০৪ আগস্ট ২০২১
`
সেনাসদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

সর্বোচ্চ পেশাদারি দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিন

আরো ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে ঘর প্রদান
-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবর্তিত বিশ্বের নিরাপত্তাব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারি দক্ষতা ও উৎকর্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের সাফল্য অব্যাহত রেখে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ৫১ এমএলআরএস রেজিমেন্টে টাইগার মালটিপল লঞ্চ রকেট মিসাইল সিস্টেম (এমএলআরএমএস) সংযোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। এই টাইগার এমএলআরএমএস অন্যান্য আর্টিলারি সিস্টেমের তুলনায় কম সময়ে একই সাথে দূরবর্তী একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাবাহিনীর বিদ্যমান সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করতে এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই আধুনিক পদ্ধতি (এমএলআরএমএস) সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করবে।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সাভার সেনানিবাস প্রান্তে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এ সময় টাইগার এমএলআরএস সম্পর্কে একটি অডিও-ভিজুয়াল তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আরো ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে ঘর দিলেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ভূমিহীন-গৃহহীনদের মধ্যে ৫৩ হাজার ৩৪০টি ঘর বিনামূল্যে বিতরণকালে মুজিববর্ষে দেশের সব গৃহহীনকে ঘর করে দেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের সব ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষ ঘর পাবে। একটি মানুষও আর ঠিকানাবিহীন থাকবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ একটা ঘর যখন পায়, তার মধ্যে যে আনন্দ, তার মুখে যে হাসি, এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছু নয়। আমি মনে করি, আমার জন্য এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না।’ ‘ক্ষমতা মানে ভোগ বিলাস নয়। ক্ষমতা হলো মানুষের সেবা করা। মানুষের জন্য কাজ করা,’ যোগ করেন তিনি।
গত জানুয়ারিতে প্রথম পর্যায়ে ৬৯ হাজার ৯০৪টি পরিবারকে ঘর প্রদানের পর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে এদিন আরো ৫৩ হাজার ৩৪০ পরিবারকে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর উপহার দিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের ৪৫৯টি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব মানুষকে ঘর দেয়ার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জমির দলিল ও ঘরের চাবি উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন। দলিলে জমির মালিকানা স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে করে দেয়া হয়েছে। তাদের নামে স্থায়ী দলিলের পাশাপাশি নামজারি করে খাজনা দাখিলাও দেয়া হয়েছে। সেমিপাকা ঘরে আছে দু’টি রুম, একটি বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট। পাশাপাশি সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থাও আছে। প্রকল্প এলাকায় বিদ্যালয়, খেলার মাঠ এবং মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয় ও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। তিনি অনুষ্ঠানে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ শীর্ষক একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। একসাথে এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়িঘর দেয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন উল্লেখ করে করে ড. আহমদ কায়কাউস তার উপস্থাপনায় বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরো এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৪৩৬টি ঘর রংপুর বিভাগে প্রদান করা হয়। এছাড়া, চট্টগ্রামে ১০ হাজার ৫৪৭টি ঘর, রাজধানী ঢাকায় সাত হাজার ৬৩০টি ঘর, রাজশাহীতে সাত হাজার ১৭২টি, ৩৭ হাজার ১৫৩টি বরিশালে, ৯১১টি খুলনায়, দুই হাজার ৫১২টি ময়মনসিংহে এবং এক হাজার ৯৭৯টি ঘর সিলেট বিভাগে প্রদান করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের তালিকানুযায়ী দেশে ভূমিহীন এবং গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা দুই লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি (ক-শ্রেণী)। আর শুধুমাত্র গৃহহীন পরিবার হচ্ছে পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি (খ-শ্রেণী)।



আরো সংবাদ