০৩ আগস্ট ২০২১
`

খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল তবে সুস্থ হয়ে ওঠেননি

চিকিৎসকদের ব্রিফিং
-

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল তবে সুস্থ হয়ে ওঠেননি বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকী। খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় ফেরার পর রাতে এক সংবাদ সম্মলনে তার চিকিৎসক টিমের প্রধান এ কথা জানান। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ তিনি (খালেদা জিয়া) স্থিতিশীল আছেন। তার মানে এই নয় যে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। আমাদের মেডিক্যাল টিম যেটা এভারকেয়ার হাসপাতালে সুদক্ষ টিম আছে সেটা, দেশের বাইরে যারা আছেন এবং আমরা যারা আছি সবাই মিলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসাটা আপাতত এখানে (বাসায়) রেখে চালিয়ে যাবো।
ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ওনার অসুখটা চিকিৎসায় একটা স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। তিনি কিউর হয়ে যাননি। ওনার যেই হার্টের জটিলতা, কিডনির জটিলতা, লিভারের জটিলতা সেগুলো কোভিডের কারণে যে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছিল সেই অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। কিন্তু সেই অসুস্থতাগুলো রয়েই গেছে। সেগুলোকে এড্রেস করার যে চিকিৎসা এবং যে প্রস্তুতি বা প্রক্রিয়া সেগুলো আমরা এখনো পরিপূর্ণভাবে করতে পারিনি। যার জন্য একটা রিস্ক ওনার থেকেই যাচ্ছে। আমরা প্ল্যান করেছি যে, ওনাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাব, তিনি অবজারভেশনে আছেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ বা তিন সপ্তাহ পরে আবার আমাদের অপশন রাখতে হচ্ছে যে, ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে রিভিউ করার প্রয়োজন হতে পারে। এ এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ওনার যে জটিলতাগুলো আছে সেগুলো প্রাইমারি ডিজিজ। সেগুলোর চিকিৎসার জন্য আমরা মেডিক্যাল বোর্ড থেকে কতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটা আমরা লিখিত আকারে ওনাদের কাছে দেবো।
এভার কেয়ার হাসপাতালে ৫৪ দিন চিকিৎসা শেষে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দেশে সম্ভব কি না প্রশ্ন করা হলে এ এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আমরা একটা লেভেল পর্যন্ত ওনার চিকিৎসাটা চালিয়ে কতগুলো জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। কিন্তু কতগুলো বিষয় আছে যেমন ওনার যে লিভারের সমস্যা আমরা ধরতে পেরেছি সেটা কোন স্টেইজে আছে এবং এমন সব সেন্টারে এসব অ্যাসেসমেন্ট হওয়া উচিত যেখানে আর্টিফিশিয়াল লিভার সাপোর্ট, আর্টিফিশিয়ালি অন্যান্য এডভান্স টেকনোলজি অ্যাপ্লাই করতে পারে। অসুস্থতা কিন্তু শুধু লিভারে থাকে না, খাদ্যনালীতে হয় যেটা সমস্ত শরীরে তার প্রভাব ফেলে। যেটাতে মেজর কতগুলো কমপ্লিকেশন হতে পারে। সেই ধরনের টেকনোলজি বা সেই ধরনের এডভান্স ট্রিটমেন্ট সাপোর্ট আমাদের বাংলাদেশে নাই বলে আমরা মনে করছি। আমাদের লিখিত প্রতিবেদনে সেটা আমরা বলেছি।
কেন তাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা ছাড়া বাসায় নিয়ে আসা হলো তার কারণ উল্লেখ করে তার চিকিৎসক টিমের প্রধান বলেন, হাসপাতালে রাখাটা অনেক রিস্ক বেশি হয়ে যাচ্ছে সেজন্য বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনবার ওনার রক্তে ইনফেকশন হয়েছে। প্রত্যেকটা ইনফেকশন হাসপাতালের অর্গানিজমে। অর্থাৎ আমরা যখন ব্লাড কালচার করি সেই জীবাণু দেখতে পাই, সেই জীবাণুগুলো সহজে চিহ্নিত করা যায় এটা কোত্থেকে আসছে। আপনারা শুনেছেন যে বুকে দু’টি চেস্ট টিউব নিয়ে ২৪ ঘণ্টা ওনার পাশে দু’টি ব্যাগ লাগানো সেখানে তিনি দেখতে পারছেন হেমোরেজ, রক্ত আসছে। তিনি নিজে চোখের সামনে দেখতে পারছেন। সেগুলো নিয়ে তিনি ১৮-১৯ দিন কাটিয়েছেন। আল্লাহর রহমত তিনি খুব দৃঢ়তার সাথে আমরা যেভাবে ওনাকে বলেছি ওনি সেভাবে আমাদের সাথে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। সেজন্য চিকিৎসাটা এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।
বিদেশে নিয়ে যাওয়া জরুরি কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওনার হার্টের কিছু কিছু ট্রিটমেন্টে এডভান্সমেন্ট আমাদের দেশে আছে। কিডনি ট্রিটমেন্টের ওই ধরনের এডভান্সমেন্ট এখানে নেই। কিছু কিছু ম্যানেজ করা যায়। কিন্তু লিভারের সমস্যা হয়ে যখন ডিকম্পোনসেশন হয়, সেই সমস্যার সার্বিক মূল্যায়ন করে স্টেটেজিং করে সেগুলোর আনুষঙ্গিক যে চিকিৎসা দরকার সেই টোটাল ট্রিটমেন্ট এবং সাপোর্ট আমাদের দেশে নাই।
এ সময়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চিকিৎসক টিমের সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা: মোহাম্মদ আল মামুন, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।



আরো সংবাদ