১৮ এপ্রিল ২০২১
`

আ’লীগের কোম্পানীগঞ্জ সভাপতিকে কাদের মির্জা সমর্থকদের মারধর

-

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার উপস্থিতিতে তার সমর্থিতরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে (৭০) বেধড়ক মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের রুপালি চত্বরের উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
খিজির হায়াত খান অভিযোগ করেন, বিকেল ৫টার দিকে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পাশের একটি কক্ষে নতুন করে কার্যালয় করার জন্য সংস্কারের জন্য মিস্ত্রি নিয়ে তিনি ওই স্থানে ছিলেন, ওই সময় মেয়র কাদের মির্জার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী অফিসে এসে এখানে অফিস করা যাবে না বলে বাধা দিয়ে প্রথমে কলার ধরে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে কাদের মির্জার সাথে থাকা তার শতাধিক সমর্থক কলার ধরে রাস্তার নিয়ে এসে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় কাদের মির্জা আমাকে ধরে রাখেন। আমি থানা পুলিশকে জানালেও তারা আমাকে কোনো সহযোগিতা করেনি।
এ দিকে এ ঘটনার পরপর বসুরহাট বাজারে কাদের মির্জা সমর্থকরা মিছিল বের করে। পরে তারা পৌরসভা ভবনের সামনে অবস্থান নেন। উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারো সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কথা বলতে আবদুল কাদের মির্জার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি নিজে ফোন ধরেননি। অন্য এক ব্যক্তি ধরে বলেন কাদের মির্জা কোনো হামলা করেননি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনির সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে উপজেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান ও সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করেন আবদুল কাদের মির্জা। এ বিষয়ে খিজির হায়াত খান ও নুর নবী চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, কাদের মির্জা উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। তিনি এ ধরনের সভা আহ্বান করতে পারেন না। তার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবৈধ। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিলে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার জের ধরে কাদের মির্জা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে থাকা চেয়ার টেবিলসহ আসবাবপত্র নিয়ে পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে যান।

 



আরো সংবাদ