০৭ মার্চ ২০২১
`

করোনা টিকায় দিল্লিতে ৫২ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

-

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভ্যাকসিন নেয়ার পর ৫২ জন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই। তাদের মধ্যে একজনের শরীরে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ছাড়া তেলেঙ্গানায় ১১ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার থেকে দেশটিতে শুরু হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোভিড টিকাদান কর্মসূচি। দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দুই-একটি ছোট ঘটনা ছাড়া দেশজুড়ে নির্বিঘেœই প্রথম দিনের টিকাদান শেষ হয়েছে। তবে রাত বাড়তেই বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর আসতে শুরু করে। কলকাতায়ও ভ্যাকসিন নেয়ার পর এক নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
দিল্লি থেকে প্রথমে জানা যায় টিকা নেয়ার পর দুই স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। চরক পালিকা হাসপাতালে টিকা নেয়ার পর তারা বুকে চাপ অনুভব করেন। ৩০ মিনিটের জন্য তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে দিল্লি সরকার জানায়, দিল্লিতে ৫২ জন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। তবে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন সাংবাদিকদের বলেন, টিকা দেয়ার পর দেশে কোনো বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঘটনা ঘটেনি। এ দিকে কো-উইন অ্যাপের সমস্যায় দেশটির কয়েকটি রাজ্য সমস্যায় পড়েছে। এই সমস্যার জেরে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকা দেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে মহারাষ্ট্র। শুক্রবার থেকে এই অ্যাপে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
নরওয়ের জরুরি পরামর্শ চেয়েছে অস্ট্রেলিয়া : ফাইজার ভ্যাকসিনে প্রাণহানির ঘটনায় নরওয়ের জরুরি পরামর্শ চেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে ফাইজার কর্তৃপক্ষেরও বক্তব্য চেয়েছে ক্যানবেরা। কেননা, ভ্যাকসিনটির এক কোটি ডোজ কিনতে ফাইজারের সাথে অস্ট্রেলিয়ারও চুক্তি রয়েছে। ফলে এ নিয়ে যাবতীয় সংশয় দূর করতে চায় দেশটি। নরওয়ের চিকিৎসা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নেয়ার পর সাধারণ জ্বর ও বমি বমি ভাবের মতো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। কিছু দুর্বল রোগীদের জন্য এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেগ হান্ট বলেন, সরকার ব্যাপক সাবধানতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে টিকাদানের ব্যাপারে আমাদের শিডিউলের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সানজায়া সেনানায়াকে মনে করছেন, ভ্যাকসিন নেয়ার ঘটনায় মৃত্যু কাকতালীয় হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, তার দেশ ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের সাথে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সম্পর্কিত যেকোনো ঝুঁকি তদন্তের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। এ দিকে নরওয়েতে ফাইজারের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার দেশটির কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে ২৩ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। সবশেষ তথ্য হাজির করে তারা বলছে, নতুন করে আরো ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনা নিয়ন্ত্রণে চীনে পাঁচ দিনেই হাসপাতাল : ২০১৯ সালে ডিসেম্বের শেষের দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হয়। এবার নতুন করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে হুবেই প্রদেশ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগের থেকে অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন করোনার ঢেউ। আতঙ্কের বিষয় হলো, নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস বেইজিংয়ে পাওয়া গেছে। ২০২০ সালের শুরু থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে চীন থেকে। এ বছরও নতুন করে সংক্রমণের জেরে বিপাকে পড়ছে বেইজিং। নতুন করে সংক্রমণ শুরু হওয়ায় হুবেই প্রদেশে পাঁচ দিনের মধ্যে হাসপাতাল তৈরি করে ফেলেছে চীনা প্রশাসন। এই হাসপাতালে রয়েছে দেড় হাজার শয্যা, ছয় হাজার ৫০০ ঘর। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে যেন বেগ পেতে না হয়, সেজন্য আগাম তৈরি রাখা হলো বহু শয্যার হাসপাতাল।
চীনে আইসক্রিমে করোনা : চীনের পূর্বাঞ্চলে উৎপাদিত আইসক্রিমে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর আইসক্রিমটির একই ব্যাচের সব কার্টন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে আইসক্রিমে করোনাভাইরাস পাওয়ার পর বেইজিং সংশ্লিষ্ট তিয়ানজিনের দাকিয়াওদাও ফুড কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং সেখানকার সব কর্মীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে শহরটির কর্তৃপক্ষ।
এখন পর্যন্ত আইসক্রিম থেকে কারো শরীরে প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আইসক্রিমের যে ব্যাচে করোনাভাইরাস মিলেছে, সেই ব্যাচের ২৯ হাজার কার্টনের বেশির ভাগই অবিক্রীত ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তিয়ানজিনে বিক্রি হওয়া ৩৯০টি কার্টন শনাক্ত করা হয়েছে এবং অন্যান্য অঞ্চলের কর্তৃপক্ষকে তাদের আওতাভুক্ত এলাকায় বিক্রির বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, তিয়ানজিনের যারা এই আইসক্রিম খেয়েছিলেন, তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।



আরো সংবাদ