০৮ মে ২০২১
`
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির অঞ্চলে মৃত্যু কম : গবেষণা

ভারতে করোনা আক্রান্তের রেকর্ড প্রতিদিনই ভাঙছে

-

করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ অনেক দেশেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আবার লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করছে বহু দেশ। করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলেও থামছে না সংক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, যেসব অঞ্চলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায় সেসব এলাকায় মৃত্যুহার কম। আর যেখানে অতিবেগুনি রশ্মি কম পৌঁছায় সেখানে মৃত্যুহার বেশি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ এ খবর জানিয়েছে।
গত বছর মহামারী শুরু হওয়ার পর করোনা ঠেকানো সম্পর্কে বিভিন্ন কথা একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। কয়েকটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, ভিটামিন ডি-এর অভাব করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে এবার ব্রিটিশ গবেষকরা বললেন, ভিটামিন ডি নয়, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণেই বিভিন্ন অঞ্চলে মৃত্যুহার কম। এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে।
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষক দল ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার কাউন্টির কোথায় কতটা অতিবেগুনি রশ্মি থাকে সেটি খতিয়ে দেখেন। আর সেই সাথে ওই সব কাউন্টিতে করোনার প্রকোপ কতটা, সেই পরিসংখ্যানও বিশ্লেষণ করেন তারা। আর সেই গবেষণা থেকেই তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, যেসব অঞ্চলে সর্বাধিক ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিবেগুনি রশ্মি পৌঁছায়, সেখানে মৃত্যুহার তুলনামূলক অনেক কম। একইভাবে যেসব অঞ্চলে অতিবেগুনি রশ্মি ততটা প্রকট নয়, সেখানেই করোনায় মৃতের সংখ্যা বেশি। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ইতালিতেও একই রকম পরীক্ষা চালিয়ে একই ধরনের ফল পেয়েছেন গবেষকরা।
তাদের দাবি, ভিটামিন ডি নয়, এর পেছনে রয়েছে অতিবেগুনি রশ্মিই। তারা গবেষণা করে দেখেছেন, ত্বকের সাথে বেশিমাত্রায় সূর্যের আলো সংস্পর্শে এলে সে ক্ষেত্রে ত্বক থেকে নাইট্রিক অক্সাইড নির্গত হয়। সম্ভবত এর ফলেই কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হয়। পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, রোদের সংস্পর্শে এলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যেহেতু মারণ ভাইরাসের আক্রমণে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই এ ক্ষেত্রে তা করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
সব রেকর্ড ভেঙে দিনে আড়াই লাখের বেশি সংক্রমণ ভারতে : একের পর এক সংক্রমণের রেকর্ড ভাঙছে ভারতে। এবার এক দিনেই দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে আড়াই লাখের বেশি। এখন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণ। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক দিনে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৬১ হাজার ৫০০। অন্য দিকে এক দিনে করোনায় প্রাণ হারিয়েছে এক হাজার ৫০১ জন। এ নিয়ে টানা চার দিন ভারতে দুই লাখের বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটল। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে নতুন করে ১২ লাখের বেশি সংক্রমণ ঘটেছে। সংক্রমণের শীর্ষে আছে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, নয়াদিল্লি, কর্নাটক ও ছত্তিশগড়। গত ২৪ ঘণ্টায় এই পাঁচ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ লক্ষ করা গেছে। মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ১২৩, উত্তরপ্রদেশে ২৭ হাজার ৭৩৪, দিল্লিতে ২৪ হাজার ৩৭৫, কর্নাটকে ১৭ হাজার ৪৮৯ ও ছত্তিশগড়ে ১৬ হাজার ৮৩।
টিকার ভয়াবহ সঙ্কট : বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টিকা উৎপাদনকারী দেশ ভারত। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে পরিস্থিতি বিপর্যস্ত। এ সময়ে সেখানেই লাখ লাখ মানুষ টিকার জন্য অপেক্ষা করছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে যে পরিমাণ টিকা বিক্রি হয় তার শতকরা ৬০ ভাগের বেশি উৎপাদন করে ভারত। এখানেই রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই)। প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে বিপুল উৎপাদন সক্ষমতা। এ জন্য জাতিসঙ্ঘের কর্মসূচি কোভ্যাক্সে একটি বড় অবদান রাখা দেশ ভারত। কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে কম মূল্যে বা বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকা দেয়া হচ্ছে। গত বছর প্রাথমিক চুক্তির অধীনে ৯২টি দেশের জন্য ২০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করার কথা এসআইআইয়ের। এখন থেকে কয়েক মাস আগেও ভারতের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। কিন্তু মার্চে সেখানে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের। ফলে পরিস্থিতি দ্রুতই প্রথম দফা সংক্রমণকে অতিক্রম করে গেছে। এখানে গত বছর সেপ্টেম্বরে এক দিনে সংক্রমিত হয়েছিলেন কমপক্ষে ৯৭ হাজার মানুষ। সেটি ছিল প্রথম দফা সংক্রমণের পিক সময়। কিন্তু সে অবস্থাকে এবার অতিক্রম করে গেছে অনেক আগেই। গতকাল রোববার ভারতে এক দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে দুই লাখ ৬১ হাজার ৫০০ মানুষ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডাটা অনুযায়ী, এটিই এ যাবৎকালের মধ্যে দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সেখানে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় এক কোটি ৪০ লাখ।
এমন অবস্থায় বিভিন্ন রাজ্যে ও শহরে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী দিল্লিতে সাপ্তাহিক ছুটিতে এবং নৈশকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। এই দিল্লিতে বসবাস করেন এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ। অন্য দিকে আরো কঠোর লকডাউন দেয়া হলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেনÑ এই ভয়ে অভিবাসী শ্রমিকরা দলে দলে নিজেদের গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন হলেও আরো কঠিন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আস্তে আস্তে করোনার টিকা সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে। কমপক্ষে ৫টি রাজ্য থেকে টিকার ভয়াবহ সঙ্কটের কথা জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



আরো সংবাদ