২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
`
বাংলাদেশে কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালাতে চায় ভারত

করোনার ৩ কোটি টিকা সরাসরি ক্রয় করা হবে

-

সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তিন কোটি করোনা ভ্যাকসিন (টিকা) কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ২৭১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতির দায়িত্বপালনকারী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সবার আগে ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। করোনার ভ্যাকসিন নেবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি নেবো, অবশ্যই নেবো। আমি সবার আগেই নেবো। আমার তো ভ্যাকসিন দরকার, আমার বয়স হয়েছে। আপনার (সাংবাদিক) লাগবে না। আমি বয়স্ক, আমার লাগবে।’
সরকার যে ভ্যাকসিন আনছে সেটাই নেবেন কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যেটা আনছে সেটাই নেবো। যেখান থেকে আগে আসে। সব তো একই ভ্যাকসিন। একই কোম্পানির ভ্যাকসিন। ম্যানুফ্যাকচারার যদি বলে একই ভ্যাকসিন তাহলে একই ভ্যাকসিন। এ পর্যন্ত আমরা দ্বিতীয় সোর্স থেকে ভ্যাকসিন আনছি বলে তথ্য পাইনি।
ভ্যাকসিন আসাটা ভালো উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেকেরই বয়স বেশি। ভ্যাকসিন সবার প্রয়োজন। ভ্যাকসিন নিলে আমরা আরো ভালো ফিল করব। কাজ করতে সুবিধা হবে। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে আমাদের প্রচেষ্টা আরো সহজ হবে।
এ দিকে, দ্রুততম সময়ে টিকা প্রদানের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে প্রাথমিকভাবে তিন কোটি ডোজ কেনা হবে। প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন চার ডলার এবং এর সাথে টিকা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস’কে প্রতি ডোজ সেবামূল্য বাবদ এক ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ এক ডোজ ভ্যাকসিনের মোট দাম পড়বে পাঁচ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় ৪২৩ টাকা ৮৫ পয়সা। তিন কোটি ভ্যাকসিন কিনতে ট্যাক্স-ভ্যাটসহ ব্যয় হবে ১৫ কোটি ডলার বা এক হাজার ২৭১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে করোনা ভ্যাকসিন ক্রয় করা সময়সাপেক্ষ। করোনা ভ্যাকসিন প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, গুণগতমান, কার্যকারিতা ও সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে ভ্যাকসিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রোজেনেকা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি ভ্যাকসিনের প্যাটেন্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি টিকা তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে।
জানা যায়, ভ্যাকসিন ক্রয়ের লক্ষ্যে গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। চুক্তির আওতায় ভ্যাকসিনের মূল্য বাবদ প্রথম কিস্তিতে অগ্রিম হিসাবে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াকে ইতোমধ্যে ছয় কোটি ডলার (৫০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা) দেয়া হয়েছে। চুক্তি মোতাবেক দ্বিতীয় কিস্তির অগ্রিম হিসাবে আরো ছয় কোটি ডলার চেয়ে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট।
জানা যায়, সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে তিন কোটি ভ্যাকসিন ক্রয়ের লক্ষ্যে গত বছর ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কাছে ভ্যাকসিন ক্রয় ও আনুষঙ্গিক উপকরণ ব্যয়সহ এক হাজার ৫৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চায় স্বাস্থ্য বিভাগ। এর বিপরীতে অর্থ বিভাগ থেকে দুই দফায় (গত বছর ১৬ নভেম্বর ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গত ১৩ জানুয়ারি ৭১৯ কোটি ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা) মোট এক হাজার ৪৫৫ কোটি ৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এ দিকে, করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়সহ আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে দুই হাজার ৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। গতকাল ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র ভার্চুয়াল সভায় এ প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বৈঠকে ইউরিয়া সার ক্রয়ের তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে দু’টি লটে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার দু’টি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। দুই প্রস্তাবে ব্যয় হবে ১৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে ১২তম লটে (শেষ লট) ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক প্রিল্ড (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৬ কোটি এক লাখ টাকা।
অর্থমন্ত্রী জানান, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সালেহপুর ও নয়ারহাটে তিনটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউপি-০১-এর পূর্তকাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যৌথভাবে এ কাজটি করবেÑ ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’, এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ ও ‘রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ২৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন কর্তৃক তিনটি আধুনিক অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ভেসেল ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো নির্মাণ ও সরবরাহ করবে ‘থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ১৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন’ কর্তৃক আটটি সমুদ্র উপকূলীয় ট্রাক ক্রয়ের আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যৌথভাবে এগুলো সরবরাহ করবেÑ ‘আনন্দ শিপইয়ার্ড’ ও ‘থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ১৩২ কোটি এক লাখ টাকা। অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ২০তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের পূর্তকাজের ঠিকাদার নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এ কাজটি করবে পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। এতে ব্যয় হবে ৮০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
বাংলাদেশে কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালাতে চায় ভারত
রয়টার্স জানায়, ভারতে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া কোভ্যাকসিন টিকার পরীক্ষা বাংলাদেশে পরিচালনার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে এর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন সরকার পরিচালিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক মাহমুদ-উজ-জামান। তিনি জানান, ভারত বায়োটেকের আবেদনটি খতিয়ে দেখবে কাউন্সিলের এথিকস কমিটি। তবে এর বেশি জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউন।
এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনো টিকা পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ। এ দিকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের সহায়তার ভারত বায়োটেকের উদ্ভাবিত টিকা কোভ্যাকসিন এই মাসে ভারতে জরুরি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। তবে টিকাটি এখনো ব্যাপক পরিমাণ পরীক্ষায় কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারেনি। তবে প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে, টিকাটি নিরাপদ এবং মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম।
ভারত বায়োটেকের হয়ে বাংলাদেশে কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজেস রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। তবে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি এবং ভারত বায়োটেক। এর আগে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক বায়োটেকের করোনা টিকার চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশের সাথে আলাপ-আলোচনা শুরু করে। তবে চীনা কোম্পানিটি বাংলাদেশকে অর্থায়নের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা। ফলে টিকা বাংলাদেশের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।



আরো সংবাদ


মৃত্যু কাম্য নয়, তবে কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেলে কিছু করার নেই : হাসিনা খুলনায় লেখক মুশতাকের মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় যুবক গ্রেফতার ৩০ মার্চ থেকে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেভাবে ক্লাস হবে শামীমা বেগম কি আর কখনো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন? মান্দায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত একসাথে দুই বোনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল প্রেমিক কারওয়ান বাজারে হাসিনা মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট সিরিয়ায় বিমান হামলা আমেরিকার সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসবাদের নতুন ধাপ : ইরান রাজশাহীতে ১ চিকিৎসক ও ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ উড়ছে ম্যানসিটি জামায়াত আমীরের শোক

সকল