১৬ জুন ২০২১
`

তবুও বাড়ি ফিরছে মানুষ নাড়ির টানে

-

ঈদকে সামনে রেখে সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি ও চরম দুর্ভোগের মধ্যেও বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি ও মোটরসাইকেলে করে নাড়ির টানে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ। বিভিন্ন চেকপোস্টে পুলিশ যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি ফিরিয়ে দিলেও ফিরছেন না তারা, অন্য উপায়ে ছুটছেন গ্রামের বাড়ি। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে যাতায়াতের প্রবেশদ্বার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় ও চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের বাড়ইপাড়া এলাকার নন্দন পার্কের সামনে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। এসব চেকপোস্টে যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি ফেরালেও ফিরছেন না যাত্রীরা, অন্য কোনো উপায়ে ছুটছেন বাড়ির পথে। হেঁটে কিছু দূর গিয়ে বিভিন্নভাবে তারা উত্তরবঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হলেও থামছেন না তারা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। দূরপাল্লার যানবাহন না থাকায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও প্রাইভেট কারে যে যেভাবে পারছেন ছুটে চলেছেন। কারো মধ্যেই সরকারি বিধিনিষেধ ও করোনা মহামারীর কোনো ভয়ই যেন নেই। বাড়ি ফেরার জন্য অঘোষিত এক প্রতিযোগিতা চলছে। মানুষের বাড়ি ফেরার এ আবেগকে পুঁজি করে পরিবহনচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছেন। তিন-চার গুণ বেশি ভাড়া আদায় করলেও এটি ঠেকাতে যেন কোনো পক্ষের দায় নেই।
সালনা (কোনাবাড়ি) হাইওয়ে থানার ওসি মীর গোলাম ফারুক জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। এ কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আমাদের চেকপোস্ট রয়েছে। কিন্তু অন্য জেলার গাড়ি ফিরিয়ে দিলে যাত্রীরা তা মানছেন না। এ অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা নবীনগর মহাসড়কের কালিয়াকৈর সীমানা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে করে অন্য জেলার পরিবহনগুলো আমাদের থানা এলাকায় ঢুকতে না পারে।
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ঈদ সামনে চলে আসায় শত শত যাত্রী ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিড় করছে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে। যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে ফেরি গতকাল অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই চলেছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পাটুরিয়া ৩ নম্বর ঘাটে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে এসে পন্টুনে ভেড়ে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ফেরি। ফেরিগুলো আনলোড হওয়ার আগেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে উঠে পড়ে ফেরিতে। সকাল ১০টার পর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই ঘাট এলাকায় প্রচুর যাত্রী এসে জমা হয়। সে সময় ঘাট এলাকায় পাঁচ শতাধিক ছোট গাড়িও পারের অপেক্ষায় দেখা যায়।
রাজধানী ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ জেলায় প্রবেশের প্রধান দু’টি পথেই বসানো হয়েছে বিজিবির চেকপোস্ট। মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বারবাড়িয়া ও ঢাকা-সিঙ্গাইর সড়কের ধল্লায় বিজিবির চেকপোস্টগুলো থেকে জেলার বাইরের ছোট গাড়িগুলোকে ঘুরিয়ে দিলেও ঠেকানো যায়নি ঘরমুখো মানুষের স্রোত।
বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম মো: জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারের বিধিনিষেধ মেনেই অ্যাম্বুলেন্স পারাপার করা হচ্ছে। এই সাথে ঘাটে আগত যাত্রী ও কিছু ছোট গাড়িও পারাপার করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিসির অপর এক কর্মকর্তা বলেন, আসলে আগত যাত্রীদের পার না করে কোনো উপায় নেই। এখন বৃষ্টিও হচ্ছে, শিশুদের নিয়ে নারী যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ঘাটে যাত্রী বেশি জমা হলে বিপদ আরো বেশি। ফলে আমাদের সব কিকই রক্ষা করতে হচ্ছে।
ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ফেরি চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে ভিড় আরো বাড়বে বলে ধারণা ঘাটসংশ্লিষ্টদের। অপর দিকে লঞ্চ চলাচল করলে ভিড় আরো কম হতো বলে দাবি করেছেন লঞ্চ-শ্রমিকরা। একটি লঞ্চের ম্যানেজার আ: হালিম বলেন, সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চগুলো চালানোর সুযোগ দিলে মানুষেরও কষ্ট কম হতো এবং ঈদের আগে দরিদ্র লঞ্চ-শ্রমিকরাও দু’মুঠো খাবার পরিবারের জন্য ব্যবস্থা করতে পারত।



আরো সংবাদ