০৫ মার্চ ২০২১
`
৬০ পৌরসভায় নির্বাচন

অভিযোগের ভোটে আ‘লীগ প্রার্থীদের জয়জয়কার

গাইবান্ধায় ব্যাপক সংঘর্ষ ; বিভিন্ন স্থানে বিএনপি প্রার্থীদের ভোট বর্জন ; সিরাজগঞ্জে বিজয়ী বিএনপির কাউন্সিলরকে হত্যা
-

দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬০টি পৌরসভায় গতকাল শনিবারের নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শীত ও করোনা উপেক্ষা করে অনেক স্থানেই ভোটাররা সকালে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ইভিএম মেশিনের কারণে বহু কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘসূত্রতা অভিযোগ করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন অভিযোগ সত্ত্বেও দিনশেষে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিপুল জয়ের সংবাদ পাওয়া গেছে। এ দিকে বিক্ষিপ্তভাবে অনেক কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কিছু এলাকায় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সিরাজগঞ্জ সদরে বিএনপির বিজয়ী কাউন্সিলরকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। গাইবান্ধার সদর উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তীতে সন্ধ্যায় র্যাব-পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। অবশ্য এসব সহিংসতার ঘটনা ছাড়া বেশির ভাগ পৌরসভায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। অনিয়মের অভিযোগ তুলে চারটি পৌরসভা-রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ, বাগেরহাটের মংলা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও পাবনার ঈশ্বরদীর বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা দুপুরের আগেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ভোট বর্জন করেন মেহেরপুরের গাংনীর স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী। ৬০ পৌরসভায় গতকাল মেয়র হতে লড়েছেন ২২১ জন প্রার্থী।
গোলযোগ হয়েছে ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার একটি কেন্দ্রে। সেখানে ককটেল বিস্ফোরণে চারজন আহত হন। বাগেরহাটের মংলায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সংঘর্ষে দু’জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে এক মেয়র প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়। তবে বেলা ১১টার পর কোথাও কোথাও বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, মারধর, বিএনপির চিহ্নিত ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আসতে থাকে। রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে গত দুই দিন ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সেখানে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ হয়। তবে ভোটের আগের রাতে সেখান থেকে ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দ্বিতীয় ধাপে ৬০টির মধ্যে ২৮টি পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়। বাকি ৩২টিতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হয়। ৬০ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ২২১ জন, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ৭৪৫ এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে দুই হাজার ৩২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব পৌরসভায় মোট ভোটার ২২ লাখ ৪০ হাজার ২২৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৮০টি এবং ভোটকক্ষ ছয় হাজার ৫০৮টি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ৬১টি পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার একজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় ভোট স্থগিত করা হয়। আর ৬০টি পৌরসভার ৫৬টিতে মেয়র পদে ভোট হয়। নারায়ণগঞ্জের তারাব, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, পাবনার ভাঙুরা ও পিরোজপুরে মোট চারটি পৌরসভায় ভোটের আগেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। তাই বাকি ৫২টিতে মেয়র পদে ভোট হয়।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ছাড়া বাকি ৫৪টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা মেয়র পদে দাঁড়ান। তবে ভোট শুরুর পর বিভিন্ন অভিযোগে বেশ কিছু পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে বাগেরহাটের মংলায় মেয়রসহ ৯টি ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীসহ মোট ১৫ জন, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া মাগুরা ও পাবনায় বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়া, মারধর ও ভোটে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেন।
এবার সব ক’টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন। অনেকগুলো পৌরসভায় দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনে বড় দুই দল ছাড়াও জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন।
দেশে পৌরসভা রয়েছে মোট ৩২৯টি। প্রথম ধাপের তফসিলের ২৪টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। তৃতীয় ধাপে ৬৪ পৌরসভায় ৩০ জানুয়ারি ও চতুর্থ ধাপে ৫৬ পৌরসভায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রথম ধাপে ২৪টি পৌরসভার মধ্যে ১৯টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তিনটিতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হন। বাকি দু’টিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, কুয়াশা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ দলে দলে ভোট দিতে যায় কেন্দ্রগুলোতে। এভাবে চলতে থাকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। পৌরবাসী আশা করেছিল সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এর মধ্যেই শক্তির মহড়া শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। খবর আসে ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ কেন্দ্র জোর করে দখলে নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগের লোকজন। অন্য সংবাদকর্মীদের সাথে এ প্রতিবেদক বেলা সোয়া ১টার দিকে ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন ফটকের বাইরে শত শত মানুষের ভিড়। ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি। কলেজের দু’টি কেন্দ্রের একটিতে ভোট গ্রহণ চলছে। আরেকটিতে ভোট গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে কলেজের পূর্ব তিনতলা ভবনের কেন্দ্রটি দখল করে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়। পরে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভোটের সিল, সব ব্যালট বই ও ভোট দেয়া ব্যালটের বাকি অংশ সব কিছু ছিনিয়ে নেয়।
এ দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পৌরসভার ২৮ কেন্দ্রের মধ্যে ২৭ কেন্দ্রের বেসরকারি ফল পাওয়া গেছে। কেন্দ্রগুলোতে ৪৩৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো: পারভেজ মিয়া। কেন্দ্রগুলোতে তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৯২০ ভোট। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাজী মো: ইসরাঈল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৪৮২ ভোট। এর মধ্যে স্থগিত রয়েছে ওয়ালী নেওয়াজ খান পূর্ব তিনতলা ভবনের কেন্দ্র।
সিরাজগঞ্জে কাউন্সিলর প্রার্থী নিহত
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জ সদর পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গণনার সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে তরিকুল ইসলাম নামে এক কাউন্সিলর প্রার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ডালিম মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শহীদগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তরিকুল ইসলাম তার পাশের এলাকার ওই কেন্দ্রে গেলে ভোট গণনার বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজনের সাথে বাগি¦তণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় মুখোশধারী কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের পাঁচটি পৌরসভার নির্বাচনে তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয় লাভ করেছেন। অপর একটিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন আওয়ামী লীগ। বেসরকারি ফলাফলে সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া এ তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও বেলকুচি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হন।
গাইবান্ধায় পুলিশ-র্যাবের সাথে সংঘর্ষ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌর নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কোমরনই কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জামাদি আটকে দিয়েছেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সাথে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় একটি সরকারি গাড়িতে আগুন ও তিনটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত ৮টা সংঘর্ষ চলছিল।
সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা পুলিশ সুপার (এসপি) তৌহিদুল ইসলাম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না করে গাইবান্ধা নির্বাচন অফিসে ব্যালট পেপার নিয়ে যেতে চায় প্রশাসন। পরে অনেক অনুরোধ করা হলেও তারা কেন্দ্রে ফল ঘোষণা করতে চায়নি। এরই একপর্যায়ে ব্যালট পেপার নিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ বাধে।
ঝিনাইদহ ও শৈলকুপা সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে কাজী আশরাফুল আযম ১০ হাজার ৮৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ও সতন্ত্র প্রার্থী তৈয়বুর রহমান পেয়েছেন সাত হাজার ২৮১ ভোট। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে খলিলুর রহমান পেয়েছেন এক হাজার ৫৬৯ ভোট। কাজী জাফর লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ১৯২ ভোট। এর আগে শনিবার সকালে পৌরসভার খুলনা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাতে আহত হয়েছেন দুইজন। অপরদিকে ঝাউদিয়া ভোটকেন্দ্র এলাকায় স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মেয়রপ্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরেরও ঘটনা ঘটেছে। অন্য দিকে দুপুর ১২টার দিকে ঝাউদিয়া ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তৈয়বুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষরা।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীতে তিন পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। এগুলো হলোÑ বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ, গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট এবং বাঘা উপজেলার আড়ানী। এ দিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভবানীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিক ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার অভিযোগ শহীদ সেকেন্দার মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি নিজের ভোট দিতে গেলে নৌকার প্রতীকের সমর্থকেরা তাকে লাঞ্ছিত করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া বেশির ভাগ কেন্দ্র থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদেরও বের করে দেয়া হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সকালে শহীদ সেকেন্দার মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আমি আমার নিজের ভোট দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু নৌকার প্রতীকের সমর্থকেরা আমাকে আমার ভোটটাই দিতে দেয়নি।
বগুড়া অফিস ও সারিয়াকান্দি সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু ও সারিয়াকান্দি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী মতিউর রহমান মতি মেয়র বিজয়ী হয়েছেন। আর শেরপুর পৌরসভায় গত সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
এ নিয়ে সান্তাহার পৌরসভায় তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ৭৮৮। তার নিকটতম আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের আশরাফুল ইসলাম মন্টু পেয়েছেন ৭ হাজার ৪০২ ভোট। সারিয়াকান্দি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী মতিউর রহমান মতি বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। মতির প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৬ হাজার ৫৭৪টি। স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর শাহী সুমন (নারিকেল গাছ) পেয়েছেন ২ হাজার ২৭৬টি।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভার পৌর নির্বাচনে ইভিএমের নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দিতে না পারার অভিযোগ করা হয়েছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৮৪টি কেন্দ্রের বেশির ভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। সাভার পৌরসভার রাজাশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্রে সকাল থেকে বিশাল লাইন দেখা গেছে। এ কেন্দ্রে মোট মহিলা ভোটার সংখ্যা ২৮০০ জন। বুথ সংখ্যা ছিল সাতটি। বাইরে থেকে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ দেখা গেলেও ভেতর থেকে যারা ভোট দিয়ে বের হয়েছেন তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারার অভিযোগ করেছেন। এ কেন্দ্রের ৩নং বুথের ভোটার শিল্পী আক্তার অভিযোগ করেন, তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী মনির পালোয়ানের উট মার্কাকে দিতে পারেননি। তাকে জোরপূর্বক নৌকা এবং ডালিম মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। এ দিকে এ কেন্দ্রের কোথাও বিএনপি প্রার্থী আলহাজ মো: রেফাত উল্লাহর ধানের শীষ মার্কার এজেন্ট পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতেও ধানের শীষের এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, জেলার পাঁচটি পৌরসভাতে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ হয়েছে। তবে উল্লাপাড়াতে অনিয়মের অভিযোগে সকাল ১০টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি প্রার্থী আজাদ হোসেন এবং সিরাজগঞ্জ সদরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপি প্রার্থী সাইদুর রহমান বাচ্চু। এ ছাড়া কিছু কিছু স্থানে ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ, কাজিপুর, উল্লাপাড়া ও বেলকুচি পৌরসভায় একযোগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় কাজিপুর পৌরসভায় শুধু কাউন্সিলরদের মধে ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই-একটি কেন্দ্রে সরকারদলীয় সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি, হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা জানান, গাংনী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আলী বিজয় লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন (নৌকা প্রতীক) ৯ হাজার ৪৬০ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী আশরাফুল ইসলাম পেয়েছেন (জগ প্রতীক) ২ হাজার ৬৫১ ভোট। এ ছাড়া বিএনপি দলীয় প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪৮৮ ভোট। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন আহম্মেদ আলী। দুপুরের দিকে আ’লীগ দলীয় প্রার্থী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পোলিং এজন্টেদের বের করে দেয়া, ভোট কারচুপিসহ নানা অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী বর্তমান মেয়র আশরাফুল ইসলাম, বিএনপি প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু ও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী আবু হুরাইরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কুলিয়ারচর পৌর নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া, কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া ও ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ফিংগার নেয়ার পর নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী নুরুল মিল্লাত। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বেতিয়ারকান্দি গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন তিনি।
দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণে এক আনসার সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গণিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এই কেন্দ্রের টেবিল ল্যাম্প প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুল ইসলাম ক্লাইব জানান, সরকার দল সমর্থিত উট পাখি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী ছালাউদ্দিন রুবেলের সমর্থকরা কেন্দ্রে ভোটের আগের দিন রাত থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে কেন্দ্রে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলে এক আনসার সদস্যসহ চারজন আহত হন।
নাটোর সংবাদদাতা জানান, নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার ভোটার মানিক ইসলাম (২৬) বাস্তবে জীবিত হলেও ভোটার তালিকায় তার নাম ‘মৃত’। এ কারণে কেন্দ্রে গিয়েও কাউন্সিলর প্রার্থী বাবাকে ভোট দেয়া হলো না তার। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নলডাঙ্গা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ঢাকার কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে বাবাকে ভোট দিতে এসেছিলেন। ভুক্তভোগী মানিক ইসলাম নলডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী বাবলু সরদারের ছেলে।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ার চারটি পৌর নির্বাচনে তিনটি নৌকা ও একটিতে মশাল বিজয়ী হয়েছে। কুষ্টিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী আবারো বিজয় অর্জন করেছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৫২ ভোট, নিকটতম বিএনপি প্রার্থী বশিরুল আলম চাঁদ পেয়েছেন ১৪ হাজার ৬১৩ ভোট। কুমারখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র সামসুজ্জামান অরুন পেয়েছেন ১০ হাজার ১১০ ভোট। নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আনিসুর রহমান পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬ ভোট। মিরপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজী এনামুল হক ১০ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আরিফ পেয়েছেন ২ হাজার ৫১৫ ভোট এবং ভেড়ামারায় জাসদ প্রার্থী আনোয়ার কবির টুটুল ৮ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র শামিমূল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৩ ভোট।
নাটোর সংবাদদাতা জানান, নাটোরের তিনটি পৌরসভা নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নলডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির (নৌকা) তিন হাজার ৬৩০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আব্বাস আলী নান্নু (ধানের শীষ) পেয়েছেন এক হাজার ৮০৯ ভোট। গোপালপুর পৌরসভায় প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে রোকসানা মোর্তজা লিলি (নৌকা) ৬ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল (রেল ইঞ্জিন) ৫ হাজার ১৫২ ভোট পেয়েছেন। গুরুদাসপুর পৌরসভা নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহনেওয়াজ মোল্লা (নৌকা)। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৪০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বিপ্লব পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৫ ভোট।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, জেলায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) কারণে অনেক কেন্দ্রেই ভোট গ্রহণে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় বিলম্বিত হয়। অনেক ভোটারের আঙুলের ছাপ ইভিএমে সাপোর্ট না করায় ভোট দিতে গিয়েও ভোট না দিয়ে ফিরতে হয়েছে অনেককে। এই বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনদীপ ঘরাই বলেন, প্রথমবার ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করায় অনেকের আঙুলের ছাপ মিলেনি। তবে তা সংখ্যায় খুবই কম।
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জুয়েল আহমদ ৫ হাজার ২৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হেলাল মিয়া স্বতন্ত্র (জগ) ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৮০৬ ভোট। এ দিকে কুলাউড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিপার উদ্দিন আহমদ ৪ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজান মিয়া পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৫ ভোট।
রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, সদ্য অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে বেসরকারিভাবে মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী। তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩২৫ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গত দুইবারের পৌরমেয়র মো: রফিকুল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৮৬৪৭ ভোট।
নরসিংদী সংবাদদাতা জানান, নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আমিনুর রশিদ সুজন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে আমিনুর রশিদ সুজন পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৮২ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক পেয়েছেন ৫৮৫ ভোট।
মাগুরা সংবাদদাতা জানান, মাগুরায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খুরশীদ হায়দার টুটুল নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারি ফলাফলে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের সুনামগঞ্জ পৌরসভা, ছাতক ও জগন্নাথপুর এই তিনটি পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে তিনটির মধ্যে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দু’জন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় মোট ২৩টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাদের বখত ২১ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ দিকে ছাতক পৌরসভার মোট ১৯টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো: আবুল কালাম চৌধুরী ১২ হাজার ৯৩৫টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে মোট ১১টি কেন্দ্রের ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: আখতারুজ্জামান আক্তার আট হাজার ৩৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বান্দরবান সংবাদদাতা জানান, বান্দরবানের লামা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৪০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো: শাহীন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ হাজার ৬৫ ভোট এবং লাঙ্গল প্রতীকের এ টি এম শহীদুল ইসলাম পেয়েছেন ১১২ ভোট। বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম দ্বিতীয়বারের মতো লামা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হলেন।
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, মোহনগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লতিফুর রহমান রতন নৌকা প্রতীকে বিজয় লাভ করেছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৯ হাজার ৪৪৫। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা পারভিন বীথি নারকেল গাছ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন চার হাজার ৩৮৪।
হবিগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক নির্বাচিত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে হাবিবুর রহমান মানিক ৫ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক পংকজ সাহা নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৪,১৫৬ ভোট।
লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের গোপালপুর পৌরসভায় বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রোকসানা মোর্ত্তজা লিলি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রেল ইঞ্জিন প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনজুরুল ইসলাম বিমল।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, কুলাউড়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ মেয়র পদে ১৫১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রবাসী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজান মিয়া পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৭ ভোট।
চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, চান্দিনা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শওকত হোসেন ভূঁইয়া বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এতে নৌকা প্রতীকে শওকত হোসেন ভূঁইয়া ৯ হাজার ৪৫১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন জগ প্রতীকে ৩ হাজার ১৫৫ ভোট পেয়েছেন।
নওগাঁ সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে রেজাউল করিম চৌধুরী পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপি মনোনীত আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট।
দিনাজপুর সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুর পৌরসভা নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। ৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে সব ক’টি কেন্দ্রেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন। সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৩৪ ভোট ও রাশেদ পারভেজ পেয়েছেন পেয়েছেন ২৪ হাজার ২২৬ ভোট। দিনাজপুর পৌরসভার দেড় শ’ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো মেয়র পরপর তিনবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেন।
এ ছাড়া জেলার বিরামপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আক্কাস আলী নৌকা প্রতীকে ১৫ হাজার ৩৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান সরকার নারিকেল গাছ প্রতীকে ৮ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়েছেন। একইভাবে বীরগঞ্জ পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বাবুল মোবাইল প্রতীকে ৩ হাজার ৯৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুর ইসলাম নুর নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৪৬।



আরো সংবাদ