১২ এপ্রিল ২০২১
`
আগুন নিয়ে খেলবেন না : মামুনুল

ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করুন : বাবুনগরী

-

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদিসহ ১৭ নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, গত ২৬ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নিরীহ শান্তিপ্রিয় মুসল্লিদের ওপর পুলিশের সহযোগী হেলমেট পরিহিত ও চাপাতি-রামদা হাতে একদল সন্ত্রাসী বিনা উসকানিতে আক্রমণ চালায়। পাশাপাশি পুলিশও মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মুসল্লিরা আত্মরক্ষার্থে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, সেদিনের সঙ্ঘাতের ভিডিওগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে কারা সহিংসতা উসকে দিয়েছিল। সারা দেশের মানুষ ওই ভিডিওগুলো দেখেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সেদিনের ঘটনা কভারেজ পেয়েছিল। সেদিন হেফাজতে ইসলামের কোনো কর্মসূচি ছিল না। সুতরাং, নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হেফাজতের ১৭ জন কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। অবিলম্বে এসব ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই। অন্যথায় আলেম-ওলামার সাথে বাড়বাড়ির কারণে সরকার নিঃসন্দেহে জনগণের কাছে আরো ঘৃণিত ও নিন্দিত হবে। তিনি আরো বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো কিংবা কাউকে ক্ষমতায় বসানো হেফাজতের কাজ নয়। আমরা শান্তিপ্রিয় এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে। কিন্তু হামলা-মামলা ও দমন-পীড়ন চালিয়ে কখনোই সহিংসতা রোধ করা সম্ভব নয়। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জানানো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার হরণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কোনো বিদেশী আধিপত্যবাদী শক্তির প্ররোচনায় কোনো ধরনের আত্মঘাতী ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকতে সরকারকে আহ্বান করছি।
আগুন নিয়ে খেলবেন না : মামুনুল
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না, তা হলে পরিণতি ভালো হবে না। তিনি আরো বলেন, ফোনালাপ ফাঁস করে আমার ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণœ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে অন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কর্মকাণ্ডও ফাঁস হতে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে বিশৃঙ্খলা-সংঘর্ষের দিকে যেতে পারে। এভাবে কাচের ঘরে বসে ঢিল ছুড়বেন না, তা হলে পরিণতি শুভ হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি এ কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, ইসলামে চারটি বিয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশের আইনেও একাধিক বিয়েতে বাধা নেই। কাজেই আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি এতে কার কী? আমি যদি স্ত্রীদের কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করে থাকি, তবে আমার বিরুদ্ধে পরিবার অভিযোগ দিতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কি সে রকম কিছু দেখাতে পারবে? তিনি আরো বলেন, আমার স্ত্রীর সাথে আমি কী বলব না বলব সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু ফোনালাপ ফাঁস করে আমার ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণœ করা হয়েছে। এটি যেমন দেশের আইনেও অপরাধ তেমনি ইসলামী বিধানেও চরম গুনাহের কাজ। আমার ব্যক্তিগত ফোনালাপ যারা ফাঁস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, যেভাবে একের পর এক মানুষের ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করা হচ্ছে, এটি দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। মাওলানা রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে তার নামেও অপবাদ দেয়া হয়েছে। এই যে এতগুলো ফোনালাপ ফাঁস করা হলো তাতে কি প্রমাণ মিলেছে যে, সে আমার বিবাহিতা স্ত্রী নয়? অথচ শুধু শুধু আমার একান্ত ব্যক্তিগত কথাগুলো কোনো উদ্দেশ্যে ফাঁস করা হলো? তিনি বলেন, সেদিন নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে যে, আমি কেন এই পরিস্থিতিতে রিসোর্টে গেলাম। হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি যে, এমন অসাবধানতাবশত সেখানে আমার যাওয়া সমীচীন হয়নি। আমি জানতাম না যে দেশের মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। সন্ত্রাসীরা আমার চরিত্রহরণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, সেদিন আমার স্ত্রীদের নাম বলা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। কিন্তু সেদিন আমার সাথে ৩০ জনের মতো সন্ত্রাসীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য যেভাবে আমার ওপর হামলে পড়েছে, আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, আমার বস্ত্র হরণের চেষ্টা করেছে, আমার দাড়ি ও টুপির ওপর হামলা করা হয়েছে, সেখানে আমি সাহসী ভূমিকা না রাখলে আমার জীবনে অনেক খারাপ ঘটনা ঘটতে পারত। সে সময় তাদের প্রশ্নবাণে চার দিক থেকে আমাকে জর্জরিত করা হয়েছে। সে সময় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কিছু প্রশ্নের যেসব জবাব দিয়েছি, তাতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে; কিন্তু পরে পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের কাছে আমার সব সঠিক তথ্য দিয়েছি। সেখানে আমি দুই স্ত্রীর নামই সঠিকভাবে বলেছি। তিনি বলেন, সে সময় আমার অনুমতি না নিয়েই আমার পর্দানশিন স্ত্রীর ভিডিও ধারণ করেছে পুলিশ। সে ভিডিও কিভাবে প্রকাশ্যে এলো? এভাবে আমার পর্দানশিন স্ত্রীকে জনসম্মুখে আনা হয়েছে। যেটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
মামুনুল হক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সেদিন আমার ওপর যেভাবে মারমুখী আচরণ করা হয়েছে, তাতে আমার মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। এভাবে দেশে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে চরিত্রহননের অশুভ খেলা শুরু হয়েছে। হেফাজতের নেতাদের কলুষিত করতে অন্য নেতাদেরও ফোন কল ফাঁস করা হতে পারে, পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু আমি বলব এভাবে হেফাজতকে দুর্বল করা যাবে না। হেফাজতের ঐক্য ইনশা আল্লাহ অটুট থাকবে।
সোনারগাঁওয়ে গ্রেফতার ৫
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত রয়েল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের ইস্যুতে হেফাজত কর্মীদের সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ দুই নেতার বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রয়্যাল রিসোর্টে ভাঙচুর মামলায় এজহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে ও গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক ইয়াউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেনÑ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের পঞ্চবটি গ্রামের আবদুল কাদিরের ছেলে রাজু ও আবু রায়হান এবং মোক্তার হোসেনের ছেলে ইমরান, খাসনগর দীঘিরপাড় গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে আকাশ। এর আগে রিসোর্টে হামলার ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে সোনারগাঁওয়ের বাংলাবাজার এলাকা থেকে মো: মোস্তফা নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
সিরাজদিখানে হেফাজতের সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপেজলায় হেফাজতের ডাকা সমাবেশস্থলে চলছে ১৪৪ ধারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুচিয়ামোড়া কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা ও করোনা সংক্রমণ রোধের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে সিরাজদিখান উপজেলা প্রশাসন।



আরো সংবাদ