২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
`
ভ্যাকসিন প্রয়োগে কাউকে বল প্রয়োগ করা হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বুধবার শুরু হচ্ছে টিকা কার্যক্রম অ্যান্টিবডি টেস্টেরও অনুমোদন

-

কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) প্রতিরোধে আগামী বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ভ্যাকসিন (টিকা) কার্যক্রম। গত ২১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ভ্যাকসিন উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে সে দেশের সরকার। আজ সোমবার আরো ৫০ লাখ ভ্যাকসিন আসার কথা রয়েছে। করোনাভাইরাস পরীক্ষা বাড়ানো ও দ্রুত ফল পেতে এতদিন শুধু অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে অ্যান্টিবডি টেস্টের দাবি উঠলে সেটি আটকে ছিল। গতকাল শেষ পর্যন্ত এটির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা জানতে কিটের মাধ্যমে পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারিভাবেও অ্যান্টিবডি টেস্ট করা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রমসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২৭ জানুয়ারি (বুধবার) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরুর) আমাদের সময় দিয়েছেন। ভ্যাকসিন দেয়ার যে পরিকল্পনা সেটা উনি উদ্বোধন করবেন। ভ্যাকসিন দেয়ার কাজ শুরু হবে কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে। সেখানে কিছু লোককে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এর মধ্যে যারা নার্স, রোগীর একদম পাশে থাকেন, তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তাদেরকেই আমরা প্রথমে ভ্যাকসিন দেবো। পর্যায়ক্রমে আস্তে আস্তে সবাই পাবে।’ ভ্যাকসিন প্রয়োগে সরকার কাউকে বল প্রয়োগ করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারবেন। সামান্য পাশর্^ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে করোনার মতো জীবনঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা না নেয়ার কোনো কারণ নেই। জাহিদ মালেক বলেন, ভারতের দেয়া অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রেজেনেকা ভ্যাকসিন বিশে^র সবচেয়ে সহনশীল ও কার্যকর হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এই ভ্যাকসিন ভারত ও ইউকেতে পরীক্ষা শেষেই দেশে এসেছে। অন্যান্য ভ্যাকসিনের তুলনায় আমাদের দেশের আবহাওয়ায় এই ভ্যাকসিন সবচেয়ে বেশি মানানসই। তবে যেকোনো ভ্যাকসিন প্রয়োগে সামান্য পাশর্^ প্রতিক্রিয়া থাকতেই পারে। তা ছাড়া বর্তমানে সরকার দেশব্যাপী ৯ ধরনের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে। সেখানেও ছোটখাটো কিছু পাশর্^ প্রতিক্রিয়া থাকে। ভ্যাকসিন প্রয়োগে কোনো ধরনের পাশর্^ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তার জন্য স্বাস্থ্যখাতের টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভ্যাকসিন পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টেলিমেডিসিন সেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কিট দিয়ে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) অ্যান্টিবডি পরীক্ষার অনুমতি দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক দিনের দাবি ছিল অ্যান্টিবডি পরীক্ষার বিষয়টি। আমরা এখন থেকে অ্যান্টিবডি টেস্ট করার অনুমতি দিচ্ছি। এটা অনেকেরই দাবি ছিল। তিনি আরো বলেন, ২০ লাখ ভ্যাকসিন আমরা পেয়েছি। আগামীকাল (আজ সোমবার) আমাদের আরো ৫০ লাখ ভ্যাকসিন আসবে আশা করছি। এজন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনের পরবর্তী লট কবে নাগাদ আসতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০ লাখ ভ্যাকসিন ভারত সরকার উপহার হিসেবে ইতোমধ্যেই দিয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী আজ সোমবার আরো ৫০ লাখ ভ্যাকসিন দেশে আসবে। এই ৭০ লাখ ভ্যাকসিন দেশে রাখা ও বিতরণের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে।
কবে নাগাদ অ্যান্টিবডি পরীক্ষা হবে, কত সংখ্যক কিট আছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন আপনাদের সামনে বললাম অর্থাৎ এখন থেকেই অনুমোদন দেয়া হয়ে গেল। বাজারে কী পরিমাণ অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট আছে, এই পরিসংখ্যান আমি দিতে পারব না। যার প্রয়োজন হবে কিট নিয়ে আসবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই কিট আমদানি করতে পারবে। পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল এটা নিতে পারবে। এটার মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়নি।
ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য জাতীয় কমিটির প্রস্তুতি মোটামুটি শেষ হয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, জানতে পেরেছি একটা অ্যাপ তৈরি করার বিষয় ছিল, সেটাও একটা ফাইনাল স্টেজে চলে আসছে। তিনি আরো বলেন, ভ্যাকসিন কোন জেলায় কোন উপজেলায় নিয়ে যাবো, সেই পরিকল্পনাও করা হয়ে গেছে। ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার (সম্মুখসারির যোদ্ধা), যাদের আমরা প্রথমে ভ্যাকসিন দেবো তাদের তালিকাও আমাদের হাতে আছে।
জেলা-উপজেলা হাসপাতালে যারা ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য আসবেন তাদের আলাদা বসার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন, অবজারবেশনে থাকবেন। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি। আমরা ভ্যাকসিন দেয়ার কার্যক্রম বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী করছি। আজ সোমবার ৫০ লাখ ছাড়া এই মাসে ভ্যাকসিনের আর কোনো লট আসবে না জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটা হবে চুক্তির প্রথম ধাপের ভ্যাকসিন। সরকারি টিকা দেয়ার একটা পর্যায়ে বেসরকারি টিকা আনার অনুমোদন দেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদ বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আগে দেয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগে অবশ্যই বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মীদের দেয়ার কথা উল্লেখ আছে। এ কারণে প্রথম দফায় অনেক রাজনীতিবিদ ভ্যাকসিন নিতে ইচ্ছুক হলেও দেয়া যাচ্ছে না। তবে পর্যায়ক্রমে রাজনীতিবিদ, বয়স্ক ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: আবদুল মান্নান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো: আলী নূর উভয়ই উপস্থিত ছিলেন।



আরো সংবাদ