মহামারী করোনার কারণে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। তারা নতুন করে দারিদ্র্যসীমায় ঢুকেছেন। আর তাদের বেশির ভাগ সরকারি সহায়তার বাইরে রয়ে গেছে। এ ধরনের মানুষের ৭৭ শতাংশের কাছেই কোনো সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জরিপে উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, আবার যারা হতদরিদ্র, তাদের একটি বড় অংশও সহায়তা পাননি। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তারা জানতেনও না। এক দশকের পুরনো তথ্য দিয়ে সরকারি কার্যক্রম চলছে। মাঠ পর্যায়ের বক্তারা বলছেন, ত্রাণ বিতরণের তালিকা করার প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ করতে হবে যেন সঠিক মানুষগুলো ত্রাণ পায়। সরকারি দলের এমপি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যে লোককে সাহায্য দিলে তার ভোট বাড়বে, তিনি তাদের বেছে নেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ‘করোনা মোকাবেলায় ত্রাণ কর্মসূচি : কতটা কার্যকর ছিল?’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংলাপে সিপিডির গবেষণার এইসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো: এনামুর রহমান। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্যরে সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তব্য রাখেনÑ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির শামীম হায়দায় পাটোয়ারী এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ, পলিসি অ্যাডভাইজার, এক্সেস টু ইনফরমেশন আনির চৌধুরী, নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক, ড. ফাহমিদা খাতুন এবং কান্ট্রি ডিরেক্টর, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ড. দীপঙ্কর দত্ত। মাঠপর্যায় থেকে সংলাপে বাংলাদেশের ১৩টি জেলা থেকে প্রায় ১৩০ জন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করে অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রমের পরিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্থানিক বৈশিষ্ট্যগুলোর পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী ত্রাণসহায়তা দিতে হবে। উচ্চ বেকারত্ব, আয় ক্ষয়, কম বেতনে নতুন চাকরিতে যোগ দেয়া এবং কোভিডের কারণে সৃষ্ট ‘নতুন দরিদ্র’ ইত্যাদির ক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, এ সময় সরকার এককালীন আড়াই হাজার টাকা, ত্রাণ হিসেবে নগদ টাকা ও চাল দিয়েছে। দেশের সবচেয়ে দরিদ্র যে ২৫ শতাংশ মানুষ, তার মধ্যে শুধু এক-চতুর্থাংশ এসব সুবিধা পেয়েছেন। তিন-চতুর্থাংশ মানুষ সরকারের কোনো কর্মসূচি থেকে সহায়তা পাননি। যাদের সহায়তা করা হয়েছে, তাদের ৪৪ শতাংশের সহায়তা পাওয়ার কথা নয় বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান বলেন, করোনার সময়ও মোট এক কোটি আট হাজার পরিবারকে ভিজিএফের আওতায় ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। হটলাইন নম্বর ৩৩৩ চালু করায় বিপাকে পড়া যে কারো খাদ্যসহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর বাইরে এক লাখ শিক্ষক ও এক লাখ কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের যে চাহিদা সে অনুযায়ী বিতরণের জন্য আমাদের সাহায্য-সুবিধা এখনো উন্নত দেশের মতো হয়নি। তাই প্রায়োরিটি হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। গত বছর করোনার সময় কিছু সমস্যা থাকলেও এবার তার থেকে বেশ উন্নতি হয়েছে, আগের চেয়ে ব্যবস্থাপনা ভালো হয়েছে।
তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটা নির্ভুল ডাটাবেজ থাকতে হবে। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে যে লোককে সাহায্য দিলে তার ভোট বাড়বে, তিনি তাদের বেছে নেন। তবে দেখতে হবে, যিনি পেয়েছেন, তিনি সত্যিকার পাওয়ার জন্য উপযুক্ত কি না।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ত্রাণকাজে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বিতরণ ব্যবস্থাও স্বচ্ছ হতে হবে। কেউ না পেয়ে নালিশ করলে তা সহজেই সমাধান করতে হবে। এর আরো প্রচার-প্রচারণাও চালাতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয়ভাবে তথ্য-উপাত্তের অভাব রয়েছে। এক দশকের পুরনো তথ্য দিয়ে সরকারি কার্যক্রম চলছে। এতে বেশ সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ প্রদান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। স্বচ্ছতা, নজরদারি ও জবাবদিহিতাও বেড়েছে।

নতুন দরিদ্রদের ৭৭ শতাংশই পায়নি সরকারি সহায়তা : সিপিডি
মহামারী করোনার কারণে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। তারা নতুন করে দারিদ্র্যসীমায় ঢুকেছেন। আর তাদের বেশির ভাগ সরকারি সহায়তার বাইরে রয়ে গেছে। এ ধরনের মানুষের...

ফলো করুন:


