১২ মে ২০২১
`

কোভ্যাক্সের টিকা কর্মসূচির জন্য দরকার ৪৫০০ কোটি ডলার

-

ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোতে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে গঠিত কোভ্যাক্স উদ্যোগ চালাতে আরো অর্থ প্রয়োজন। আগামী বছর পর্যন্ত এই টিকা কর্মসূচি চালাতে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার হাজার মার্কিন ডলার প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এ তথ্য জানান।
করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ কোটি ৪৪ লাখের বেশি মানুষ। করোনার তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুসারে, এই মহামারীতে মারা গেছেন ৩২ লাখের বেশি মানুষ। এই মহামারী ঠেকাতে গত ফেব্রুয়ারিতে কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় ঘানায় প্রথম টিকা সরবরাহ করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন দেশে টিকা সরবরাহ করছে তারা। কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চার কোটি ৯০ লাখ ডোজ টিকা বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়েছে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক বলেন, বিশ্বজুড়ে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশকে টিকা দেয়া হয়েছে গত এপ্রিলে। টিকার যে সঙ্কট, তা কাটিয়ে উঠতে আগামী জুন নাগাদ দুই কোটি ডোজ টিকা দরকার কোভ্যাক্সের।
এ দিকে কোভ্যাক্স উদ্যোগের সাথে যুক্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্না। গত সোমবার উভয় পক্ষের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন এ চুক্তির ফলে কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন দেশে টিকা সরবরাহ অপেক্ষাকৃত সহজ হবে। তবে ভ্যাকসিনের বেশির ভাগ চালানের জন্যই আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কোভ্যাক্স (কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি) উদ্যোগের যৌথ নেতৃত্বে রয়েছে ডব্লিউএইচও, স্বল্পমূল্যে টিকা দেয়ার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্যাভি, সংক্রামক রোগের টিকা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সংস্থা (সিইপিআই), জাতিসঙ্ঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফসহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে, ভ্যাকসিন মজুদ করে না রেখে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোতে তা বণ্টন করার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে উৎসাহিত করা।
কোভ্যাক্স উদ্যোগের আওতায় এরই মধ্যে বিশ্বের গরিব দেশগুলোতে চার কোটি ৯০ লাখ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। দুনিয়াজুড়ে টিকা সরবরাহের এই উদ্যোগ এত দিন ধরে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ওপরই নির্ভরশীল ছিল। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকা চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়। ফলে কোভ্যাক্স উদ্যোগের জন্য ফাইজার, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং মডার্নার মতো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে হয়।
২০২১ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বের ৯২টি দেশ ও অঞ্চলের জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ যেন ভ্যাকসিন পায়, সেই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কোভ্যাক্স। তবে মডার্নার পক্ষেও বেশির ভাগ টিকা এ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। সে জন্য আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গ্যাভির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রত্যাশা ২০২১ সালের শেষ তিন মাসে মডার্নার ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে। এ বছরই তাদের কাছ থেকে তিন কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে। বাকি ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ডোজ পাওয়া যাবে ২০২২ সালে।
ফাইজারের অনুমতি মিলছে না দিল্লিতে : মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার জানিয়েছে, ভারতকে সাত কোটি ডলার মূল্যের ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে পাঠাতে চায় তারা। তবে নরেন্দ্র মোদির সরকার এখনো তাদের টিকার অনুমোদন দেয়নি। গত সোমবার ফাইজারের সিইও অ্যালবার্ট বুরলা জানান, এক মাস আগেই এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কাছে আবেদন পাঠিয়েছিল ফাইজার। মহামারী পরিস্থিতিতে সাহায্য করার জন্য তারা যে ভারতকে সাত কোটি ডলার মূল্যের টিকা পাঠাতে চায় সে কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে তাদের কথাবার্তা চলছে বলে জানিয়েছেন অ্যালবার্ট।
ভারতে শনাক্ত ২ কোটি ছাড়াল : সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে সরকারি হিসাবেই শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তিন লাখ ৫৭ হাজার ২২০ জনের দেহে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পাওয়ার কথা জানিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরো তিন হাজার ৪৪৯ জনের। শনিবার দেশটি এক দিনে চার লাখের বেশি রোগী শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল; এরপর থেকে ভারতে দৈনিক শনাক্তের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে নেমে আসতে দেখা যাচ্ছে। দেশটির সরকারও সংক্রমণের হার খানিকটা ‘কমে এসেছে’ বলে জানিয়েছে। এ দিকে ভারত ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় উৎপাদক দেশ হলেও দেশটিতে টিকার ঘাটতি দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও দেশটি এখন পর্যন্ত তাদের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের সামান্য বেশি মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দিতে পেরেছে। দেশটিতে টিকার দু’টি ডোজই নিয়েছেন, এমন নাগরিকের সংখ্যা এখনো ২ শতাংশ হয়নি।
যুক্তরাজ্যে টিকা তৈরি করবেন সেরাম সিইও : যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরি করবেন সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান আদার পুনাওয়ালা। দেশটিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণায় ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগও করবেন তিনি। লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ডাউনিং স্ট্রিটের অফিস থেকে গত সোমবার এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করা হয়। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ৩৩.৪ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই প্রকল্পে যুক্তরাজ্যে টিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গবেষণা এবং টিকা আরো উন্নত করতে যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। টিকা তৈরির সংখ্যার বিচারে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টিকা তৈরি করছে পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার সাথে মিলে তাদের তৈরি করা করোনা টিকা কোভিশিল্ড বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে তুলনামূলক কম দামে পৌঁছে দিয়েছিল ভারত। তবে বর্তমানে দেশটিতে টিকার ঘাটতি দেখা দেয়ায় আপাতত সেই সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতে সিংহের করোনা : মহামারী করোনাভাইরাস এবার থাবা বসিয়েছে সিংহের শরীরে হায়দ্রাবাদের নেহরু জুওলজিক্যাল পার্কে মোট ৮টি এশিয়াটিক সিংহের গায়ে। বেশ কিছু দিন ধরেই ওই ৮টি সিংহের শরীরে করোনার উপসর্গ লক্ষ করা গিয়েছিল। সেই মতে পার্ক কর্তৃপক্ষের সিংহগুলোর করোনা পরীক্ষা করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল সেই পরীক্ষার রিপোর্টে তাদের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। যা দেশের মধ্যে এই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত দুই দিন আগে পার্কের দরজা জনসাধারণের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য খুলছে স্পেন : দীর্ঘ এক বছরের বেশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেয়া বিধি-নিষেধ অব্যাহত থাকার পর পর্যটকদের জন্য খুলছে স্পেন। শুধুমাত্র ‘ইউরোপীয় সবুজ ডিজিটাল সার্টিফিকেট’ বহনকারী আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আগামী জুন মাস থেকে এটি কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জাতীয় পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক ফের্নান্দো ভালদেস। তিনি বলেন, গ্রীষ্মের ছুটির মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের স্পেনে আগমনের অর্থ হচ্ছে মহামারীতে ‘টিকা স্বরূপ’।
এবার যুক্তরাষ্ট্রে টিকা পাবে শিশু-কিশোররাও : যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় শিশু ও কিশোরদের টিকা প্রয়োগের জন্য ফাইজারের টিকাকে অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। এফডিএর কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ১২-১৫ বছর বয়সীদের জন্য চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই টিকার অনুমোদন দেয়া হতে পারে। এফডিএ গত বছরের ডিসেম্বরে ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফাইজারের টিকার অনুমোদন দেয়। এই টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রে আরো এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ টিকা নেয়ার উপযুক্ত হবেন।
রেকর্ড সংক্রমণে ভেঙে পড়েছে জাপানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা : জাপানে মহামারী করোনাভাইরাসের রেকর্ড সংক্রমণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। করোনা মহামারীর শুরুতে জাপানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত থাকলেও হঠাৎ করেই দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। মাত্র ২৩ দিনেই অন্তত এক লাখ শনাক্ত হয়েছেন, এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ১০ হাজার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাপানের টোকিও, ওসাকা, কিয়োটোসহ বেশ কয়েকটি শহরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ দিকে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেরামের তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রফতানি বন্ধ থাকায় এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে টিকার তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

 



আরো সংবাদ


হামাসের কমান্ডার নিহত (৯৭২৫)চীনের মন্তব্যের জবাবে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (৯৫৯১)ইসরাইলি পুলিশের হাতে বন্দী মরিয়মের হাসি ভাইরাল (৭২৬০)বিহারের পর এবার উত্তরপ্রদেশেও নদীতে ভাসছে লাশ (৬৫৮১)‘কোয়াডে বাংলাদেশ যোগ দিলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক খারাপ হবে’ (৫৮১৫)যৌন অপরাধীর সাথে সম্পর্ক বিল গেটসের! এ কারণেই ভাঙল বিয়ে? (৪৮৬১)উত্তরপ্রদেশে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের প্রধান হলেন আজিম উদ্দিন (৪৩১৪)নন-এমপিও শিক্ষকরা পাবেন ৫ হাজার টাকা, কর্মচারীরা আড়াই হাজার (৪০৯৪)গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ৯ শিশুসহ ২০ ফিলিস্তিনি নিহত (৩৮১১)কুম্ভমেলার তীর্থযাত্রীরা ভারতজুড়ে যেভাবে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে (৩৫৬৯)