৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`
কুরআন অবমাননার প্রতিবাদ

বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ভাঙচুর পুলিশের সাথে সংঘর্ষ

রাজধানীতে পুলিশের সাথে মুসল্লিদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া; নোয়াখালীতে ১ জনের মৃত্যু; চৌমুহনীতে ১৪৪ ধারা জারি; চট্টগ্রামে আজ আধা বেলা হরতাল
বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লিদের মিছিলে পুলিশের অ্যাকশন: নয়া দিগন্ত -

কুমিল্লায় কুরআন শরিফ অবমাননার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীরা মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। নোয়াখালীতে সংঘর্ষ চলাকালে হৃদরোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় আজ শনিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। চট্টগ্রামে মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে আজ হরতাল ডেকেছে হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজধানীতে মুসল্লিদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন মুসল্লি আহত হন। কুমিল্লার একটি ঘটনার জেরে গতকাল জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে সাধারণ মুসল্লিরা। মিছিলটি পল্টন-বিজয়নগর হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটার পাশাপাশি টিয়ারশেল ও সাউন্ডগ্রেনেড নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। বেলা ২টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় পুলিশসহ বেশকিছু বিক্ষোভকারী আহন হন। আর এ পুরো সময় পল্টন, কাকরাইল, বিজয় নগর, ফকিরাপুল এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সাধারণ মুসল্লিদের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে তারা মসজিদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করলেও পরে রাস্তায় নেমে পড়েন। একপর্যায়ে মিছিলটি মালিবাগের দিকে এগোতে থাকে। তখন পুলিশ তাদের নাইটিঙ্গেল মোড়ে আটকে দেয়।
বিক্ষোভ থেকে কুরআন অবমাননাকারীদের শাস্তির দাবির পাশাপাশি হেফাজতের সাবেক নেতা মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনটির নেতাদের মুক্তির দাবিতে স্লোগানও দেয়া হয়। এ ছাড়া সরকার ‘নাস্তিকদের’ হেফাজত করছে এমন অভিযোগ তুলে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সাধারণত বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে যেসব বিক্ষোভ হয়, সেইগুলোর নেতৃত্ব কোনো না কোনো সংগঠন কিংবা রাজনৈতিক দল দিয়ে থাকে। কিন্তু গতকালের বিক্ষোভে প্রকাশ্যে কেউ নেতৃত্বে ছিলেন না। তাই মিছিলটি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের কয়েক সদস্য আহত হয়েছেন। জানা যায়, সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেলের আঘাতে সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ (এসি) পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। আহতরা হলেন- রমনা জোনের এসি মো: বায়জিদুর রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) সালমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মহিদুল ও বাকি দুই পুলিশ সদস্যের নাম জানা যায়নি।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে এবং অন্য কোনো গোষ্ঠী যেন সাধারণ মুসল্লিদের বিক্ষোভ মিছিলকে ব্যবহার করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ শুরু থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। নাইটিঙ্গেল মোড়ে আসার পর বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। তখন পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ধাওয়া দেয় এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। বেলা আড়াইটার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে ও যান চলাচল শুরু হয়।
রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো: সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে জুমার নামাজের আগে থেকেই বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে জুমার নামাজের পর মিছিল বের করেন মুসল্লিরা। পুলিশ তাদের বায়তুল মোকাররম থেকে নাইটিংগেল মোড় পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেয়। কিন্তু তারা কাকরাইল মোড়ে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আহত হন।
আহত এসি মো: বায়জিদুর রহমান বলেন, আমিসহ পুলিশের পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বায়তুল মোকাররম এলাকায় আবার ডিউটিতে ফিরেছি। তিনি বলেন, মিছিল নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় তারা ইট-পাটকেল ও লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর আঘাত করে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দল বা সংগঠনগুলোর কোনো ঘোষিত অনুষ্ঠান ছিল না। এমনকি হেফাজতের পক্ষ থেকে আগের রাতেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো কর্মসূচি নেই।
মসজিদে মসজিদে শান্তি-সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা : দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও শান্তির জন্য মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন খতিব-মুসল্লিরা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুতবায় ও নামাজ শেষে মুনাজাতে দেশে সম্প্রীতি ও শান্তি কামনা করা হয়। এ ছাড়া অনেক মসজিদে আসন্ন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানবীর সা: জীবনদর্শনের ওপরও আলোচনা হয়েছে।
নোয়াখালী অফিস জানায়, পবিত্র কুরআন আবমাননাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে গতকাল দুপুর থেকে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় যতন সাহা (৪২) নামে একজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার ও চার পুলিশসহ কমপক্ষে ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার পুলিশসহ পাঁচজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে জুমার নামাজ শেষে বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসল্লিরা মিছিল বের করে। এ সময় চৌমুহনী কলেজ রোডে হিন্দুরা পাঁচ-ছয়জন মুসলিম তরুণের ওপর প্রথমে হামলা করেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে মুসল্লিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা চৌমুহনী কলেজ রোডে বিজয়া, রাধা মাধব জিউর মন্দির, চৌমুহনী রামঠাকুরের আশ্রমসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে চৌমুহনী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে যতন সাহা (৪২) নামে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। সে কুমিল্লা জেলার গবিন্ধপুর গ্রামের মনোরঞ্জন সাহার ছেলে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। একপর্যায়ে চৌমুহনী রেলগেটে পুলিশ, আওয়ামী লীগ-যুবলীগ একত্র হয়ে মুসল্লিদের ধাওয়া করলে উভয়ের মধ্যে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় চৌমুহনী বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ র্যাব বিজিবি ১০ রাউন্ড গুলি ও ৬ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কাজ করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চৌমুহনী শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। শহরে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। র্যাব বিজিবি অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে।
এ দিকে শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খানের উদ্ধৃতি দিয়ে জাগো নিউজ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা ১২ ঘণ্টা চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ মুসল্লিরা। এ সময় তাদের ওপর পুলিশ লাঠি চার্জ করে ও ফাঁকাগুলি ছোড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি পুলিশ বিক্ষোভকারী মুসল্লিদের বেধড়ক পিটিয়েছে এবং অর্ধশতাধিক মুসল্লিকে আটক করেছে। তবে কোতোয়ালি থানার পুলিশ আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা মুসল্লিদের বিক্ষোভ মিছিল থেকে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। পূজামণ্ডপে হামলার অভিযোগ এনে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত আজ শনিবার চট্টগ্রামে আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছেন।
কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার ঘটনাকে ঘিরে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ হতে পারে এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই বিপুল পুলিশ প্রস্তুত ছিল। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই একদল মুসল্লি কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা চেরাগীপাহাড় অভিমুখী সড়কে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ ও ফাঁকাগুলি ছোড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পলায়নপর বিক্ষোভকারীরা এ দিক-সে দিক ছোটাছুটি করে পালানোর সময় জে এম সেন হল পূজামণ্ডপের কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে দেয়। পুলিশ মসজিদে থাকা মুসল্লিদের ঘিরে রাখে। একপর্যায়ে পুলিশ মসজিদে প্রবেশ করে সেখান থেকে অর্ধশতাধিক মুসল্লিকে আটক করে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক মুসল্লি জানিয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ হতে কাউকে আটকের কথা স্বীকার করা হয়নি।
এ দিকে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে পূজামণ্ডপে হামলার অভিযোগ এনে প্রতিমা বিসর্জন না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ। পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত আজ শনিবার চট্টগ্রামে আধা বেলা হরতালের ডাক দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, যেখানে মণ্ডপে এসে হামলা করছে, সেখানে সড়কে যে হামলা হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? সরকার আগে নিরাপত্তার কথা বলুক, তারপর আমরা প্রতিমা বিসর্জনে যাবো। তার আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরের কোনো মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে না।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আন্দরকিল্লা চত্বর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে সেখানে। মুসল্লিরা বেলা ২টায় লাঠি চার্জের পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও সনাতনী ধর্মের লোকজন সেখানে অবস্থান করছে। বিপুল পুলিশ সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে মুসল্লিদের বিক্ষোভ মিছিল থেকে দু’টি পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর কালিবাড়ির এলাকায় এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে একটি মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের মারধর এবং সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দু’টি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মিছিলকারীদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় র্যাব, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা খান জানান, কুমিল্লায় পবিত্র কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে গতকাল জুমার নামাজের পর নগরীর মদিনা মার্কেট থেকে কালিবাড়িতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। মিছিল শুরু করে একপর্যায়ে কালিবাড়ির ‘ভাটিবাংলা’ ও ‘উদীয়মান ভাটিবাংলা’ নামক দু’টি পূজামণ্ডপ অতিক্রম করার সময় মুসল্লিদের দিকে কোথা থেকে একটি ঢিল ছুটে আসে। এ সময় মিছিলকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ দিকে মণ্ডপে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ফিরে যাওয়ার সময় তার বাসায় ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আইনজীবী দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দুপুরে হঠাৎ করে মোটরসাইকেলে করে কিছু লোক আমার বাসায় ঢিল ছুড়ে বাসার জানালার কাচ, ভেন্টিলেটর ভেঙে গেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, একটি মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মণ্ডপে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলেও মণ্ডপ থেকেও প্রতিহত করা হয়। তবে প্রতিমার কোনো ক্ষতি হয়নি। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের গুমগুমিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও মন্দিরে হামলা ভাঙচুর হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ডালিম আহমদকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব, ডিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এ দিকে রাতে গুমগুমিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে হরি বল ঠাকুর মন্দিরে কয়েকজন বাদ্যযন্ত্রকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ছাড়া প্রায় লোকশূন্য অবস্থা। আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজামণ্ডপে আসছেন না।



আরো সংবাদ