০৪ মার্চ ২০২১
`

সবার নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই মুজিববর্ষের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই হবে মুজিববর্ষের লক্ষ্য, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন-যাপন করতে পারে। দেশের ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে ঘর দিতে পারার চেয়ে বড় কোনো উৎসব আর কিছুই হতে পারে না।
শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে আরো বলেন, ‘এভাবেই মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সমগ্র বাংলাদেশের গৃহহীনদের নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করে দেয়া হবে, যাতে দেশের একটি লোকও গৃহহীন না থাকে।’ যাতে তারা উন্নত জীবন যাপন করতে পারে, আমরা সে ব্যবস্থা করে দেবো। যাদের থাকার ঘর নেই, ঠিকানা নেই আমরা তাদের যেভাবেই হোক একটা ঠিকানা করে দেবো।’ প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে অনুষ্ঠানে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয় এবং একই সাথে তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষের অনেক কর্মসূচি আমাদের ছিল। সেগুলো আমরা করোনার কারণে করতে পারিনি। তবে করোনা এক দিকে আশীর্বাদও হয়েছে; কারণ আমরা এই একটি কাজের দিকেই (গৃহহীনকে ঘর করে দেয়া) নজর দিতে পেরেছি। আজকে এটাই আমাদের সব চেয়ে বড় উৎসব। তিনি বলেন, আজকে আমি সবচেয়ে খুশি যে, এত অল্প সময়ে এতগুলো পরিবারকে আমরা একটা ঠিকানা দিতে পেরেছি। এই শীতের মধ্যে তারা ঘরে থাকতে পারবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্যও আমরা ভাসানচরে ঘর করে দিয়েছি। ’৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদেরকেও কক্সবাজার এবং পিরোজপুরে আমরা ফ্ল্যাট করে দিয়েছি অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদেরকেও ঘর করে দিয়েছি এবং সেখানে শিগগিরই আরো ১০০টি ভবন তৈরি করা হবে। এখন এক লাখ ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর করে দিলাম এবং শিগগিরই আরো এক লাখ ঘর আমরা করে দেবো।
অনুষ্ঠানে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা গ্রাম, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুর গ্রাম, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার উপকারভোগীদের সাথে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপকারভোগীদের মধ্যে বাড়ির চাবি এবং দলিল হস্তান্তর করেন। পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী এই স্বল্প সময়ে সফলভাবে গৃহনির্মাণ এবং কাগজপত্র তৈরির মতো জটিল কাজ ঠিকাদার নিয়োগ না দিয়ে সম্পন্ন করতে পারায় জেলা প্রশাসন এবং তার দফতর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত দ্রত সময়ে পৃথিবীর কোনো দেশে কোনো সময় কোনো সরকার একসাথে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর করে দিয়েছে কি না আমার জানা নেই। যেহেতু যারা প্রশাসনে রয়েছেন তারা সরাসরি ঘরগুলোর তৈরি করেছেন তাই সম্ভব হয়েছে এবং মানসম্মত হয়েছে, সে জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, এই গৃহায়ন প্রকল্পে কোনো শ্রেণী বাদ যাচ্ছে না, বেদে শ্রেণীকেও আমরা ঘর করে দিয়েছি। হিজড়াদের স্বীকৃতি দিয়েছি এবং তাদেরকেও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দলিত বা হরিজন শ্রেণীর জন্য উচ্চমানের ফ্ল্যাট তৈরি করে দিচ্ছি। চা-শ্রমিকদের জন্য করে দিয়েছি এভাবে প্রত্যেকটা শ্রেণীর মানুষের পনর্বাসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এ দিন ভিক্ষুক, ছিন্নমূল এবং বিধবাসহ ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়। সরকার মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য এক হাজার ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি নির্মাণ করেছে। একই সাথে তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন আশ্রয়ণ প্রকল্প মুজিববর্ষ উদযাপনকালে ২১টি জেলায় ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্পের অধীনে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণ করে তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করছে। ইতোমধ্যে সারা দেশের আট লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তালিকা অনুযায়ী গৃহ নির্মাণ ও পরিবার পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলবে।
উপকারভোগী প্রতিটি পরিবারকে দুই শতক জমির রেজিস্ট্রার্ড মালিকানা দলিল হস্তান্তরসহ নতুন খতিয়ান এবং সনদ হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি জমি এবং বাড়ির মালিকানা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি দুই রুমের সেমি পাকা টিনশেড বাড়িতে রান্নাঘর, টয়লেট, বারান্দাসহ বিদ্যুৎ ও পানির নাগরিক সুবিধা রয়েছে। গ্রোথ সেন্টারের পাশে হওয়ায় প্রকল্প এলাকায় পাকা রাস্তা, স্কুল, মসজিদ-মাদরাসা এবং বাজার রয়েছে।
বাড়ি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু প্রার্থনা গৃহহীনদের : মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে বাড়ি পেয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিরা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে নিজস্ব ঠিকানা ও আশ্রয় পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলার সময় খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা গ্রামের পারভীন বলেন, ‘আমার স্বামীর কোনো কাজ নাই। আমাদের প্রায়ই না খেয়ে দিন কাটাতে হয়। আমাদের কোনো বাড়ি ছিল না। কখনো ভাবিনি আমাদের একটা বাড়ি হবে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের একটি ঘর ও জমি দিয়েছেন। আপনি অনেকদিন বেঁচে থাকবেন।’
সৈয়দপুর উপজেলার নিজবাড়ি গ্রামের একজন সুবিধাভোগী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তার জমি ও বাড়ি ছিল না। ‘কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে আমাকে জমি, বাড়ি, সবকিছু দিয়েছে। আমি আনন্দে অভিভূত।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করি, আপনি (শেখ হাসিনা) দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন যাপন করুন।’
সুবিধাভোগীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য লেখা একটি ভাওয়াইয়া গান গেয়ে শোনান। এ ছাড়া সিএনজিচালিত তিন চাকার গাড়ি চালক চুনারুঘাট উপজেলার ইকারতলী গ্রামের সুবিধাভোগী মো: নুরুল হুদা বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে জমিসহ একটি বাড়ি দিয়েছেন, যা আমাকে আমার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সুখে জীবন কাটানোর সুযোগ করে দেবে।’ নুরুল হুদা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যাতে তিনি আগামী দিনে দরিদ্র, গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষদের আরো সাহায্য করতে পারেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শারীরিক প্রতিবন্ধী ফাতেমা বেগম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ‘আমার কোনো ঠিকানা ছিল না। কিন্তু এখন আপনার উপহার (বাড়ি ও জমি) আমাকে একটি ঠিকানা দিয়েছে, যেখানে আমি আমার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সুখে জীবন কাটাতে পারব।’

 



আরো সংবাদ


ফরিদপুরে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের চেক বিতরণ করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিয়ে নিবন্ধন ডিজিটাল করতে রাকিবের রিট গোয়েন্দা নজরদারিতে জার্মান উগ্রপন্থী এএফডি পার্টি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা আংশিকভাবে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য : ইব্রাহিম জিডিপি বাড়লেও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক আছে : তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে বাধা, দুই এসআই প্রত্যাহার প্রথম দিন চলল স্পিনারদের দাপট ‘এইচ টি ইমামের মতো কর্মনিষ্ঠ মানুষ সমাজে বিরল’ বাংলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে একক বক্তৃতানুষ্ঠান

সকল