২৩ জানুয়ারি ২০২১
`

সড়কে প্রাণ গেল ১৮ জনের

মানিকগঞ্জে দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজি : নয়া দিগন্ত -

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সাতজন ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মাগুরা ও নরসিংদীতে নিহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। মানিকগঞ্জে নিহত সাতজনের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য।
মানিকগঞ্জ ও ঘিওর সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। অপর নিহত সিএনজির চালক। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জ-দৌলতপুর সড়কের মূলকান্দি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই সিএনজির যাত্রী ছিলেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, দৌলতপুরে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাকে অপর দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে সিএনজিতে থাকা একই পরিবারের ছয়জনসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, দু’জন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। নিহতরা হলেনÑ একই পরিবারের হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার (৫৫), তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৮), গোবিন্দের স্ত্রী ববিতা বাদ্যকার (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকার (৪), চাচী খুশি বাদ্যকার (৫২) ও চাচাতো ভাই রামপ্রসাদ বাদ্যকার (৩০)। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সিএনজি চালক জামাল শেখ (৩০)। নিহতদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার চাষা ভাদ্রা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার সিএনজি ভাড়া করে দৌলতপুর থেকে মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। উপজেলার মূলকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাসের এক নারীসহ ছয় যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় সাতজনকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহতরা সবাই কাজের সন্ধানে ঢাকা ও গাজীপুরে যাচ্ছিলেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার কুরনী নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑ রংপুর জেলার হরিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে শওকত হোসেন (১২), নুলু খানের মেয়ে নুর নাহার (১৬), রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বল্লাগান্ধি গ্রামের পারভেজ মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩২), জয়নাল মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩৫), ইসহাক আলীর ছেলে আব্দুল হান্নান মিয়া (৫০) এবং রতন মিয়ার ছেলে চুন্নু মিয়া (৩২)।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পরিদর্শক মো: শওকত হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ট্রাফিক পুলিশ, গোড়াই হাওয়ে থানা পুলিশ, মির্জাপুর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মো: মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, রংপুর থেকে ঢাকাগামী সেবা ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস মহাসড়কের কুরনী নামক স্থানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রাক বাসটিকে ধাক্কা দিলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ও বাসের ভিতরে থাকা চারজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। গুরুতর অবস্থায় সাতজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিরাজুল ও আশরাফুল মারা যান। ভর্তিকৃতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। ঘাতক ট্রাকটি আটক হলেও বাসের চালক পলাতক।
মাগুরা সংবাদদাতা জানান, মাগুরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় রামনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় দু’জন ও মহম্মদপুরের রাজাপুর এলাকায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মাগুরার শালিখা উপজেলার থৈ পাড়া গ্রামের স্বর্ণা বিশ্বাস (২৫) ও তার ভাসুরের স্ত্রী সাথী বিশ্বাস (৩৫)। অপর দিকে মহম্মদপুরের রাজাপুর এলাকায় আহাদ আলী (৫০) নামে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আহত দু’জন মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাগুরা রামনগর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহাজালাল বাবুল জানান, গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ২ টার দিকে মাগুরা-ফরিদপুর মহাসড়কের ঠাকুরবাড়ি এলাকায় ফরিদপুরগামী সবজিবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাথচারীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে স্বর্ণা বিশ্বাস (২৫) মারা যান। গুরুতর আহত সাথী বিশ্বাস (৩৫), সেতু বিশ্বাস (১২), অর্পনা বিশ্বাসকে (১৩) মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে সাথী বিশ্বাসের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে কানাইপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয়। নিহত স্বর্ণা বিশ্বাস শালিখার থৈ পাড়া গ্রামের মিল্টন মজুমদারের স্ত্রী এবং সাথী বিশ্বাস তার ভাই লিটন মজুমদারের স্ত্রী।
অপর দিকে, মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পাশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তি আহত হয়। তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হলে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। সে নড়াইল জেলার লোহাগড়া এলাকার আহাদ আলী বলে তার পরিচয় জানা গেছে।
শিবপুর (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, নরসিংদীর শিবপুরে পিকআপ-নসিমন-সিএনজির ত্রিমুখী সংঘর্ষে ইউসুফ আলী (৬০) নামে এক নসিমন চালক নিহত হয়েছেন। গতকাল উপজেলার ইটাখোলা-মঠখোলা আঞ্চলিক সড়কের জামতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ আলী উপজেলার পোরান্দিয়া এলাকার মৃত হাসান আলীর ছেলে। শিবপুর থানা পুলিশ জানায়, একটি যাত্রীবাহী সিএনজি ও নসিমন ইটাখোলা থেকে শিবপুরের দিকে যাচ্ছিল। আর পিকআপটি শিবপুর থেকে ইটাখোলার দিকে যাচ্ছিল। যাত্রীবাহী সিএনজিটি উপজেলার জামতলা এলাকায় যাত্রী নামানোর জন্য থামলে পিছন থেকে নসিমনটি সিএনজিকে ধাক্কা দিয়ে পিকআপের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় নসিমন চালক ইউসুফ আলী ছিটকে রাস্তায় পড়লে তার মাথার ওপর দিয়ে পিকআপের চাকা যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মোটরসাইকেল কেড়ে নিলো দুই বছরের শিশুর প্রাণ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বানা এলাকায়। জানা যায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বানা গ্রামের মমিনুর রহমানের ছেলে আলী হামজা (২) রোডের ওপর দৌড়াদৌড়ি করছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরিবারের লোকজন তাকে আলফাডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।



আরো সংবাদ