১৮ এপ্রিল ২০২১
`

মিয়ানমারে ধর্মঘটের ডাক ট্রেড ইউনিয়নগুলোর

-

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ আরো জোরালো হচ্ছে। এ দিকে সেনাশাসকদের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে গতকাল সোমবার ধর্মঘট ডেকেছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড ইউনিয়নগুলো। ধর্মঘটের ফলে বন্ধ রয়েছে বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের দোকানপাট, কলকারখানা। নির্মাণ, কৃষি ও পণ্য উৎপাদনসহ অন্তত নয়টি খাতের ট্রেড ইউনিয়ন সোমবারের ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে। রয়টার্স, আলজাজিরা ও বিবিসি।
তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী জনগণের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে। তাই গণতন্ত্রের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। এই মুহূর্তে ব্যবসা ও অর্থনীতি সচল রাখার অর্থ হচ্ছে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা।
এ দিকে গতকালও পুলিশের গুলিতে আরো দু’জন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই দুই বিক্ষোভকারীর মাথায় গুলি লেগেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবারও দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে গুলিবর্ষণ করেছে সেনারা। বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে জায়গায় জায়গায় গাড়ি থামিয়ে চেক করে সেনারা। ইয়াঙ্গুন ছাড়াও মান্দালয় ও মনিওয়ার মতো শহরগুলোতেও সমবেত হয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তাদের অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে উত্তরাঞ্চলীয় মিতকিনা শহরে দু’জনের লাশ রাস্তায় পড়ে আছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস এবং গুলি ছুড়েছে পুলিশ। সে সময় বেশ কয়েকজন পুলিশের গুলিতে হতাহত হয়েছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, তিনি এবং আরো বেশ কয়েকজন রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীদের লাশ সরিয়েছেন। তিনি জানান, দু’জনকে মাথায় গুলি করা হয় এবং তারা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এ ছাড়া পুলিশের গুলিতে আরো তিনজন আহত হয়েছেন।
২০ বছর বয়সী ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘বেসামরিক লোকজনকে গুলি করে হত্যা করা কতটা অমানবিক! শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার আমাদের আছে।’ দক্ষিণের উপকূলীয় শহর দাউইয়ের বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা দেয় কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের সদস্যরা। জাতিগত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী বর্মি সামরিক বাহিনীর সাথে দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধ চালিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে। গত মাসের ১ তারিখে বেসামরিক সরকারকে সরিয়ে দেশের ক্ষমতা দখল করে নেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তার কয়েক দিন পর থেকেই সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামে দেশটির বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এ দিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সামরিক সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে দেশটিতে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইয়াঙ্গুনের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, শহরের সামান্য কিছু চায়ের দোকান খোলা আছে। বড় বড় শপিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন কারখানায় কোনো কাজ হচ্ছে না। সোমবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আগের দিন ৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে।
মিয়ানমারের সাথে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন অস্ট্রেলিয়ার : মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে অস্ট্রেলিয়া। গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ক্যানবেরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সহনশীলতা প্রদর্শন করতে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর প্রতি আমরা জোরালোভাবে অনুরোধ করছি। একই সাথে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো থেকে বিরত থাকতেও দেশটির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’
অস্ট্রেলিয়ার সাথে মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক মূলত এত দিন অসামরিক পর্যায়েই আটকে ছিল। ২০১৭ সালে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর পর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অস্ট্রেলিয়া শুধু ইংরেজি ভাষা শিখতে প্রশিক্ষণ দিতো। লন্ডনভিত্তিক সংগঠন বার্মা ক্যাম্পেইনের নির্বাহী পরিচালক অ্যানা রবার্টস বলছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া অবশেষে চূড়ান্তভাবে (মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা শুরু করাই উচিত হয়নি।’
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আরো ১২টি দেশ বার্মিজ সামরিক বাহিনীর সাথে প্রশিক্ষণসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেয়া অব্যাহত রেখেছে। বার্মিজ সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া দেশগুলো জান্তা সরকারের পক্ষ নিয়েছে। তারা প্রকারান্তরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা বিক্ষোভকারীদের বুকেই গুলি চালাচ্ছে।’ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সামরিক সহযোগিতা দেয়া ওই ১২টি দেশের মধ্যে চীন, ভারত, পাকিস্তান ও ইউক্রেনও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।



আরো সংবাদ