২৭ নভেম্বর ২০২০

ফ্রান্সে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশে ক্ষুব্ধ মুসলিম বিশ্ব

মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করছেন ম্যাক্রোঁ : ইমরান খান; ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন : এরদোগান
-

মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষ নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কঠোর সমালোচনা করেছেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা। তারা বলেছেন, ম্যাক্রোঁ আমাদের নবীর কার্টুন প্রদর্শনে উৎসাহ দেয়ার মাধ্যমে ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, মোহাম্মদ সা:-এর কার্টুন প্রদর্শনে উৎসাহ দেয়ার মাধ্যমে ম্যাক্রোঁ ইচ্ছা করেই বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত করছেন। এ ব্যাপারে ইমরান খান নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন-প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ পরিষ্কারভাবে কিছু না জেনেই ইসলাম ও আমাদের নবীর কার্টুন প্রদর্শনে উৎসাহ দেয়ার মাধ্যমে ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
তিনি বলেন, এটা দুর্ভাগ্য যে, যারা সহিংসতা ছড়ায় সেসব মুসলিম, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী বা নাৎসি আদর্শবাদীদের পরিবর্তে তিনি ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করে ইসলাম ভীতি ছাড়ানোয় উৎসাহ দিচ্ছেন। এটা দুঃখজনক যে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ তার নিজের জনগণসহ মুসলিমদের ইচ্ছা করে উসকে দেয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
লেবাননের দারুল ইফতার মহাসচিব আমিন কুরদি এক বিবৃতিতে জানান, মহানবী মুহাম্মদ সা:-এর প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর কটূক্তি মানুষের মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াবে। ফ্রান্সে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ নিয়ে কুয়েতেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কুয়েতের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান মারজুক আল গানেম। এক সংবাদ সম্মেলনে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ইসলামসহ বিশ্বের সব ধর্ম ও বিশ্বাসের অবমাননা বন্ধে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
স্বাধীনতার নামে চরমপন্থা প্রতিরোধে মুসলিম বিশ্বের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ আল ফজল। ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২৫-২৯ অক্টোবর ফ্রান্স-কাতার সাংস্কৃতিক সপ্তাহ পালন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়। তা ছাড়া ফ্রান্সের সব ধরনের পণ্য বর্জন শুরু করেছে কাতারের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি আল মিরাহ কনজিউমার গুডস। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ থামবে না বলে ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক শুরু হয়। এরপর কাতার ও কুয়েতসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের উৎপন্ন পণ্য বর্জন শুরু করেছে।
ইসরাইলে বিক্ষোভ : ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা:-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না বলে ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের প্রতিবাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ইসরাইলের আরব নাগরিকরা। প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারীর মাস্ক পরে ইসরাইলের ফ্রান্স দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ ছাড়া শনিবার মাগরিবের নামাজের পর ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবের জাফা জেলাতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেয়া আমিন বুখারি নামের একজন বলেন, মহানবী ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র জিনিস। তাকে অসম্মান করা মানে পুরো মুসলিম জাতিকে অসম্মান করা।
ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন : এরদোগান
রয়টার্স জানায়, মুসলমান ও ইসলাম ধর্মের প্রতি মনোভাবের জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। শনিবার কায়সারি শহরে নিজ দল একে পার্টির এক প্রাদেশিক সমাবেশে ফরাসি প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে এ কথা বলেন এরদোগান। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্লাসে কার্টুন প্রদর্শনের জেরে এক ইসলামপন্থী উগ্রবাদী কর্তৃক একজন ইতিহাস শিক্ষককে হত্যার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে আছে ফ্রান্স। ওই ঘটনার পর কথিত ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, এই বিচ্ছিন্নতাবাদ ফ্রান্সের মুসলমান সম্প্রদায়গুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। মহানবীর ব্যঙ্গচিত্রের প্রদর্শন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান।
একে পার্টির এক সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, ম্যাক্রোঁ নামের এই লোকটির ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে সমস্যা কী? মানসিক পর্যায়ে ম্যাক্রোঁর চিকিৎসা দরকার। তিনি বলেন, যা বলা যেতে পারে তা হলো একজন রাষ্ট্রপ্রধান বিশ্বাসের স্বাধীনতা বুঝতে পারছেন না আর তিনি তার দেশে ভিন্ন বিশ্বাস নিয়ে বসবাস করা লাখ লাখ মানুষের সাথে সেইভাবে আচরণ করছেন।
এ দিকে ম্যাক্রোঁকে নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে ফ্রান্সে অবস্থানরত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, তুরস্ক ও ফ্রান্স উভয়ই পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। তবে দেশ দু’টির মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান রয়েছে। এসব ইস্যুর মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, লিবিয়া, পূর্ব ভূমধ্যসাগরের কর্তৃত্ব এবং নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলের বিরোধ।

 


আরো সংবাদ