১০ এপ্রিল ২০২১
`

জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানাতেই হবে

বিশেষজ্ঞদের অভিমত
-

করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আন্তরিকতার সাথে জনসাধারণকে আরো সম্পৃক্ত করতে হবে। খুবই সংক্রামক এই ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টাকে সাধারণ মানুষ খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা: আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার কিছু কাজ করতে চেষ্টা করছে, কিন্তু তা খুব বেশি আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সাত দিনের একটি লকডাউন (জনগণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ) ঘোষণার দু’দিনের মধ্যে তা শিথিল করেছে কয়েকটি গ্রুপের দাবির মুখে, এটা ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, লকডাউন শিথিল করার পেছনে কারণ হলো জনগণের একটি অংশ লকডাউন তাদের মতো করে মানতে চায়। করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ইন্টারেস্ট গ্রুপের স্বার্থ ক্ষুণœ হতেই পারে। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে সরকারকে কঠোরভাবে মানানোর ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। ডা: ফয়সাল বলেন, করোনার এই বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য প্রচারণা জোরদার করতে হবে এবং তা হতে হবে জনগণকে সম্পৃক্ত করে। প্রচারণা এমনভাবে করতে হবে যাতে জনগণ মনে করে সরকার তাদের স্বার্থেই কাজটি করতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, লকডাউন হলো না তবে আরেকটি কাজ কঠোরভাবে পালন করতে সরকার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। সাথে সাথে কঠোরতাও দেখাতে পারে। তা হলো- ভিড় সৃষ্টি হয় এমন সব কিছুকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। জনগণকেও ভিড়ে না যেতে উৎসাহিত করতে পারে। মানসম্পন্ন মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। বাইরে বের হলে অবশ্যই মানুষ যেন মাস্ক ব্যবহার করে সে জন্য সরকার জোর প্রচারণার পাশাপাশি কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে পারে। কমিউনিটি লিডারদের (নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি যাদেরকে অন্যরা মানে) আহ্বান করতে পারে তারা যেন এলাকার মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং একই সাথে প্রশাসনকে মাঠে নামাতে পারে যারা মাস্ক ব্যবহার করে না বা করতে চান না তাদেরকে বাধ্য করতে। একই সাথে স্যানিটাইজার সুলভ করে দিতে হবে। কারণ সরকারতো সর্বত্র সাবান সরবরাহ করে পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে না। এটাও দেখতে হবে যেন সবাই মানসম্পন্ন স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন।
ডা: আবু জামিল ফয়সাল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং সুইডেনের উদাহরণ টেনে বলেন, এই দেশগুলোর সরকার তাদের দেশে লকডাউন ঘোষণা করেনি। এই দেশগুলো মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং ভিড়ে না যেতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে করোনা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। তারা যেখানে বেশি সংক্রমণ পেয়েছে সেখানে পরীক্ষার হার বাড়িয়ে দিয়েছে আক্রান্তদের শনাক্ত করার জন্য। এভাবে তারা যথাযথভাবে কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন করেছে মানুষকে।
ডা: ফয়সাল বলেন, আমাদের সরকার টিকা দেয়া শুরু করেছে। অনেক দেশের আগে সরকার টিকা আনতে পেরেছে এটা সরকারের সাফল্য। কিন্তু টিকা দেয়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। ফলে টিকা দেয়ার শুরুতে অনেক নেতিবাচক প্রচারণা ছিল। অনেক শিক্ষিত মানুষ টিকার ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন এবং এ কারণে তাদের অনেকে টিকা নেননি। এই ক্ষেত্রে সরকার জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারলে এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা বা ধারণার জন্ম হতো না।
একই রকম মত পোষণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, এনজিওকর্মী, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সর্বত্র মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর পন্থা অবলম্বন করতে হবে। সরকারের উচিত গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে এবং করোনার প্রকৃত ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। প্রয়োজনে কমিউনিকেশন এক্সপার্টদের (যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ) কাজে লাগিয়ে কার্যকর প্রচারণা চালাতে হবে।



আরো সংবাদ


লক খোলা লকডাউন, রোববার নতুন নির্দেশনা (১৫৪৬৩)র‌্যাবের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করলো পুলিশ (১৪৫৪৯)১৪ এপ্রিল থেকে জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী (১২০৮১)ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করুন : বাবুনগরী (৮৫১১)১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের চিন্তা সরকারের : কাদের (৮৩৮২)এবার টার্গেট জ্ঞানবাপী মসজিদ! (৭১৪৪)আপনি যে পতনের দ্বারপ্রান্তে তা বুঝবেন কিভাবে? (৫৪২১)মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বন্দুক নিয়ে লড়ছেন বিক্ষোভকারীরা (৪৫৯৮)হিমছড়িতে ভেসে এলো বিশাল তিমি (৪৪৫৭)বিজেপির নির্বাচনী গানে বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ছবি (৪২৪৬)