২২ জানুয়ারি ২০২১
`

জাপান সাগরে মার্কিন রণতরীকে রুশ যুদ্ধজাহাজের ধাওয়া

-

জাপান সাগরে রাশিয়ার সমুদ্রসীমার ভেতর ঢুকে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ারকে রুশ যুদ্ধজাহাজ ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। তবে তাদের এই দাবি অস্বীকার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার ইউএসএস জন ম্যাককেইন নামের ওই মার্কিন নৌযানটি পিটার দ্য গ্রেট গালফ সমুদ্রসীমার ২ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়ার পর ধরা পড়ে বলেও অভিযোগ করেছে রাশিয়া। বিবিসি ও সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি টের পেয়ে রুশ নৌযান অ্যাডমিরাল ভাইনোগ্রাদভ প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করে। এর পরও রুশ সমুদ্রসীমা না ছাড়লে তারা ইউএসএস ম্যাককেইনকে আঘাত করারও হুমকি দেয়। হুমকির পর মার্কিন নৌযানটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ফিরে যায় বলে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
রাশিয়ার এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। জাপান সাগরে তাদের নৌযান অন্যায় কিছু করেনি এবং তাদেরকে ‘তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি’ বলেও দাবি করেছে তারা। জাপান সাগরে জাপান ও রাশিয়া ছাড়াও দুই কোরিয়ার সমুদ্রসীমা আছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের যুদ্ধজাহাজ অ্যাডমিরাল ভাইনোগ্রাদভ আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চ্যানেল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজটিকে ‘বিনা অনুমতিতে সমুদ্রসীমার ভেতর ঢুকে পড়ায় সম্ভাব্য আঘাতের ব্যাপারে’ সতর্ক করেছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর সপ্তম বহরের মুখপাত্র লেফটেনেন্ট জো কেইলি বলেছেন, “এ বিষয়ে রুশ ফেডারেশনের বিবৃতি একেবারেই মিথ্যা। ইউএসএস জন এস ম্যাককেইনকে কোনো দেশের সমুদ্রসীমা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি”। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই কাউকে উসকানি দেবে না বা সমুদ্রে মিথ্যা হয়রানির কথা স্বীকার করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সমুদ্রে একে অপরের যুদ্ধজাহাজকে ধাওয়া দেয়ার ঘটনা বেশ বিরল। তবে গত বছর অ্যাডমিরাল ভাইনোগ্রাদভ পূর্ব চীন সাগরে মার্কিন একটি ক্রুজারের সাথে সংঘর্ষে প্রায় জড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার জন্যও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।
জাপান সাগরে রাশিয়ার পাশাপাশি জাপান এবং কোরিয়ারও সমুদ্রসীমা রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকেই অঞ্চলটিকে নিজেদের বলে দাবি করে রাশিয়া। তবে মার্কিনিরা রুশদের এই সমুদ্রসীমা মেনে নিতে রাজি নয়। সবশেষ ২০১৮ সালে রাশিয়ার এই দাবি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মতে, রাশিয়ার উপকূল থেকে ১২ মাইল দূরের কোনো অঞ্চল আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মস্কোর অধীনে থাকার কথা নয়।

 



আরো সংবাদ