১৯ এপ্রিল ২০২১
`

সরকারের পেছনে ভয়ঙ্কর একটি শক্তি কাজ করছে : ফখরুল

বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত -

সরকারের পেছনে ‘ভয়ঙ্কর একটি শক্তি’ অবস্থান নিয়ে ভিন্নমতের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, কার্টুনিস্ট কিশোর জেল থেকে বেরিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেই বিবৃতিতে বুঝা যায় যে, ভয়ঙ্কর একটা শক্তি পেছনে থেকে, এই সরকারের আড়ালে থেকে কাজ করছে। যারাই রাষ্ট্র প্রধানের বিরোধিতা করছে, যারাই সরকার প্রধানের বিরোধিতা করছে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য অমানবিক নির্যাতন করছে।
তিনি বলেন, মুশতাক আহমেদ শুধুমাত্র লেখার অপরাধে আর কিশোর শুধুমাত্র কার্টুন আঁকার অপরাধে নির্মম অত্যাচার করে ছয় মাস আটক করে রাখা হয়েছে। গতকালই একজন মহিলা এসেছিলেন আমার কাছে। তার স্বামী রিটায়ার্ড মেজর মোরসালীন। এক বছর ধরে এই মোরসালীন আটক আছেন জেলের মধ্যে। তার কোনো খবর বাইরে দিতে চায় না। কারণ একটাই তিনি (মোরসালীন) লিখতেন, তার লেখার কারণে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। এভাবে কত মানুষকে, শিশুকে সাত বছরের শিশু, কত বয়োজ্যেষ্ঠদের তুলে নিয়ে গেছে, জেলে নিয়ে গেছে শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করার অপরাধে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে স্বাধীনতার চেতনা সম্পূর্ণ ভূলণ্ঠিত, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করেছে, এই রাষ্ট্রকে একটা দলীয়করণের রাষ্ট্র, একটা অকার্যকর রাষ্ট্র, একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আজকে বাংলাদেশকে এরা একেবারে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের আত্মাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, সোল অব বাংলাদেশ, গণতন্ত্র যেটা আমাদের আত্মা সেই আত্মাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা শুধু নিজেদের ক্ষমতা, দাম্ভিকতা, আত্মভরিতা আর দুর্নীতির বৃত্ত তৈরি করার জন্য তারা গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, আমরা যারা একাত্তর সালে যুদ্ধ করেছিলাম আমাদের এখন প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হয়- এ জন্য কি আমরা দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম। কেন আমার সন্তান সে একটা সুস্থ পরিবেশে মানুষ হতে পারবে না, আমার ভাই সে একটা সত্য কথা উচ্চারণ করতে পারবে না, আমার বোন সে নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না, আমার মা সে তার সন্তানকে একটু ভালোভাবে দেখতে পর্যন্ত পারবে না, আমাদের যে নতুন শিশু আসছে সেই শিশু কোন জগতে বাস করবে, কোন জনপদে বাস করবে যেখানে শুধু হত্যা-হিংসা-ভয়াবহতা।
তিনি বলেন, এই দেশে বারে বারে এ ধরনের স্বৈরাচার এসেছে, এ দেশে বারবার যেমন মগ-দস্যুরা, বর্গীরা এসেছে, পশ্চিম থেকে ব্রিটিশরা এসেছে দখল করে নিয়েছে, তেমনি এ দেশেরই তরুণ দামালেরা, যুবকরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনে অস্ত্র নিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে। ১৯৭১ সালে সেই অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের তরুণেরা, দামাল ছেলেরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করেছে। সেই কথা মনে রেখে আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হবে।
ফখরুল বলেন, আজকে যদি আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই, আমরা যদি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি শুধুমাত্র গণতন্ত্রের জন্য কারাবন্দী হয়ে আছেন তাকে বের করে আনতে চাই, আমাদের নেতা তারেক রহমান যাকে সামনে রেখে আমরা পথ এগোতে চাচ্ছি তাকে যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই, আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করাতে চাই, প্রতিদিন আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে তাদের যদি জেল থেকে মুক্ত করতে চাই- অবশ্যই আমাদের তরুণদেরকে, যুবকদেরকে তাদেরকই সামনে আসতে হবে। সব সময় তরুণরা সব কিছু পাল্টিয়ে দিয়েছে, পরিবর্তন এনেছে।
তিনি বলেন, আমাদের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট দানবকে পরাজিত করি। আমাদের বাংলাদেশকে তারা লুটে নিয়ে যাচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনি।
সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তর ছাত্র ফোরামের যৌথ উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৪তম কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলালের সভাপতিত্বে ও বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



আরো সংবাদ