০৬ মার্চ ২০২১
`
মামলা দায়ের

বগুড়ায় অন্যের জমি দখল করে সরকারি প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ

-

মুজিব শতবর্ষে গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে বগুড়ায় অন্যের জমি দখলের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বীর আমির হামজা সদরের শেখেরকোলা গ্রামের আবুল হোসেন এবং সাইফুল ইসলামের পৈতৃক জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণ করছেন এমন অভিযোগে জমির মালিক দুই ভাই বাদি হয়ে বগুড়ার আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় বিবাদি করা হয়েছে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, সদর এসিল্যান্ড বীর আমির হামজা এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিককে। আদালত উভয় পক্ষকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের সেই নির্দেশকে অমান্য করে ইউএনও ও এসিল্যান্ড পুলিশের সহযোগিতায় ঘর নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জমির মূল মালিক দাবিদার আবুল হোসেন ও সাইফুল ইসলাম জানান, আইনের লোক হয়ে ইউএনও ও এসিল্যান্ড কিভাবে আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সেটি তাদের বোধগম্য নয়। তারা আরো বলেন, জমিটি আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। দীর্ঘ ১০০-১৫০ বছর ধরে আমরা এই জমিগুলো ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ করে ইউএনও-এসিল্যান্ড এসে এই জমি খাস খতিয়ানের দাবি করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। আমরা কাগজপত্র দেখাতে চাইলে ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাগজ দেখার প্রয়োজন নেই। আদালতে গিয়ে দেখান। তখন আমরা উপায় না পেয়ে আদালতে মামলা করি। আদালত আমাদের কাগজপত্র দেখে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরে কিছু দিন কাজ বন্ধ রাখেন তারা। কিছু দিন পর তারা ওই জমিতে পুলিশ নিয়ে এসে আবার কাজ শুরু করেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারিকৃত জমিতে সরকারি প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করার কোনো বৈধতা আছে কি না জানতে চাইলে বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন ওই জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে সেটি জানি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানি না। অথচ আদালত নিষেধাজ্ঞার নোটিশ চার বিবাদির কাছেই পাঠিয়েছে।
সদরের এসিল্যান্ড বীর আমির হামজা বলেছেন, ওই জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের। দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ সেটি ভোগদখল করে আসছিল। পরে তারা আদালতে মামলা করে। আদালতের বিচারক আমাদের শুনানির সুযোগ না দিয়েই স্ট্যাটাসকো দিয়েছেন। পরে আমরা শুনানি করলে আদালত দখলবিষয়ক স্থিতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু এখন আমাদের দখলে আছে তাই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
তবে আদালতের আদেশ কপিতে স্পষ্ট লেখা আছে ‘এতদ্বারা অত্র মোকাদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়াকালতক উভয়পক্ষদ্বয়কে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করা হলো’। আদালতের এই নোটিশ জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসিল্যান্ড এবং উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।
বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোলায়মান আলী বলেন, আদালতের আদেশ হচ্ছে উভয়পক্ষ ওই জমিতে যেতে পারবে না। এসিল্যান্ডের বক্তব্য সঠিক নয়। তারা আদালতের আদেশ ভঙ্গ করেছেন। আমার বাদি আদালতে এ সংক্রান্ত একটি ভায়োলেশন মামলা করেছেন। বিষয়টি সরেজমিন দেখতে গত শুক্রবার বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের নুরইল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফসলি ওই জমিতে প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। চারদিকেই ফসলি জমি। ওই জমিতেও কিছু দিন আগে মুলা চাষ হয়েছে। ঘরের কাজ না হলে এখন আলু চাষ হতো ওই জমিতে। চার পাশের সব জমিতে আলুর গাছ দেখা যাচ্ছে
ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সোবহান, রফিক, আব্দুল লতিফসহ বেশ কিছু বয়স্ক মানুষ বলেন, আমরা সাক্ষী। ওই জমি ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে আবুল হোসেনের বাপ-দাদারা ভোগদখল করে আসছে। হঠাৎ সরকারের লোকজন কোনো কথা না শুনেই জোর করে ঘর নির্মাণ করছে। এর আগে সদরের দশটিকা এলাকার প্রকল্পের অনিয়মের সচিত্র সংবাদ সংগ্রহের জন্য দুই সাংবাদিক গেলে সেখানে শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা তাদের পিটিয়ে আহত করে। ওই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে প্রধান অসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

 



আরো সংবাদ


ইনিংস ব্যবধানে হার ইংল্যান্ডের, সিরিজ ভারতের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু ঢাকা ম্যারাথন অনুষ্ঠিত স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সুন্নাতে খাৎনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যসমূহ হারাতে বসেছি : গোলাম পরওয়ার স্বর্ণের দাম আবারো কমেছে গণতন্ত্র ফিরে এলে গণতন্ত্রের প্রশাসনের প্রশাসকরা গর্বিত হবেন : গয়েশ্বর মনোহরদীতে ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজি আরোহী ২ জন নিহত, আহত ৩ আফগানিস্তানে পৃথক বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৪ বিক্ষোভের শততম দিনে কৃষকদের দিল্লি প্রবেশের রাস্তায় অবরোধ জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল বিষয়ে যা বললেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরো ১০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৫৪০

সকল