০১ ডিসেম্বর ২০২০
আক্রান্ত বিশ্ব

একদিনে আক্রান্ত পাঁচ লক্ষাধিক

২ লাখ শনাক্ত ইউরোপে; দ্বিতীয় ধাক্কায় শ্রীলঙ্কায় কারফিউ; ফ্রান্সে আক্রান্ত ১০ লাখ ছাড়াল; ভ্রমণ সতর্কতা জারি জার্মানির
-

আক্রান্ত : ৪,২১,৪৭,৭০৭ মৃত্যু : ১১,৪৪,৮০৭
দেশ আক্রান্ত মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্র ৮৬,৭৩,০৫৬ ২,২৮,৫৪৯
ভারত ৭৭,৭২,৬৪৯ ১,১৭,৪৩৬
ব্রাজিল ৫৩,৩২,৬৩৪ ১,৫৫,৯৬২
রাশিয়া ১৪,৮০,৬৪৬ ২৫,৫২৫
স্পেন ১০,৯০,৫২১ ৩৪,৫২১
আর্জেন্টিনা ১০,৫৩,৬৫০ ২৭,৯৫৭
ফ্রান্স ৯,৯৯,০৪৩ ৩৪,২১০
কলম্বিয়া ৯,৯০,২৭০ ২৯,৬৩৬
পেরু ৮,৭৯,৮৭৬ ৩৩,৯৮৪
মেক্সিকো ৮,৭৪,১৭১ ৮৭,৮৯৪
সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয় হাজার ৪৭১ জন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ২২ হাজার ৩৮৯ জন। করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত বিশ্বের দুই শ’ ১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা চার কোটি ২০ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৭ জন। আর এ মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৩৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন কোটি ১২ লাখ ২৬ হাজার ৪১৮ জন।
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ লাখ ৬১ হাজার সাত শ’ ২২ জন এবং মারা গেছেন দুই লাখ ২৮ হাজার ৩৮১ জন। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ লাখ ৬১ হাজার ৩১২ জন। তাদের মধ্যে এক লাখ ১৭ হাজার ৩৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ লাখ ৩২ হাজার ৬৩৪ জন, মারা গেছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৯৬২ জন। মেক্সিকোতে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৭ হাজার ৮৯৪ জন। আর এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আট লাখ ৭৪ হাজার ১৭১ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩০৬ জন। আর মৃতের সংখ্যা ২৫ হাজার ২৪২ জন। স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৯০ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজার ৫২১ জনের। খবর বিবিসি, ওয়ার্ল্ডোমিটারস, রয়টার্স, সিএনএন, আল-জাজিরা, এপি, দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপির।
ভ্রমণসতর্কতা জারি জার্মানির : করোনাভাইরাসে পর্যুদস্ত ইউরোপে জার্মানি তাদের আশপাশের দেশগুলোতে ভ্রমণসতর্কতা জারি করেছে। কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বাড়ায় জার্মানির অবস্থা নাজেহাল। দেশটিতে রেকর্ড ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার প্রথমবারের মতো একদিনে রেকর্ড ১০ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং ইতালির রোমসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ভ্রমণসতর্কতা জারি করেছে বার্লিন।
ইউরোপে একদিনে শনাক্ত ২ লাখ : ইউরোপে একদিনেই দুই লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। দশ দিনের ব্যবধানে মহাদেশটিতে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে। ইউরোপে গত ১২ অক্টোবর প্রথমবারের মতো একদিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ অতিক্রম করেছিল। বৃহস্পতিবার তার দ্বিগুণ হলো। বৃহস্পতিবার ইতালি, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভেনিয়া ও বসনিয়ার মতো ইউরোপের মধ্য দক্ষিণ ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক দেশেই একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বে যত কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তার ১৯ শতাংশই ইউরোপের। নতুন করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর ২২ শতাংশেরও সাক্ষী হয়েছে এই মহাদেশ। ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার রেকর্ড ৪১ হাজার ৬২২ জনের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে। নেদারল্যান্ডসে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রেকর্ড ৯ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
মাস্ক খুললে সংক্রমণের ঝুঁকি ২৩ গুণ : ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজির এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় নাক বা মুখ থেকে বাতাসে যে কণা ছড়ায় মাস্ক না পরে এসব করলে তা অন্যকে সংক্রমিত করার ঝুঁকি ২৩ গুণ বাড়িয়ে তোলে। হাঁচি বা কাশির পর বাতাসে ড্রপলেট ছড়ানোর মাধ্যমে ‘কফ ক্লাউড’ তৈরি হয় এবং তা পাঁচ থেকে আট সেকেন্ড থাকে। মাস্ক পরা থাকুক বা না থাকুক, এর পর আর সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না। পাঁচ থেকে আট সেকেন্ড পর আর বাতাসে ভাসমান অবস্থায় থাকতে পারে না ড্রপলেট। মাস্ক পরা আর না পরা, এই দুই অবস্থায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য ঘটে যেতে পারে পরিস্থিতিতে।
সংক্রমণে ক্ষমা চাইলেন চেক প্রধানমন্ত্রী : সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় চেক রিপাবলিকের প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন। তাও পাঁচবার। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনার প্রকোপ মোকাবেলার মুখে পড়েছেন চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিস। স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তিনি ও তার সরকার করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে কিছু ভুল করেছেন। কঠোর লকডাউন মেনে চলার জন্য দেশের মানুষকে অনুরোধ করেছেন তিনি। চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিস করোনা মোকাবেলায় নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নতুন বিধিনিষেধের জন্য দুঃখিত। এর প্রভাব পড়বে ব্যবসায়ী, নাগরিক ও কর্মীদের ওপর। আমি আরো দুঃখিত এই কারণে যে আমার নেতৃত্বের কারণেই এটা ফের ঘটছে কারণ আমি ভাবতে পারিনি আবারো এটা ঘটতে পারে।’
রেমডেসিভিরের পূর্ণ অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রে : করোনায় আক্রান্ত সব রোগীকে হাসপাতালে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির ব্যবহারের পূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। ওষুধ নিয়ন্ত্রক এই সংস্থাটি বলছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, রেমডেসিভির ব্যবহারে করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার সময় গড়ে পাঁচ দিন কমে আসে। ইবোলোর ওষুধ রেমডেসিভিরের ব্রান্ডনেম ভেকলুরি প্রসঙ্গে এফডিএ বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে প্রথম কোনো ওষুধ হিসেবে এফডিএর অনুমোদন পেল ভেকুলারি।’
প্লাজমা চিকিৎসায় কমছে না শঙ্কা : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে ওঠা লোকদের রক্ত থেকে নেয়া প্লাজমা আক্রান্তদের দিলে তাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা কিংবা মৃত্যুর শঙ্কা কমছে না। ভারতে নতুন এক গবেষণায় গবেষকরা এ ধরনের ফল লক্ষ করেছেন। করোনায় আক্রান্ত চার শতাধিক লোকের শরীরে প্লাজমা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। শুক্রবার চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল বিএমজেতে এ ব্যাপারে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়, প্লাজমা চিকিৎসায় হালকা মাত্রার কার্যকারিতা দেখা গেছে। এই রোগ থেকে সেরে ওঠার জন্য এটা যথেষ্ট নয়।
করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় শ্রীলঙ্কায় কারফিউ : ‘পার্ল অব ইন্ডিয়ান ওশান’ বা ‘ভারত মহাসাগরের মুক্তা’ নামে পরিচিত শ্রীলঙ্কা করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় বিপর্যস্ত। রাজধানীসহ বেশ কিছু জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। পর্যটন ও সামুদ্রিক মৎস্যের ওপর নির্ভরশীল দেশটিতে বিদেশী ভ্রমণকারীদের আসা-যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রধান প্রধান মাছের আড়ত ও বাজার। কলম্বো এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত সতর্কতা। সমুদ্র-তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বাইরের নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়েও চলছে কঠোর লকডাউন।
ফ্রান্সে আক্রান্ত ছাড়াল ১০ লাখ : করোনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ফ্রান্স কিছু কিছু শহরে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। ফ্রান্সে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৬৯ জনে, যা বৈশ্বিকভাবে সপ্তম অবস্থানে। করোনা ঠেকাতে ফ্রান্স অন্তত ৯টি শহরে রাত্রিকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
উপসর্গহীনেরাই সুপার স্প্রেডার : কোভিড হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উপসর্গহীন আক্রান্তের সংখ্যা জানতে যৌথভাবে সমীক্ষা করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন এবং বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ। সেই সমীক্ষাতে দেখা গিয়েছে, প্রত্যক্ষভাবে কোভিড ওয়ার্ডের পরিষেবার সাথে যুক্ত নন, এমন ৩০ শতাংশ গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সমীক্ষার ফল বেরনোর আগে সে বিষয়ে তারা টেরও পাননি। কোভিড হাসপাতালে সাধারণত স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতন থাকেন। তারপরও উপসর্গহীনদের হাত ধরে কোভিড হাসপাতালে সংক্রমণের মাত্রা সুপার-স্প্রেডারের কাজ করতে পারে।
বেলজিয়ামের আক্রান্ত উপপ্রধানমন্ত্রী আইসিইউতে : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছেন বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী সোফি উইলমেস। উইলমেস সজাগ আছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি তার টিমের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। বুধবার রাতে উইলমেসকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এর মাত্র কয়েকদিন আগে দেশটিতে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন বেলজিয়ামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ভ্যানডেনব্রুক। তিনি বলেন, দেশটির ওয়ালোনিয়া অঞ্চল এবং রাজধানী ব্রাসেলসে ‘সুনামির কাছাকাছি’ পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে করোনার প্রাদুর্ভাব। ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বেলজিয়ামে প্রতিদিন ১০ লাখে ৮১১ জন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
হলদে ধূলিকণায় উত্তর কোরিয়ায় সতর্কতা : চীন থেকে উড়ে আসা হলদে বর্ণের ধূলিকণার সাথে করোনাভাইরাসও আসতে পারে আশঙ্কায় নাগরিকদের ঘরে থাকতে সতর্ক করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সরকারি এই সতর্ক বার্তার পর বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তাঘাট কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে। মৌসুমি ধূলিকণার সাথে করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা জানা যায়নি। কোরিয়ান সেন্ট্রাল টেলিভিশন (কেসিটিভি) বিশেষ আবহাওয়া সতর্কবার্তায় আগামী কয়েক দিন দেশটিতে হলুদ বর্ণের ধূলিকণার প্রবাহের ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়। পাশাপাশি দেশজুড়ে বাড়ির বাইরের নির্মাণকাজের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়।


আরো সংবাদ