২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা পার পাবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকেশ্বরী মন্দির পূজামণ্ডপে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের উদ্দেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখছেন: পিএমও -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে সবাইকে এক হয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পূজামণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের তার সরকার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। তারা কেউ পার পাবে না। সম্প্রতি কুমিল্লার পূজামণ্ডপে সৃষ্ট গুজবকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ ভাঙচুর এবং অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে সাথে সাথেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং সার্বক্ষণিকই আমরা যোগাযোগ রাখছিলাম। এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং যেখানে যেখানে যারাই এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবে সাথে সাথে তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে। এটি আমরা অতীতেও করেছি এবং সেটি আমরা করতে পারব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ শাস্তি তাদের দিতে হবে। এমন শাস্তি যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায়, সেটিই আমরা চাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছাবিনিময়কালে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তিনি একে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যায়িত করে বলেন, কিছু দিন আগে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্ত হচ্ছে। অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করবই। আমরা তা করতে পারব, কারণ এখন প্রযুক্তির যুগ। এটি বের করা যাবে এবং সে যেই হোক না কেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন; তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেয়া হবে। আর আমরা তা করেছি এবং করব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সে সময় এই যাত্রাটা ব্যাহত করার এবং সাথে সাথে দেশের ভেতরে একটা সমস্যা সৃষ্টি করার জন্য কিছু দুষ্ট লোক দেশে রয়ে গেছে। যারা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না। রাজনীতি নেই, কোনো আদর্শ নেই; আসলে তারাই এ ধরনের কাজ করে। এটি তাদের একধরনের দুর্বলতা। কিন্তু এর বিরুদ্ধে যদি সবাই সচেতন থাকে, তা হলে এগুলো যেমন প্রতিরোধ করা যায় তেমনি এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং মহানগর পূজা কমিটির সভাপতির আশঙ্কা ব্যক্ত করার প্রসঙ্গ টেনে সবাইকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, অবশ্যই এ ব্যাপারে আমরা জানি এবং যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ঢাকার অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।
জাতির পিতার রেখে যাওয়া অসাম্প্রদায়িক আদর্শ নিয়েই তার সরকার পথ চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সব ধর্ম, বর্ণের মানুষ সবাই একসাথে বসবাস করবে এবং যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার- এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি। কাজেই আমরা সবসময় এটাই চেষ্টা করি যাতে প্রত্যেকেই নিজের ধর্ম কর্ম স্বাধীনভাবে আনন্দের সঙ্গে উদযাপন ও পালন করতে পারে। ’৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের মাধ্যমেই এ দেশে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে-বিদেশে অবস্থানকারী সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং নিজেরা নিজেদেরকে যেন ক্ষুদ্র সম্প্রদায় বা সংখ্যালঘু না ভাবেন সে জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানান।
আমাদের ধর্ম ইসলামেও সবার ধর্ম পালনের সম-অধিকারের কথা বলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘সূরা কাফেরুন’ এর আয়াত ‘লাকুম দিনুকুম অলিয়াদীন’ উদ্ধৃত করেন এবং বলেন, আমাদের কিছু লোক ধর্মান্ধতায় ভোগেন এবং তারা সবসময় একটা সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে চায়। এ ধরনের লোক যেমন সব ধর্মে রয়েছে তেমনি সব দেশেও এ মতের লোকজন পাওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে হিন্দু বাবা-মা’র সম্পত্তিতে সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করাসহ শত্রুসম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন করে দেয়া, ঢাকেশ^রী কেন্দ্রীয় মণ্ডপ এবং সিদ্ধেশ^রী মন্দিরসহ সারা দেশে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, তীর্থ ভ্রমণের সুব্যবস্থা করা, সারা দেশে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির বা গীর্জাভিত্তিক গণশিক্ষার ব্যবস্থা করা, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করে ১০০’ কোটি টাকা সিডমানি দিয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট চালুতে তার সরকারের উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি এই ট্রাস্টের ফান্ড বৃদ্ধিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিত্তবানদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি দলটির সভাপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অনুরোধ করব তারাও যেন নিজ নিজ এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করেন। যা তারা করেও থাকেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই দেশের মানুষ সুন্দরভাবে উৎসব উদযাপন করবে। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে সেটিই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।


আরো সংবাদ


premium cement