১২ এপ্রিল ২০২১
`
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ

কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

-

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘মানুষকে বাঁচানোর জন্য আমরা প্রাথমিক কিছু ব্যবস্থা নিলেও ভবিষ্যতে হয়তো আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমরা সেটা নেবো।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) বিসিএস কর্মকর্তাদের ছয় মাসব্যাপী ৭১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি। বাসস, বাংলা ট্রিবিউন।
শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় গুরুত্বারোপ করে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আপনারাও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। অপরেও যেন সুরক্ষিত থাকে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। আজকে যারা দায়িত্ব নিয়ে কর্মস্থলে যাবেন সেখানেও যেন সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিকে আপনারা দৃষ্টি দেবেন।’ তিনি বলেন, ‘আজকে এই সভার মাধ্যমে সবাইকে বলব- প্রত্যেকে যাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধিটা মেনে চলে সেই ব্যবস্থাটা নেবেন। মানুষের জীবন-জীবিকা চলতে হবে, মানুষকে আমরা কষ্ট দিতে পারি না। কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একান্তভাবে অপরিহার্য।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাস্ক পরা এটা একান্তভাবে দরকার। সেই সাথে সাথে গারগল করা, বাইরে যেখানেই যাবেন ঘরে ফিরে একটু গরম পানির ভাপটা নেবেন।’
বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ এ কথা মাথায় রেখেই কাজ করবেন। সে জনগণ হতদরিদ্র হোক, কৃষক বা শ্রমিক হোক, সেও কিন্তু এ দেশের মালিক। সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে এ কথাই বলা আছে যে প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। সে কথা মাথায় রেখেই আপনারা তাদের সেবা দেবেন। দেশের মানুষের জন্যই আপনাদের কাজ করতে হবে।’
সরকারপ্রধান বলেন, মহান মুক্তি-সংগ্রামের এবং মুক্তিযুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। তাই বাংলাদেশে ধর্ম-লিঙ্গ-ধনী-দরিদ্র কোনো ভেদাভেদ নয়। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে তাদের সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে তাদের সমান অধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। সেই মানসিকতা নিয়েই আপনারা জনগণের সেবা করবেন, সেটাই আমি চাই। সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় এই গরিব কৃষক। আপনার মাইনে দেয় ওই গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ওই টাকায়। আমি গাড়ি চড়ি ওই টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন। ইজ্জত করে কথা বলুন। ওরাই মালিক। বাংলাদেশের জনগণই বাংলাদেশের মালিক।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ৭১তম বুনিয়াদি কোর্সে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। প্রতিষ্ঠানে রেক্টর মো: রকিব হোসেন ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং শপথবাক্য পাঠ করান। এবারের কোর্সে ৩০৭ জন কর্মকর্তার সবাই কৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ২২৮ জন পুরুষ এবং ৭৯ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস নামে একটি ভাইরাস আজ সারা বিশ্বটাকেই তোলপাড় করে দিয়েছে। সারা বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতে একটা বাধা আসছে। কিন্তু তারপরও আমাদের প্রচেষ্টা রয়ে গেছে। হয়তো কিছু দিনের জন্য সবকিছু থমকে গিয়েছিল। তার পরে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রেখেছি। তিনি বলেন, ‘আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুবিধা আজ শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃৃত হয়েছে।’ আমাদের লক্ষ্যটা হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যা আরো বলেন, আমি জানি আমার এখন যে বয়স তাতে ২০৪১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করার মতো বা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আজ যারা নবীন অফিসার দায়িত্ব নিয়ে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে কাজে যাবেন, আপনাদের ওপরই দায়িত্ব পড়বে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হচ্ছে আজকের নতুন প্রজন্ম।
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও তার সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় এক হাজার ১০৭.০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিপিএটিসিতে ‘ভৌত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিপিএটিসির সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজ সমাপ্ত হলে, সিভিল সার্ভিসের দুই হাজার সদস্যকে একসাথে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে এখানে।

 



আরো সংবাদ