০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন করতে সহায়তা দেবে ব্রিটেন

ডিকাবের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ডিকসন
-

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ব্রিটেন বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সমর্থন দিয়ে যাবে। ভোটার ও অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিয়ে ব্রিটেন বিদেশী বন্ধু হিসেবে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যতটা সম্ভব সহায়তা দেবে। পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে ব্রিটেন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নতুন নির্বাচন কমিশনের শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি থাকবে বলে ব্রিটেন আশা করে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির (ডিকাব) সাথে মতবিনিময়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন এ মন্তব্য করেন। ‘ডিকাব টক’ নামে পরিচিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীন। সঞ্চালনা করেন ডিকাব সভাপতি পান্থ রহমান।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের সাথে ব্রিটেন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এই ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ হলো রোহিঙ্গা সঙ্কট, যা চার বছর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটেন চায়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যত দ্রুত সম্ভব স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সাথে এবং নিরাপদে রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাক। উদ্বাস্তু শিবিরে কেউ দীর্ঘদিন থাকতে চায় না। কিন্তু মিয়ানমারের ঘটনাপ্রবাহ যে উদ্বেগজনক দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আরো কিছুদিন থাকতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ উদারতা দেখিয়েছে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাবে ব্রিটেন।
ডিকসন বলেন, ব্রিটেনের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে আন্তঃসীমান্ত উচ্চশিক্ষা আইনটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমি শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলছি। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের যুবসমাজ বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ পাবে, যা একটি মধ্য আয়ের দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য ব্রিটেন যাওয়া ব্যয়বহুল। স্থানীয়ভাবে এই সুবিধা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। ব্র্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ায় তাদের শাখা খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্রিটেনের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে একই ধরনের কাজ করতে আগ্রহী। এটা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে দীর্ঘদিন কথাবার্তা বললেও অগ্রগতি নিয়ে আমি কিছুটা হতাশ।
গণতান্ত্রিক দেশে মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, বৈশ্বিক সূচকে অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সহজ কাজ না। তবে চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সাহসিকতার সাথে কাজ করছে, যা প্রশংসাযোগ্য।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিকসন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতাকে যারা সমর্থন করে তাদের পাশে রয়েছে ব্রিটেন।
ব্রিটেনে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশের দণ্ডিত আসামিদের ফেরত পাঠানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, এটা ব্রিটিশ সরকার নয়, বিচার বিভাগের হাতে। তবে ব্রিটেনে বসে কেউ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত কোভেক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনা প্রতিরোধী টিকা সরবরাহের চেষ্টা করছে ব্রিটেন।
গ্লাসগোতে আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-২৬) ওপর আলোকপাত করে ডিকসন বলেন, এই সম্মেলন ঘিরে চারটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ব্রিটেন। এগুলো হলোÑ ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সরবরাহ এবং এ সব লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আগামী রোববার এই সম্মেলনসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দিতে ব্রিটেন যাবেন।



আরো সংবাদ