১৯ জানুয়ারি ২০২১
`

পিছিয়ে যাচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা

তৈরি হচ্ছে তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস; স্কুল খুললেও ক্লাস হবে সপ্তাহে ৩-৪ দিন
-

করোনার প্রাদুর্ভাব না কমলে আগামী বছরের এসএসসি (মাধ্যমিক) ও এইচএসসি (উচ্চমাধ্যমিক) পরীক্ষাও পেছাতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। এ জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে তিন মাসের সংক্ষিপ্ত একটি সিলেবাসও তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বছরের অটো পাসের আওতায় এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ফলাফল তৈরিতে এসএসসির ফলাফলকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টিও পরিষ্কার করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
আগামী শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, করোনা কমলে স্কুল খুললেও আগের মতো প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে হবে না। শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই প্রতিদিন স্কুলে আসবে। নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হবে। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে।
গতকাল বুধবার স্কুলে ভর্তি নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আগামী বছরের (২০২১) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও নির্ধারিত সময়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে আমরা তাদের তিন মাস ক্লাস করাতে চাই। সে কারণে হয়তো এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দু-এক মাস পিছিয়ে যাবে। সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে এসএসসি ও এপ্রিলের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা হয়। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে পুরো শিক্ষাপঞ্জি এলোমেলো হয়ে গেছে। গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। এই ছুটি সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল তৈরিতে পরীক্ষার্থীদের এসএসসির ফল প্রাধান্য পাবে। এ ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষার ফলের ৭৫ শতাংশ ও জেএসসি পরীক্ষার ফলের ২৫ শতাংশ গণনা করে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ফল পাবে শিক্ষার্থীরা। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা কিছুটা গুরুত্বের সাথে অংশ নেন। তাই এসএসসির ফলের ওপর আমরা জোর দেবো। পরীক্ষার্থীদের এসএসসির ফলের ৭৫ শতাংশ ও জেএসসির ফলের ২৫ শতাংশ গণনা করে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হবে। তিনি আরো জানান, যখন ফল প্রকাশ করা হবে তখন কিভাবে ফল তৈরি করা হয়েছে তা জানিয়ে দেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরির শিক্ষার্থীদের জেএসসি পরীক্ষা হয় না। তাই শুধু এসএসসির ফলেই এসব শিক্ষার্থীর ফল দেয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, করোনার প্রকোপ কিছুটা কমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। তবে এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বড় পরিবর্তন আসবে। আগের মতো প্রতিদিন ক্লাসে আসতে হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণী ক্লাসের পাঠদান পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস না নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সপ্তাহে তিন-চার দিন ক্লাসে আসতে হবে শিক্ষার্থীদের। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস করানো হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নেয়া না হলেও তাদের শিক্ষা বোর্ড থেকে পাসের সনদ দেয়া হবে। সেই সনদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। নিজ নিজ স্কুল থেকে শিক্ষার্থীরা পাসের সনদ পাবে। সেটি নিয়ে তারা নবম শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারবে।
স্কুলে ভর্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বছর স্কুলে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করানো হবে। জনসমাগম যেন না হয় এ জন্য অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি আবেদন করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ফি বাড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হবে। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে।
লটারির মাধ্যমে ভর্তি হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভালো স্কুলে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যাশিত স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে কেউ কেউ রাগান্বিত হবেন। এ ক্ষেত্রে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। তবে গুটিকয়েক স্কুলে ভর্তি হলেই মেধাবীদের সফলতা নির্ভর করে না। কিভাবে পড়ানো হচ্ছে সেটাই বিবেচ্য বিষয়। তিনি বলেন, কয়েকটি সুনামধারী স্কুলে ভর্তি হতে পারলেই যোগ্য স্থান হয়েছে বলে মনে করা যাবে না। নামী স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য এক ধরনের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। এ থেকে বের হতে হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি সাম্যের মধ্যে নিয়ে আসতে আমরা কার্যক্রম শুরু করছি। শিক্ষার্থী শুধু বই থেকেই নয়, পারিপার্শ্বিক থেকেও শিখবে। আর এ বয়সের শিক্ষার্থীদের মেধাবী হিসেবে গণ্য করা ঠিক না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাত্র ১১-১২ বছরের শিশুদের মেধা নিরূপণ করা যায় না। ১৬ বছরের পরে এটা করা হয়। এর আগে তা করা হলে তা যৌক্তিক ও অনৈতিক। উন্নত দেশগুলোতেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করে। উপমন্ত্রী আরো বলেন, তাই কেউ যদি গুটিকয়েক স্কুলে ভর্তি হতে না পারলে মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছে বলে, তা ঠিক না। এটি বলা হলে তাদেরকে আবারো পরীক্ষা ও বইয়ের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে। আমাদের এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ভর্তি ফি ছাড়া অন্য কোনো ফি নেয়া যাবে না : সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির সময় ভর্তি ফি ছাড়া অন্য কোনো ফি নেয়া যাবে না। গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। তবে টিউশন ফি ও অত্যাবশ্যকীয় বেসরকারি কর্মচারী ও কম্পিউটার ফি নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে আগে থেকেই।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা নতুন করে ভর্তি হবে, তাদের ভর্তি ফি নেয়া যাবে। তবে ভর্তির সাথে বার্ষিকসহ অন্যান্য ফি নেয়া যাবে না। আর নতুন ক্লাসে যারা উত্তীর্ণ হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রেও বার্ষিক চার্জহ অন্য ফি নিতে পারবেন না। তবে করোনার পর যদি স্বাভাবিক অবস্থা আসে, তখন যেসব কার্যক্রম করা যাবে, সেই সাপেক্ষে ওইসব কার্যক্রমের ফি নিতে পারবেন।



আরো সংবাদ