১৭ জানুয়ারি ২০২১
`
অবৈধ গ্যাস লাইনের ছড়াছড়ি : রান্নাঘরের চুলা থেকে সূত্রপাত

মোহাম্মদপুর বিহারি পট্টিতে আগুন

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বিহারি পট্টিতে আগুনের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত -

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জহুরি মহল্লার বিহারি পট্টি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে করতে সক্ষম হন। আগুনে প্রায় অর্ধশত ঘর পুড়ে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অবৈধ গ্যাস অথবা রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অপারেটর আনিসুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে জহুরি মহল্লার পাশের একটি বস্তিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর ৫টা ৫০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
উদ্ধার অভিযান দলের প্রধান তেজগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক আবুল বাশার গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া ৭টার দিকে নয়া দিগন্তকে বলেন, আগুনে বস্তির ৪০টি ঘর পুড়েছে। এর মধ্যে ২০টি বড় আর ১৫-২০টি ছোট সাইজের ঘর পুড়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর আমরা পাইনি। আগুন লাগার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগুনতো বড় আগুন। এখন কিভাবে লেগেছে সেটা তদন্ত কমিটি নির্ধারণ করবেন। তবে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করছি, বস্তিতে থাকা অবৈধ গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত্র হতে পারে, আবার রান্না ঘর ও বৈদ্যুতিক হিটার থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতি কত হলো সেটি তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়। এর আগে সোমবার রাত ১২টার দিকে মহাখালী সাততলা বস্তিতে প্রায় আড়াই শ’ কাচাঘর ও দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ঘর ও দোকান পুড়ে যাওয়ায় অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন।
গতকাল বস্তিতে খোঁজ নিতে গেলে দেখা যায়, অসহায় পরিবারগুলো পুড়ে যাওয়া সম্বল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। এর মধ্যে আগুনে জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলের ক্রোকারিজ ও কসমেটিকসের দোকানের ১০ লাখ টাকার সব মালামাল পুড়ে গেছে।
জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কসমেটিকসের দোকান ছিল এখানে। গত রাতে যখন আগুন লাগে তখন আমার দোকানটি লুট হয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, চলতি মাসেই দোকানটি শুরু করেছিলাম। দোকানে তুলেছিলাম চার লাখ টাকার কসমেটিকস সামগ্রী।’ তিনি আরো বলেন, ‘২৫ বছর আগে পরিবার নিয়ে পিরোজপুর কলাখালী গ্রাম থেকে মহাখালীর সাততলা বস্তিতে এসে প্রথম দিকে শাক-সবজির আবাদ করতাম। বর্তমানে ছেলে আর আমি দু’টি দোকান দিয়ে ব্যবসায় করছিলাম। আমার ছিল ক্রোকারির দোকান। আমার দোকানে মাল ছিল প্রায় ১০-১১ লাখ টাকার। প্রায় সবই পুড়েছে। যা অবশিষ্ট আছে, তাও আগুনের তাপে নষ্ট হয়ে গেছে। দোকানে নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিল, তাও পুড়েছে। ১১ হাজার টাকা দোকান থেকে নিতে পেরেছিলাম। পরিবার নিয়ে এখন পথে বসে গেলাম। কিভাবে চলবো?’ সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি ও সরকার যদি আমাদের সাহায্য করে, তাহলে আবারো ছেলে আর আমি মিলে কিছু একটা করার চেষ্টা করতাম।’ শুধু জাহাঙ্গীর বা তার ছেলের দোকান নয় এ সময় আগুনে ২০০ ঘর পোড়ার সাথে সাথে ৩৫টি দোকান পুড়ে যায়।



আরো সংবাদ