০১ ডিসেম্বর ২০২০

বৃষ্টি ঝরিয়ে গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে গেছে

-

বৃষ্টি ঝরিয়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নি¤œচাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নি¤œচাপটি গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাংলাদেশে প্রবেশের পরে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর বৃষ্টি ঝড়িয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি শেষ পর্যন্ত লঘুচাপে পরিণত হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে আজ-কালের মধ্যে। নিম্ন চাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গভীর নি¤œচাপটি গতকাল সকাল ৯টার কিছু আগে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে কেবল নি¤œচাপে পরিণত হয়ে যায়। নি¤œচাপটি গতকাল সন্ধ্যার দিকে বঙ্গোপসাগর উপকূল অতিক্রম শেষ করে। নি¤œচাপটির প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পুরো বাংলাদেশ ছিল বৃষ্টিমুখর। আগের দিন (গত বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকাল সারাদিনই ছিল। সামান্য বিরতি থাকলেও কিছুক্ষণ পরপর আবার বৃষ্টি শুরু হয়। দেশের চার বন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত নামিয়ে গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকেই ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আজ হয়তো কোনো সতর্ক সঙ্কেতই থাকবে না।
নি¤œচাপের প্রভাবে ভারী বর্ষণে দেশের কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। রাজধানীরই কোনো কোনো রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বত্র ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় খেপুপাড়ায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূল ঘেঁষা জেলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কানাডা থেকে আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপিয়ান স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত আবহাওয়ার তথ্য ও ওই সব দেশের আবহাওয়া অফিসের মডেল বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, গভীর নি¤œচাপটি স্থল ভাগে প্রবেশের আগে বায়ু প্রবাহের দিক উত্তর-পূর্ব দিক থাকলেও স্থলভাগে প্রবেশের পর তা কিছুটা বাঁক নিয়ে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে নি¤œ চাপের কারণে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতের মূল অংশ শুরুতে ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করলেও গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টিপাত পূর্ব-দক্ষিণ দিকে সরে গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে এবং তা অব্যাহত থাকবে আরো বেশ কিছুক্ষণ। উপরে উল্লেখিত কারণে পূর্বে পূর্বাভাসকৃত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ঢাকা বিভাগে কিছুটা কমে গেছে। গত রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সাতক্ষীরা খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও এদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নি¤œাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছিল। আর শনিবারও উপকূলবর্তী কোনো কোনো এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে বিচরণকৃত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোতে গভীর সাগরে বিচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ