০২ ডিসেম্বর ২০২০

নতুন শিক্ষাবর্ষে বই উৎসব বাতিল

আরো দুই সপ্তাহ বাড়ল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি
-

করোনার কারণে আসন্ন নতুন শিক্ষাবর্ষের বই উৎসব হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের নতুন ক্লাসের নতুন বই স্কুলে স্কুলে পৌঁছে দেয়া হবে। একই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরো দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি নতুন এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী আরো জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝির দিকে পরিস্থিতির বিবেচনায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খুলে দেয়ারও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির ওপরে।
এর আগে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও কয়েক দফায় এই ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। গতকাল ছুটি আরো বাড়িয়ে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কিন্ডার গার্টেন স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়Ñ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেনÑ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মাহাবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো: আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। এ সময় আমাদের মনিটরিং কাজ চলবে। দুই সপ্তাহ পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্টদের সাথে বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির জন্য গত মার্চ মাস থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ ছুটি নতুন করে আরো ১৪ দিন বাড়ানো হচ্ছে। এরপর সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া যায় কি না, তা-ও ভেবে দেখা হচ্ছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ চাইলে ভর্তি পরীক্ষা সশরীরে নিতে পারেন। একটি স্বার্থের কথা চিন্তা না করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে আগে দেখতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডা: দীপু মনি বলেন, সবাই যদি সশরীরে পরীক্ষা নেয়া শুরু করেন, তবে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে তা ভেবে দেখা হবে। সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট কমবে ও সময় ব্যয় কম হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, যেহেতু উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ছোট নয়, তাই কিভাবে এগুলো খুলে দেয়া যায় সেসব বিষয় নিয়ে ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজনে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনের শিক্ষার্থীদের ভাগ করে বসিয়ে যদি ক্লাস নেয়া যায়Ñ এমন নানা ধরনের ভাবনা আমাদের রয়েছে। সময় অনুযায়ী সব সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।
করোনার কারণে ক্লাস পরীক্ষা বাতিল হলেও এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকার কী ভাবছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি এসএসসি পরীক্ষা পেছাতে হবে না। তবুও আমরা প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি বিবেচনা করছি। আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে। তাদের যদি আরো কিছু ঘাটতি থাকে তা বিশেষ পরিচর্যার মাধ্যমে পূরণের উদ্দেশ্যেই আমরা সীমিত পরিসরে ক্লাস করানোর কথা চিন্তা করছি। তবে, সব কিছুই পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো একভাবে মূল্যায়ন করেই শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হবে। করোনাভাইরাস থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাক নির্বাচনী বা নির্বাচনী পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। যদিও পরিস্থিতি বিবেচনায় নভেম্বরে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা আছে। সে সময় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। তা ছাড়া নানাভাবে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেসমেন্টের চেষ্টা চলছে। সার্বিক বিবেচনায় মূল্যায়ন করেই এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স, বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিকের ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন অনার্সের শিক্ষার্থীও কম। অপর দিকে কারিগরিরও কম। তাই সীমিত আকারে তাদের পরীক্ষা নেয়া যায় কি না তা বিবেচনা করছি। যেহেতু এ পরীক্ষাগুলোর সাথে তাদের কর্মজীবন জড়িত, তাই পরীক্ষাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাব তারা যেন পরীক্ষার জোর প্রস্তুতি নেন। অনার্সের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বাতিল করা হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। নেয়া হবে না বার্ষিক পরীক্ষাও।
শিক্ষার্থীদের ঘরে থাকার নির্দেশ : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে করোনা সংক্রামণ থেকে সুরক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসস্থানে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ থাকবে। এই সময়ে নিজেদের এবং অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রামণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসস্থানে থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সময়ে সময়ে জারি করা নির্দেশনা ও অনুশাসনগুলো শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকরা নিশ্চিত করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে নজর রাখবেন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতে বাসস্থানে অবস্থান করে নিজের পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করবেন।


আরো সংবাদ