২৮ অক্টোবর ২০২১
`

করোনায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে

সানেমের ওয়েবিনারে তথ্য
-

করোনা মহামারীর কারণে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত সাফল্য আশঙ্কার সম্মুখীন হয়েছে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ পরিস্থিতি আরো চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে মোকাবেলা করতে না পারলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর যে সুযোগ রয়েছে তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। আগামী দিনে এসব চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করা হয় তা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে গতকাল ‘৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে এ কথা বলা হয়েছে। সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ইশরাত হোসাইনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।
গবেষণা প্রবন্ধে ইশরাত শারমীন বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই পরিকল্পনা এমন সময়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে যখন দেশ করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত সাফল্য কোভিডের কারণে আশঙ্কার সম্মুখীন হয়েছে।
বলা হয়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দরিদ্র মানুষদের অবস্থার উন্নয়ন, আয়ের বৈষম্য দূরীকরণ ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার মতো তারুণ্যকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে বিভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তবে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মহামারীর কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার হ্রাস করা এই সময়কালে এক বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণ, শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও কারিগরি শিক্ষার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়াও প্রয়োজন। সেই সাথে এই খাতে সরকার যে ব্যয় করে তা ফলপ্রসূ করতেও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রামক রোগ ও মহামারী প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতকে এখন থেকেই ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি বহুল আলোচিত বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিষদ মনোযোগ দেয়া দরকার। সেই সাথে তরুণদের মাঝে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, প্রথমত. বর্তমানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। দ্বিতীয়ত. উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে হ্রাস পেয়েছে। তৃতীয়ত. অনানুষ্ঠানিক খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারুণ্যের প্রত্যাশা থাকবে, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন, বেকারদের জন্য বীমা প্রকল্প প্রণয়ন করা, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে বিদ্যমান বৃত্তি প্রদান প্রকল্পগুলোর আওতা বৃদ্ধি। সেই সাথে শ্রম বাজারে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে।
জাগো ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক এশা ফারুক বলেন, মহামারীর আগেই শিল্পবিপ্লব শ্রমবাজারে নতুন ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের চাহিদা তৈরি হয়েছে। কোভিড-১৯ সৃষ্ট সঙ্কট এখানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রম বাজারের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে, যার ফলে যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) যুগ্ম পরিচালক ফাল্গুনি রেজা জানান, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তরুণদের বিভিন্ন দাবির প্রতিফলন ঘটেছে। তবে সেসব বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা দরকার।
ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের অপারেশন্স লিড সামাঞ্জার চৌধুরী বলেন, দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধির সাথে সমান তালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে তেমনটা হতে দেখা যায়নি। দেশে চাকরিপ্রার্থী তৈরি হলেও চাকরি তৈরি হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটরা শ্রমবাজারের জন্য তৈরি নয়।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য নাসিমা বেগম বলেন, ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং এর অধীনে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ের জনমিতি পার করছে। এর সুবিধা ভালোমতো নিতে আমাদের অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি সামজিক নীতিও গ্রহণ করে দু’টির সমন্বয় করতে হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এই জবাবদিহি নিশ্চিতে শুধু সরকার নয়, সুশীলসমাজ ও গবেষকরাও ভূমিকা রাখতে পারেন। নীতিনির্ধারকদের এই পরিকল্পনায় উল্লেখিত প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।



আরো সংবাদ


সাইফউদ্দিনের বিশ্বকাপ শেষ, দলে ফিরলেন রুবেল (২৪১৭৬)প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর (১৭৪০৭)কাঁচপুরের বিশাল কারখানা বন্ধের পেছনে কারণ কী? (১৪৪৮৪)কেন ওভারটোন সেতুতে আত্মহত্যা করে কুকুররা (১৩৬২১)স্ত্রীকে বিক্রি করে স্মার্টফোন কিনল নাবালক স্বামী! (১২৫৩৮)পাকিস্তান জেতায় লাভ ভারতীয়দের! (১১৩৩৩)ওয়াকার ইউনিসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার (৭৯৫৪)নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ে ভারত আরো চাপে! (৭৬৭৪)ভারতে ফের ডুবোজাহাজের তথ্যপাচার, ৩ নৌ-কর্মকর্তা গ্রেফতার (৬৭৩৯)নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন : ডিকসন (৬৬৬৪)