১৬ জানুয়ারি ২০২১
`

ভাসানচরে পৌঁছেছে ১৬৪২ রোহিঙ্গা

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : স্টার মেইল -

প্রথম ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে নারী-পুরুষ, শিশুসহ নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে পৌঁছেছে ১৬৪২ জন রোহিঙ্গা। গতকাল শুক্রবার বেলা ২টার দিকে সাতটি জাহাজে তারা ভাসানচরে এসে পৌঁছায়। এর আগে, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে যাত্রা করে এসব রোহিঙ্গাকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয় নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সাতটি জাহাজ ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গাদের প্রথমে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। তারপর ওয়ার হাউজে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের ব্রিফিং করে। ব্রিফিং শেষে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রস্তুত ৭, ৮, ৯, ১০ নম্বর ক্লাস্টারে তাদের রাখা হয়। জানা যায়, আগামী এক সপ্তাহ নৌবাহিনী তত্ত্বাবধানে তাদের রান্না করে খাওয়ানো হবে। ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশু রয়েছে ৮১০ জন, পুরুষ ৩৬৮ জন, নারী ৪৬৪ জন। এ ছাড়া ২২টি এনজিও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিতে ভাসান চরে অবস্থান করছে। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার দুটো জাহাজে ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গাদের ১০১৯টি মালপত্রের লাগেজ ভাসানচরে পৌঁছে দেয়া হয়।
এর আগে চলতি বছরের ৮ মে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ভাসতে থাকা রোহিঙ্গাদের আরো একটি দলকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এ দলটিতে নারী-পুরুষও শিশুসহ মোট ২৭৭ জন সদস্য ছিল। এর আগে গত ৩ মে ২৯ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠনো হয়। কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরে বোটে ভাসমান অবস্থা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের নিরাপত্তায় নৌবাহিনী ও ৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, সবমিলিয়ে রোহিঙ্গা ছিল ৩০৬ জন। গতকাল এক হাজার ৬৪২ নিয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৯৪৮ জনে।
এর আগে ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও আগেই শেষ হয় সব অবকাঠামো নির্মাণ। হাতিয়া থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এবং জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোনের সমুদ্র উপকূলবর্তী ভাসানচরের সৌন্দর্য অন্যান্য দ্বীপের মতো না হলেও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এটি হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক লীলাভূমির এক অপূর্ব সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীপে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ৩০ জন ঠিকাদারের অধীনে এ স্থানে প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিক কাজ করে। এ আশ্রায়ন প্রকল্পে আছে ১২০টি সাইক্লোন সেন্টার, স্কুল কমিউনিটি ক্লিনিক, তিনটি মসজিদ, বসবাসকারীদের জন্য আছে বায়োগ্যাস প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ভাসানচরের ভূমি উন্নয়ন ও তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং এক হাজার ৪৪০টি ব্যারাক হাউজ। আরো আছে চার তলাবিশিষ্ট ১২০টি শেল্টার স্টেশন। রোহিঙ্গাদের জন্য থাকছে মসজিদ, দ্বীপটির নিরাপত্তার জন্য নৌবাহিনীর অফিস ভবন ও কর্মকর্তাদের জন্য বাসভবন। এ ছাড়া আরো আছে অভ্যন্তরীণ সড়ক, মিঠা পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন অবকাঠামো। পাশাপাশি গভীর নলকূপ ও পুকুর খনন করে ভাসানচর দ্রুত প্রস্তুত করা হয় রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য। চরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৪ কিলোমিটার। এ ভাসানচরের প্রায় ১২ কিলোমিটারব্যাপী লোকজনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে তাদের খাদ্য ও সুপেয় পানিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে। গত ৬ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে শুরু হয়ে এপ্রিল ২০১৯ পর্যন্ত সরকারের অন্যান্য সংস্থার পাশপাশি নৌবাহিনী মূল অবকাঠামো নির্মাণ করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রজেক্ট ডাইরেক্টর কমোডর আব্দুল্লাহ আল মামুন সর্বক্ষণিক কাজের তদারকি করেন।



আরো সংবাদ