২২ জুন ২০২১
`
চীনা বক্তব্যের সমালোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমরা কী করব না করব তা অন্য কেউ ঠিক করবে না

-

ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশলের (আইপিএস) আওতায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত কোর গ্রুপ কোয়াডে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, কোয়াড নিয়ে চীন আগ বাড়িয়ে কথা বলেছে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি গ্রুপে যোগ দেয়ার জন্য কোয়াড থেকে বাংলাদেশকে এখনো কিছু বলাও হয়নি। এ ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, আমরা কী করব না করব তা অন্যরা ঠিক করে দিতে পারে না। এটি খুব দুঃখজনক। যে কোনো দেশ তাদের মতামত দিতে পারে, আমরা তা শুনব। তবে আমাদের জন্য যেটা ভালো হবে, সেভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।
গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের কাছে করোনা মহামারী মোকাবেলায় ওষুধ ও সুরক্ষাসামগ্রী হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত সোমবার বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির (ডিকাব) সাথে ভার্চুয়াল মতবিনিময়ে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, চারদেশের ছোট ক্লাব কোয়াডে যোগ দেয়া বাংলাদেশের জন্য সুবিবেচনাপ্রসূত হবে না। কেননা এতে চীনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুতর ক্ষতি হবে। তাই এই গ্রুপের সাথে বাংলাদেশের কোনো ধরনের অংশগ্রহণ আমরা দেখতে চাই না। রাষ্ট্রদূত কোয়াডকে চীনবিরোধী অল্প কয়েকটি দেশের অভিজাত ক্লাব হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। আমরা এই নীতিই অব্যাহত রাখব। তিনি বলেন, এক সময় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে গ্যাস বিক্রির জন্য চাপ দিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্তর ছিল, ৫০ বছরের মজুদ রেখেই আমরা গ্যাস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেবো। আপনারা কারা?
ড. মোমেন বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমরাই ঠিক করব। চীনা রাষ্ট্রদূত কী বললেন, তাতে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।
উপহারের টিকা গ্রহণে বাংলাদেশের কালবিলম্বের চীনের অভিযোগ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না পেলে বা নির্ধারিত সাতটি দেশে ব্যবহৃত না হলে করোনা কোনো ধরনের টিকা বাংলাদেশে ব্যবহার না করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। এ কারণে চীনের টিকা নিতে দেরি হয়েছে। চীনকে কোনো বার্তা দেবেন কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব কিছু মিডিয়াকে জানিয়ে কূটনীতি হয় না।
পররাষ্ট্রনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সবার সহযোগিতা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী : আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। পররাষ্ট্রনীতিকে আরো পরিণত ও যুগোপযোগী করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে গতকাল ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ সহযোগিতা চান। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদাপর্ণের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলো তুলে ধরার জন্য ড. মোমেন অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজনীতিবিদ, সাবেক কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকরা দেশের ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সাফল্য ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করার পক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন। জনবান্ধব কূটনীতির ভিত মজবুত করে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জনগণের সাথে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ানো ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মূল উপজীব্য হতে পারে বলে আলোচকরা মতপ্রকাশ করেন।



আরো সংবাদ