১৯ জানুয়ারি ২০২২
`

ওমিক্রন ছাপিয়ে যেতে পারে ডেল্টাকেও

-

দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন উচ্চ সংক্রামক ডেল্টাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের প্রধান আদ্রিয়ান পুরেন গত মঙ্গলবার এই আশঙ্কার কথা জানান।
দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আদ্রিয়ান পুরেন বলেন, বিজ্ঞানীরা চার সপ্তাহের মধ্যে হয়তো জানতে পারবেন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট টিকা গ্রহণ বা আক্রান্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়াতে পারে কিনা। ওমিক্রনে করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয় কি না তা-ও জানতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।
এই বিশেষজ্ঞ জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে সরিয়ে ওমিক্রন প্রভাবশালী হয়ে উঠছে কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ স্থানীয় বিজ্ঞানীদের এখন পর্যন্ত মাত্র ওমিক্রনের ৮৭টি সিকুয়েন্স সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনা হলো আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। জুলাই মাসের শুরুতে প্রতিদিন ২৬ হাজারের বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে চতুর্থ ঢেউ দেখা দিতে পারে। এই সপ্তাহের শেষ দিকে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ আগের সপ্তাহের শেষ দিনে এটি ছিল দুই হাজার ২৭০।
টিকা না নেয়াদের ভ্রমণ বিলম্বিত করতে ডব্লিউএইচও’র আহ্বান : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশিকায় পূর্ণাঙ্গ টিকা না নেয়া অসুস্থ বা ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের কোভিড হটস্পটগুলোতে ভ্রমণ বিলম্বিত করার পরামর্শ দিয়েছে। জাতিসঙ্ঘ সংস্থাটি ষাটোর্ধ্ব বয়সী এবং যাদের হৃদরোগ, ক্যান্সার ও ডায়বেটিসের রোগ রয়েছে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এর আগে এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও এ ভ্রমণ নির্দেশিকা সব বয়সের মানুষের জন্য বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সংশোধিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু ঝুঁকিতে থাকা এবং পূর্ণাঙ্গ টিকা না নেয়া মানুষদের ভ্রমণ বিলম্বিত বা পিছিয়ে দেয়া উচিত।
তবে বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানিয়ে দিয়েছে, শুধু ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে না। গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে। এরপরই আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন দেশের সাথে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
কয়েক দেশে নতুন করে ওমিক্রন শনাক্ত : নতুন করে কয়েক দেশে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার একটি দেশ থেকে আসা এক যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত করার কথা ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা দুই যাত্রীর দেহে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে নাইজেরিয়া। এদিকে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেছেন, যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে আক্রান্ত ২২ জন শনাক্ত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা বাড়তে পারে। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেও দুইজনের শরীরে ধরনটির উপস্থিতি মিলেছে। গত ২৪ নভেম্বর আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের ঘোষণা দেয়া হয়। এই অঞ্চলে দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এরপর থেকে এক ডজনের বেশি দেশে ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। অনেক দেশই আফ্রিকার ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে।
নতুন টিকা নিয়ে তোড়জোড় : বিশ্বজুড়ে করোনার নতুন ধরন অমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে বিদ্যমান টিকাগুলো অমিক্রনের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিজ্ঞানীদের। এ অবস্থায় নতুন টিকা তৈরির পথে হাঁটছে টিকা প্রস্তুকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে মডার্না, ফাইজার, জনসন, বায়োএনটেক নতুন ধরনের বিরুদ্ধে টিকা তৈরির কথা বলেছে। প্রয়োজনে নতুন টিকা তৈরির কথা বলেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরাও। তবে করোনার নতুন ধরন অমিক্রন প্রতিরোধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টিকা প্রস্তুতকারক মডার্নার প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ব্যানসেল বলেছেন, বিদ্যমান করোনার টিকাগুলো ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে আশার কথা শোনাতে পারছেন না। বর্তমান টিকাগুলোর কার্যকারিতা বিষয়ে তথ্য পেতে আরো দুই সপ্তাহ লাগবে। এদিকে নতুন টিকা তৈরি করতেও কয়েক মাস সময় লেগে যাবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে বিদ্যমান টিকা কাজ করবে না, এমন কোনো প্রমাণ নেই। প্রয়োজন পড়লে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সাথে দ্রুত নতুন টিকা তৈরি করতে প্রস্তুত গবেষকরা।
ওমিক্রনের বিরুদ্ধেও ফাইজারের ওষুধ কার্যকর : করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিরুদ্ধেও ফাইজারের মুখে খাওয়ার ওষুধ কার্যকর বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলবার্ট বোরলা। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই ওষুধ যেকোনো পরিচিত মিউটেশনের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এমনকি ওমিক্রনের বিরুদ্ধেও এটি কার্যকর। তিনি বলেন, ফাইজারের মুখে খাওয়ার ওষুধ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা সব ধরনের মিউটেশনের বিরুদ্ধে কাজ করবে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের হালকা থেকে মাঝারি লক্ষণের চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কাছে অনুমোদন চেয়েছে। ফাইজার বলছে, তাদের করোনার মুখে খাওয়ার ওষুধ প্যাক্সলোভিড ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সক্ষম। ৭৭৪ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর গবেষণা চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


আরো সংবাদ


premium cement