১০ এপ্রিল ২০২১
`
রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চান বিশিষ্ট আইনজীবীরা

-

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহারেই অপব্যবহার হচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্ট আইনজীবীরা। তাদের মতে, এই আইন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনটি এমনভাবে তৈরিই করা হয়েছে যে এখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনটির বেশির ভাগ ধারা অজামিনযোগ্য। ফলে আসামি আইনি লড়াইয়ের স্বাভাবিক সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করেন তারা। আইনজীবীদের মতে, এই আইনের প্রায় সব ধারাই নিবর্তনমূলক। এই আইনে মানুষের শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়নি, সাংবিধানিক অধিকারও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তাই এ আইনের বিশেষ কিছু ধারা বাতিল বা সংশোধন নয়, পুরো আইনই বাতিল করা উচিত।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এই আইনটিই একটি নিবর্তনমূলক আইন। সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী সবাই বলেছেন এটা নিবর্তনমূলক এবং এই আইনের দ্বারা হয়রানি করা হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই আমি বলব, এই আইন সংশোধন নয়, পরোপুরি বাতিল করা উচিত।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দু’টি দিক আছে। প্রথম বিষয়টা হলো কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট অপরাধ সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের আইন দরকার। কম্পিউটার হ্যাকিং, ডাটা চুরি প্রতিরোধে আইন দরকার। কারণ এ বিষয়ে আইন ছিল না। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে সেই আইনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া সংক্রান্ত ধারা থাকতে পারে না। তা হলে সেই আইনের অপপ্রয়োগ বা অপব্যবহার হতে বাধ্য। তিনি বলেন, কম্পিউটার সংক্রান্ত সাইবার অপরাধের জন্য এই আইন। কিন্তু ভাবমূর্তি হানি করা বা ক্ষুণ্ন করা বা অপমান করার জন্য কোথাও আইন নেই। দুনিয়ার কোনো গণতান্ত্রিক দেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কারণে অপরাধ- এটা নেই। এটা গণতান্ত্রিক পৃথিবীতে নেই। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৯ ও ৩০ এই পাঁচটি ধারা অবিলম্বে বিলোপ করতে হবে।
ড. শাহদীন মালিক আরো বলেন, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাটা ক্রিমিনাল লতে নেই। ১৮৫০ সালের আগে এই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বিষয় ছিল। এর একমাত্র উদ্দেশ্য মতপ্রকাশ বা বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা। ইজ্জত যাওয়ার ধারাগুলো আইনে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, কম্পিউটার হ্যাকিং, কম্পিউটারের ডিভাইস হ্যাক করা ডাটা চুরি সংক্রান্ত যেসব অপরাধ ওইগুলো আইনে ছিল না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এ জন্য দরকার।
এ বিষয়ে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পারপাস ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োগ দেখে মনে হচ্ছে এটা একটা নিবর্তনমূলক আইন। আজ পর্যন্ত এই আইনের একটা প্রয়োগ দেখানো যাবে না যে রাজনৈতিক প্রয়োগ নেই। এই আইনে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার শুধু খর্ব করা হয়নি, সাংবিধানিক অধিকারও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এই আইন পুরোপুরি বাতিল করা উচিত। তিনি বলেন, আমাদের সাইবার অপরাধ দমনের জন্য কিছু আইন দরকার কিন্তু সে ক্ষেত্রে এই আইনের প্রয়োগ দেখে এটা স্পষ্ট যে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে যারা ভিন্নমত পোষণ করছেন তাদের দমন করা হচ্ছে।
এটি একটি ড্রকুনিয়ন ল’ বা কালো আইন। এই আইনের পরিবর্তন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এই আইন সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে হবে। তিনি লেখক মুশতাক আহমেদ ও ছাত্রদল নেতা বাবরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তারা কী অপরাধ করেছে? তাদের দিনের পর দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। আর লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারে থেকে অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন।



আরো সংবাদ


লক খোলা লকডাউন, রোববার নতুন নির্দেশনা (১৫৪৬৩)র‌্যাবের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করলো পুলিশ (১৪৫৪৯)১৪ এপ্রিল থেকে জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী (১২০৮১)ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করুন : বাবুনগরী (৮৫১১)১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের চিন্তা সরকারের : কাদের (৮৩৮২)এবার টার্গেট জ্ঞানবাপী মসজিদ! (৭১৪৪)আপনি যে পতনের দ্বারপ্রান্তে তা বুঝবেন কিভাবে? (৫৪২১)মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বন্দুক নিয়ে লড়ছেন বিক্ষোভকারীরা (৪৫৯৮)হিমছড়িতে ভেসে এলো বিশাল তিমি (৪৪৫৭)বিজেপির নির্বাচনী গানে বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ছবি (৪২৪৬)