২৭ নভেম্বর ২০২০
নয়া দিগন্তের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সুধীবৃন্দ

দেশের কল্যাণে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে

নয়া দিগন্তের ১৭তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা : নয়া দিগন্ত -

নয়া দিগন্তের ১৭তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে সীমিত পরিসরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, পাঠকের চাহিদা পূরণে সত্য ও সুন্দরকে অবলম্বন করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখতে হবে। দেশপ্রেমকে মূলমন্ত্র করে নয়া দিগন্তকে হতে হবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের মুখপত্র। এ দেশের মানুষই হবে নয়া দিগন্তের প্রেরণা। দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন সেটিকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।
নয়া দিগন্তের বোর্ডরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন। উপস্থিত থেকে এবং অনলাইনে বক্তব্য রাখেন দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের বোর্ড চেয়ারম্যান সাবেক সচিব শাহ্ আব্দুল হান্নান, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এমসি চেয়ারম্যান কাজী হারুন অর রশীদ, প্রকাশক শামসুল হুদা এফসিএ, সাবেক এমডি ও পরিচালক শিব্বির মাহমুদ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সালাউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাদেক ভূঁইয়া, ডেপুটি এডিটর মাসুমুর রহমান খলিলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পত্রিকার সাংবাদিক, পাঠক ও শুভাকাক্সক্ষীদের শুভেচ্ছা জানান। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য প্রকাশে পত্রিকাটি আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। তিনি নয়া দিগন্তের সমৃদ্ধি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির চেয়ারম্যান আলহাজ খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির সভাপতি মঞ্জুর হোসেন ঈসা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের বোর্ড চেয়ারম্যানসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন সঙ্কুচিত। শুধু কথা বলার কারণে এখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়। হয়রানি করা হয়। দেশে আমরা এখন এক কঠিন দুঃসময় অতিবাহিত করছি। শাসক আজ শোষকে পরিণত হয়েছে। যাদের ওপর গণতন্ত্র রক্ষা করার দায়িত্ব তারা আজ সেটিকে ধ্বংস করার কাজ করছে। তারা নিজেরাই বলছেন, গণতন্ত্র আজ তাদের কাছে প্রায়োরিটি নয়।
তিনি বলেন, দেশে কার্যত এখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলছে। গণতন্ত্রের মুখোশ পরে একদলীয় শাসন চলছে। আগামীতে গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই তা কঠিন পরিস্থিতিতেও চালিয়ে যেতে হবে।
নয়া দিগন্তকে প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠতা দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্রের জন্য আপনাদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের এ মুহূর্তে তিনি আপনাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানান।
বিএনপি মহাসচিব গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ যাত্রাপথে নয়া দিগন্তকে সহযাত্রী হিসেবে পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি পত্রিকার সাংবাদিক পাঠক শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে মোবারকবাদ জানান।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নয়া দিগন্তের ওপর পাঠকরা আস্থা রেখেছেন। পত্রিকাটির সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে পাঠক সাধুবাদ জানিয়েছে। তিনি পত্রিকা প্রকাশনার সাথে জড়িত সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ১৭তম বর্ষে পদার্পণ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ যাত্রা তারুণ্যের। এ যাত্রা নতুনত্বের।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জাতির আজ দুর্ভাগ্য যে দেশে এখন নৈতিকতার প্রকট এক সঙ্কট চলছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে নৈতিকতা থেকে পৃথক করে ফেলার কারণেই আজ এই বিধ্বংসী সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভাগ্য দেশের মিডিয়াতেও এর প্রভাব বিরাজমান। নয়া দিগন্তকে এ ক্ষেত্রে পৃথক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় এই জন্মভূমিতে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হবে। নিরাপদ সুশিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে নয়া দিগন্ত নিশ্চয়ই সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একসময় বেশির ভাগ পত্রিকা প্রকাশের পেছনে একটি ভিশন থাকত। দেশ থেকে অবক্ষয় অনৈতিকতা দেউলিয়াপনা রোধ করা গণমাধ্যমের কাজ ছিল। এখন আমরা সে স্বপ্নগুলো দেখতে পাই না। তিনি নয়া দিগন্তের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
নয়া দিগন্তের বোর্ড চেয়ারম্যান শাহ্ আব্দুল হান্নান বলেন, আজকের এই দিনে পত্রিকার পাঠক শুভানুধ্যায়ী অনুরাগী সাংবাদিকসহ সবার প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। তিনি বলেন, অতীতে দেশে প্রকাশিত পত্রপত্রিকাগুলোতে অতিরঞ্জিত খবর প্রকাশ হতো না। কিন্তু এখন সব কিছুকে রাঙিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে দেখা যায়। নয়া দিগন্ত এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি সবাইকে পত্রিকাটির সাথে থাকার আহ্বান জানান।
দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের এমডি কাজী হারুন অর রশীদ বলেন, নয়া দিগন্ত বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের পত্রিকা। এ দেশের মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণই আমাদের কাম্য। সত্য প্রকাশ ও বিকাশে আমাদের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। এ দেশের মানুষই আমাদের কর্মের প্রেরণা।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহর অপরিসীম করুণায় নয়া দিগন্ত এগিয়ে যাচ্ছে। সব সঙ্কটে আমরা পাঠক শুভানুধ্যায়ীদের সাড়া পেয়েছি। আমরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রকাশক শামসুল হুদা এফসিএ বলেন, শুরু থেকেই নয়া দিগন্তের বিঘোষিত নীতি ছিল সংবাদ ও ভাষ্যকে আমরা এক করব না। সংবাদের মধ্যে কোনো সংযোজন কিংবা বিযোজন আমরা ঘটাবো না। এ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নয়া দিগন্ত আজো অবিচল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ওপর ভরসা করে নয়া দিগন্ত এগিয়ে চলেছে। ইনশা আল্লাহ আগামীতেও আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
পরিচালক শিব্বির মাহমুদ বলেন, নয়া দিগন্ত এখন একটি পরিপক্ব সময়ে উপনীত হয়েছে। এ জন্য আমাদের আরো বেশি যতœশীল ও সতর্ক হতে হবে। মানুষের হৃদয়ে স্থান করার জন্য যা প্রয়োজন আমাদের তাই করতে হবে। তিনি বলেন, যারা নয়া দিগন্তকে পছন্দ করেন আবার যারা অপছন্দ করেন আমরা সবাইকে সাধুবাদ জানাই। যারা সমালোচক তারাই আমাদের সঠিকভাবে চলতে প্রেরণা জোগান।
সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, দক্ষ সংবাদকর্মীরাই নয়া দিগন্তের প্রাণ। পাঠকের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন থাকাটা খুব কঠিন এক কাজ। নয়া দিগন্ত নিরন্তর সংগ্রাম করছে টিকে থাকার। সত্যকে আঁকড়ে ধরার।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবর বলেন, পাঠক শুভানুধ্যায়ীদের অনুপ্রেরণা আমাদের চলার পথকে সহজ করবে। এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাদেক ভূঁইয়া আগামীতেও পত্রিকার পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ডেপুটি এডিটর মাসুমুর রহমান খলিলী নয়া দিগন্তের যাত্রাপথে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান।
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দেশের খেটেখাওয়া মানুষ আজ খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছে। দেশের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে নয়া দিগন্ত ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাকওয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সবাইকে নিয়ে দোয়া করেন।
ফুলেল শুভেচ্ছা : নয়া দিগন্তের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনভর পত্রিকা কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। নয়া দিগন্ত কার্যালয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান, এনএপির ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, মোহাম্মদ কাজল ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম শেকুল, নয়ন আল আমীন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিউদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন সিরাজী, অধ্যাপক মাওলানা আবদুল জলিল, অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হক, জিয়া পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, গিয়াস উদ্দিন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, প্রচার সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দীন ইকরাম, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি যুবনেতা আবু নাসের রহমাতুল্লাহ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক জাফর ইকবাল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজান চৌধুরী, কল্যাণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, নির্বাহী সদস্য কামরুজ্জামান বাবলু, সায়ীদ আবদুল মালিক, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্রাব) সহসভাপতি মোরছালীন বাবলা, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু, দফতর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম রাজী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষে প্রচার সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, তথ্য সম্পাদক ফখরুল আলম, সহকারী প্রচার সম্পাদক এ আর মানিক, শিবির নেতা আফতাবুজ্জামান, তমদ্দুন মজলিসের নেতৃবৃন্দ, সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি, ঢাকা জেলা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি, এ ভূঁইয়া সংবাদ পরিবহন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা জেলা প্রতিনিধি রাকিব হোসেন ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
জাতীয় ইমামসমাজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা বেলায়েত হোসাইন আল-ফিরোজীর নেতৃত্বে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চকবাজার থানা সংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাফর ইবনে আলী ও নিউ মার্কেট থানা সেক্রেটারি মাওলানা সানাউল্লাহ খান প্রমুখ।


আরো সংবাদ