতিনিধিদলকে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে; কিন্তু সভার পরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ওই সভার কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বিএসইসির সাথে পূর্বনির্ধারিত এ সভা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএসইসির উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠনের ফলে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন এবং পুঞ্জীভূত লোকসান বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফা হতে নগদ লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া সভায় ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৩৫ (১) (গ) ধারা ও ২২ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর ১০ ধারার বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অদাবিকৃত তহবিল স্থানান্তর এবং পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা সত্ত্বেও নগদ লভ্যাংশ দেয়া আইনসম্মত নয় বলে অভিহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএসইসির নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুরোধ জানিয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আসার পর বুধবার রাতেই শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এতে বিনিয়োগকারীদের একধরনের আতঙ্কের চিত্র উঠে আসে। তবে সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচকের সাথে লেনদেনও বেড়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ১ দশমিক ৩০ শতাংশ, আর চট্টগ্রামের সূচকও বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইর মূল সূচক ডিএসইএক্স ৮৯ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৯৩৬ দশমিক ২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের দিন ডিএসইর সূচকে ১৪৩ পয়েন্ট যোগ হয়, যা দিনের হিসেবে সাড়ে ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। দু’দিনে ২৩২ পয়েন্ট যোগ হলো। ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বা ১৪২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ২৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিন ছিল এক হাজার ১০২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।


আরো সংবাদ


premium cement