১৯ এপ্রিল ২০২১
`

শাহবাগে গ্রেফতার ৭ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলা

কাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা
-

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে গত শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভের সময় আটক সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শাহবাগ থানার এসআই মো: মিন্টু মিয়া বাদি হয়ে এই মামলা করেন।
এ দিকে কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যু, পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদ, মামলা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গতকাল শনিবারও শাহবাগে বিক্ষোভ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। বিক্ষোভ সমাবেশে আগামীকাল ১ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় শাহবাগ থানায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন পুলিশ। অপর দিকে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে একদিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। অপর দিকে তাদের জামিন শুনানির জন্য ৩ মার্চ দিন ধার্য করেন আদালত। গ্রেফতার হওয়া এই সাতজন হলেনÑ নারায়ণগঞ্জের তামজিদ হায়দার, কিশোরগঞ্জের নজির আমিন চৌধুরী জয়, নোয়াখালীর এ এস এম তানজিমুর রহমান, মেহেরপুরের মো: আকিব আহম্মেদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র), বরিশালের মো: আরাফাত সাদ, লক্ষ্মীপুরের নাজিফা জান্নাত ও পটুয়াখালীর জয়তী চক্রবর্তী।
মামলার এজহারে বলা হয়েছে, আসামিরা বেআইনি জনতাবদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেলসহ পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান করত হত্যার উদ্দেশে আক্রমণ করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। মিছিলকারীরা মশাল দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশালমিছিল করার সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ওই সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নয় মাস আগে গ্রেফতার হওয়া মুশতাক আহমেদ বন্দী অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান। এ ঘটনায় লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে জাতীয় জাদুঘর, প্রেস ক্লাব এলাকা এবং শাহবাগে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশালমিছিল বের করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং সাতজনকে গ্রেফতার করে। মামলার এজাহারে পুলিশের একজন সদস্যের বুলেটপ্রুফ পোশাকে আগুন ধরে যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শকসহ ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলেও জানানো হয়েছে।
ওই দিন বামধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা টিএসসি থেকে মশাল মিছিল নিয়ে শাহবাগে এলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় তাদের ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
পুলিশের রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে একদল বিক্ষোভকারী টিএসসি থেকে মশাল মিছিল নিয়ে জাদুঘরের সামনে এলে আমরা তাদের ইউ টার্ন নিতে বলি। কিন্তু তারা মশালের লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদের একটা গ্রুপ বাম পাশ দিয়ে চলে যায়, আরেকটা গ্রুপ পেছনে ফিরে পুলিশের ওপর অসংখ্য ইটপাটকেল ছুড়ে। এতে আমাদের ১২-১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আহত বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি না তারা কিভাবে আহত হয়েছে। তারা যখন ইটপাটকেল মারছে, তখন পুলিশ চার-পাঁচটি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।
শাহবাগে অবরোধ : কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যু, পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গতকালও শাহবাগে বিক্ষোভ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। মিছিল নিয়ে এসে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে আধা ঘণ্টার মতো শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই মোড় দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
বেলা ১টার দিকে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টিএসসি অভিমুখে যাত্রা করেন তারা। আগামী ১ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক আল কাদেরী জয়।
আল কাদরী জয় বলেন, পুলিশের হামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা লেখক মুশতাকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। সাথে সাথে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনÑ যার মাধ্যমে লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে তার বিলুপ্তি দাবি করছি, এই আইন বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।



আরো সংবাদ