২৭ জানুয়ারি ২০২১
`

ভারতজুড়ে কৃষক বিক্ষোভ পুলিশের সাথে সংঘর্ষ

কৃষি বিলের প্রতিবাদ
-

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম ও কৃষি আইনসহ নানান ‘দেশবিরোধী’ নীতির প্রতিবাদে এবং করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষকে আর্থিক সহযোগিতা, রেশনসহ ৭ দফা দাবিতে দেশজুড়ে ধর্মঘট করেছে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন। এনডিটিভি ও আনন্দবাজার।
ধর্মঘটের সমর্থনে পশ্চিমবঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাম ও কংগ্রেস সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বেশির ভাগ এলাকায় ট্রেন চলাচলে বিঘœ দেখা গেলেও মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বেশির ভাগ কলকারখানা বন্ধ ছিল; যেগুলো খোলা ছিল সেখানেও শ্রমিক উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় কম ছিল। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কিছু এলাকায় ধর্মঘটবিরোধী মিছিল করলেও কোথাও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল কলকাতাতেই পুলিশের পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিও (বিজেপি) ধর্মঘট প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ধর্মঘটের কারণে যানবাহন চলাচল সামান্য বিঘিœত হয়েছে বলে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
কৃষকদের সংগঠনগুলো এ ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বন্ধ, অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। তাদের ‘দিল্লি­ চলো’ ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার কৃষক পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থান থেকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় হরিয়ানায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পাঞ্জাবের সাথে তাদের সীমান্ত সিল করে দিয়েছে। এ রাজ্যে বৃহস্পতিবার পুলিশ কৃষকদের উপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি পানিকামানও ব্যবহার করেছে। আম্বালা, কুরুক্ষেত্র, হিসারে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। বিভিন্ন এলাকায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। গুরগাঁওয়ে কৃষক নেতাদের সাথে স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট যোগেন্দ্র যাদবকেও আটক করেছে পুলিশ। পাঞ্জাব থেকে দিল্লি অভিমুখে রওনা দেয়া লাখো কৃষককে প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদেরকে যেখানে আটকানো হবে সেখানেই বসে পড়বেন তারা।
করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে দিল্লিতে কোনো ধরনের সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে শহরটির কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের সমাবেশের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে তারা। ধর্মঘট মোকাবেলায় উড়িষ্যায় জারি হয়েছে অ্যাসেনসিয়াল সার্ভিস মেইনটেনেন্স অ্যাক্ট (এসমা)। এ আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু খাতের শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকার রহিত করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থাও ধর্মঘটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে।
কিন্তু কোনো কিছুতেই বিক্ষোভকারীদের দমানো যায়নি। ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন দাবি করেছে, তাদের এই সমাবেশে দুই লাখের বেশি কৃষক অংশ নেবেন। দু’দিনের সমাবেশে অংশ নিতে খাবার, সবজি, কাঠ এবং কম্বল নিয়েই রওনা দিয়েছেন কৃষকরা।
পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশনে বিতর্কিত কৃষি বিল পাস করেছিল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি ধ্বনি ভোটে পাস করানো হয়েছিল। তার পর থেকেই ভারতের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক দুই রাজ্য পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিলটি পাস হওয়ার পরেই পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকদের একটি বড় অংশ আন্দোলন শুরু করে। শীতে কার্যত কোনো ফসল বোঝাই ট্রাক পাঞ্জাব থেকে বের হতে দিচ্ছেন না কৃষকরা। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আইন বলবৎ করে কৃষকদের স্বার্থে আঘাত করেছে।
গত কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন চলছিল। তারই মধ্যে কেন্দ্র কৃষক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু সেই বৈঠকে কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। তার পরেই কৃষকদের প্রায় ৫০০টি সংগঠন একত্রে সিদ্ধান্ত নেয়, বৃহস্পতিবার দিল্লি অভিযান করা হবে। কৃষকরা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন থামবে না। তারা বলেছেন, বৃহস্পতিবার পুলিশ যেভাবে মিছিল আটকেছে, তাতে লড়াই আরো বাড়বে।



আরো সংবাদ