০৩ মার্চ ২০২১
`

বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়াল

-

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১০ কোটি তিন লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২১ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪ জনের। এই মহামারীর কবল থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন সাত কোটি ২৪ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৭ জন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।
বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটি ৫৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন চার লাখ ৩১ হাজার ৩৯২ জন আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি ৫৬ লাখ ১৭ হাজার ৩৬০ জন।
ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ছয় লাখ ৭৭ হাজার ৭১০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৬২৪ জন আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি তিন লাখ ৪৫ হাজার ২৭৮ জন।
করোনা সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। সেখানে করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুই লাখ ১৭ হাজার ৭১২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৭ লাখ ৯ হাজার ৬০২ জন।
তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ, যুক্তরাজ্য পঞ্চম, ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম ও জার্মানি রয়েছে দশম অবস্থানে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। এ ছাড়া, ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ হাজার ১৯৭ জন। এর মধ্যে চার হাজার ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় গত বছরের বছরের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে এই মহামারী ছড়িয়ে পড়ে।
করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। এরপর গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সৃষ্ট কোভিড-১৯-কে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
টিকা রফতানিতে কঠোর হতে পারে ইইউ : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সতর্ক করে বলেছে, তারা করোনাভাইরাস টিকা রফতানির বিধি কঠোর করতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যে পরিমাণ টিকা ২৭-সদস্য দেশের ব্লকটিতে (ইইউ) সরবরাহ করার কথা, তাতে কাটছাঁট করা নিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সাথে বিরোধের জেরে ইইউ এমন মনোভাব প্রকাশ করেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। ব্লকটির স্বাস্থ্য কমিশনার স্টেলা কেরিয়াকিডিস জানিয়েছেন, ‘নিজের নাগরিকদের সুরক্ষার প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নেবে ইইউ।’ গত সপ্তাহে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ইইউকে জানিয়েছে, উৎপাদন সমস্যার জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করতে পারছে না তারা। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ হয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে ওই ক্রয়াদেশ দিয়েছিল ইইউ, কিন্তু টিকা বিতরণে ধীরগতির জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছে তারা। ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা সরবরাহেও ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ইইউয়ের কিছু সদস্য দেশে টিকাদান কর্মসূচির গতি কমে গেছে, এই কারণে কিছু দেশ আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুমকিও দিয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে যুক্তরাজ্যে ফাইজার-বায়োএনটেকের উৎপাদিত টিকার সরবরাহ বিঘিœত হতে পারে। ফাইজার যুক্তরাষ্ট্রের ও বায়োএনটেক জার্মানির কোম্পানি। ফাইজারের বেলজিয়াম প্ল্যান্ট যুক্তরাজ্যে টিকা সরবরাহ করছে।
জার্মান মিডিয়ার সংবাদ প্রত্যাখ্যান অ্যাস্ট্রাজেনেকার : অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে জার্মান সংবাদমাধ্যম হ্যান্ডলসব্যাট ও বিল্ডের করা সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকা। সম্প্রতি জার্মান পত্রিকা দু’টির অনলাইন সংস্করণ প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা ৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক লোকদের জন্য কার্যকর নয়। এই টিকা হলেও তা সর্বোচ্চ ৮ কিংবা ১০ শতাংশের নিচে কার্যকর হতে পারে। গত ৩০ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য সর্বপ্রথম অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার অনুমোদন দেয়। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা যৌথ উদ্যোগে এই টিকা তৈরি করেছে। করোনার এই টিকাকে সাধারণত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ মনে করা হচ্ছে। তবে হ্যান্ডলসব্যাট-এর রিপোর্ট বলেছে, বয়স্কদের মধ্যে এই ভ্যাকসিন ৮ শতাংশ কার্যকর। আর বিল্ডের রিপোর্ট জানাচ্ছে, তা ১০ শতাংশের কম কার্যকর। জার্মানির সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইউরোপের মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) সম্ভবত বয়স্কদের ওপর এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
জার্মান গণমাধ্যমের এমন প্রতিবেদন পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, প্রবীণদের মাঝে টিকার কার্যকারিতা বিষয়ে যে প্রতিবেদন করা হয়েছে তা ‘সম্পূর্ণ ভুল’। অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও রক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রবীণদের মাঝে প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা গেছে। এ কারণে যুক্তরাজ্যের যৌথ টিকাদান কর্মসূচির কমিটি প্রবীণদের মধ্যে এই টিকা প্রদান সমর্থনও করেছে।
ভারত থেকে ৩০ লাখ ডোজ টিকা কিনছে সৌদি আরব : ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ৩০ লাখ ডোজ এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রহণ করবে সৌদি আরব। সোমবার সেরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদর পুনাওয়ালা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন। খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরব প্রতি ডোজ টিকা ৫.২৫ ডলারে কিনছে সেরামের কাছ থেকে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার হয়ে সেরাম এই টিকা বিক্রি করছে। সৌদি আরবের কাছে বিক্রি করলেও ইউরোপে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন রফতানির আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই সেরামে। যদিও বেলজিয়ামে উৎপাদন ঘাটতির কারণে ইইউতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে চাপে রয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী সংস্থা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। দরিদ্র দেশগুলোতে ১০০ কোটি টিকা সরবরাহের জন্য গেটস ফাউন্ডেশন, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও গ্যাভি ভ্যাকসিনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সেরাম। ভারতীয় এই সংস্থা ব্রিটিশ-সুইডিশ প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে টিকা সরবরাহ করবে। এ ছাড়া নিজস্ব চুক্তিতেও টিকা সরবরাহের অধিকার রয়েছে তাদের।
করোনার নতুন ধরনের বিরুদ্ধেও মডার্নার টিকা কার্যকর : করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের বিরুদ্ধেও ফলপ্রসূ মডার্নার টিকা। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া করোনার ধরনের প্রতিরোধে কার্যকারিতা বাড়াতে নতুন একটি বুস্টার পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে এই ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। এর আগের পরীক্ষায় দেখা গেছে, নতুন ধরনের প্রতিরোধে অ্যান্টিবডির সাড়া কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানিটি বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া করোনার নতুন ধরনের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ শক্তির দুর্বল সাড়া পাওয়ায় অতিসতর্কতা থেকে তারা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফেন বানসেল বলেন, নতুন উপাত্তে আমরা উৎসাহিত হয়েছি। নতুন পাওয়া করোনার ধরনের বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ এর টিকা প্রতিরোধক হওয়া দরকার বলে আমাদের আত্মাবিশ্বাসকে জোরদার করেছে এসব তথ্য।



আরো সংবাদ