২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

কোমা থেকে আর ফিরলেন না পাইলট নওশাদ

-

ভারতের নাগপুর কিংসওয়ে হাসপাতালে তিন দিন কোমায় থাকার পর গতকাল সোমবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউমকে (৪৪) মৃত ঘোষণা করেছেন ডাক্তাররা। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, পাইলট অ্যাসোসিয়েশনসহ অ্যাভিয়েশন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান। তিনি গতকাল সন্ধ্যার আগে নয়া দিগন্তকে বলেন, ভারতীয় সময় বেলা ১১টার দিকে কিংসওয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে ফোনে ক্যাপ্টেন নওশাদ কাইউমের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছে। তার লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করছি মঙ্গলবার দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা তার লাশ দ্রুত আনার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নওশাদকে কোথায়, কখন দাফন করা হবে সেটি লাশ দেশে আসার পরই তার পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন। ক্যাপ্টেন নওশাদ দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক ছিলেন। তারা সবাই আমেরিকায় থাকেন।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার (২৭ আগস্ট) ওমানের মাস্কাট থেকে সকাল সোয়া ৮টায় ১২৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালিয়ে ঢাকায় আসছিলেন পাইলট নওশাদ ও ফাস্ট অফিসার মোস্তাকিম। ভারতের নাগপুর সীমানায় আসার পরই বাধে বিপত্তি। নওশাদ বিমান চালনা অবস্থায় ককপিটে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় ফাস্ট অফিসার মোস্তাকিম কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করে নাগপুরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করান। অচেতন অবস্থায় পাইলট নওশাদকে অ্যাম্বুলেন্সে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় হোপ হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে নেয়া হয় কিংসওয়ে নামক হাসপাতালে। শুক্রবার বিকেল থেকেই নওশাদ ছিলেন কোমায় (সংজ্ঞাহীন)। ডাক্তাররা জানান, মাইল্ড হার্ট অ্যাটাকের পর তার ব্রেনে রক্তক্ষরণ হয়। এরপর থেকেই আর জ্ঞান ফেরেনি। রোববার আমেরিকা থেকে তার দুই বোন নাগপুর কিংসওয়ে হাসপাতালে পৌঁছান। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় মেডিক্যাল বোর্ড। তারা চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তারদের। তিন দিন কোমায় থাকার পর গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ক্যাপ্টেন নওশাদকে মৃত ঘোষণা করেন ডাক্তার।
নওশাদ ও ফাস্ট অফিসার মোস্তাকিমের দক্ষতায় ওই দিন ফ্লাইটের ১২৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা পায়। ২০১৬ সালে আরেকটি দুর্ঘটনার হাত থেকে ১৪৯ যাত্রী আর সাত ক্রুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ। ২০১৭ সালে ক্যাপ্টেন নওশাদকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রশংসাপত্র পাঠিয়েছিল আন্তর্জাতিক পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যাপ্টেন রন অ্যাবেল।



আরো সংবাদ