০১ ডিসেম্বর ২০২০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

শেষ বিতর্কে জ্বলে উঠেছেন জো বাইডেন

-

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার শেষবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট। এতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে উঠে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন। ডিবেটের পর চূড়ান্ত হিসাব নিকাশ বসছেন মার্কিন ভোটাররা। বিতর্কে করোনা ইস্যুতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ প্রাধান্য পায়। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিদেশী হস্তক্ষেপ, উত্তর কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, ইমিগ্রেশন, স্বাস্থ্য সুবিধা নিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন দুই প্রার্থী। ডিবেটে জনমত জরিপে বিজয়ী হন ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী জো বাইডেন। তার বক্তব্যের মূল কথাই ছিল- বিভক্তি নয়, বরং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে জাতীয় সংহতি পুনরুদ্ধারের কাজ করবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সময় গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় টেনিসি অঙ্গরাজ্যেও নাশভিলের বেলমন্ট ইউনিভার্সিটিতে চূড়ান্ত বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কের সঞ্চালক ছিলেন এনবিসি নিউজের সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েকার। বিতর্ক দেখা লোকজনের মতামতের ভিত্তিতে ৫৩ শতাংশ লোক মনে করেন এ বিতর্কে জো বাইডেন বিজয়ী হয়েছেন। অন্য দিকে ৩৯ শতাংশ লোক মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিতর্কে জয়ী হয়েছেন।
করোনায় জীবনধারণ : করোনার মধ্যে জীবনধারণ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমরা শিখছি কিভাবে করোনার মধ্যে বসবাস করতে হয়। জবাবে জো বাইডেন বলেন, জনগণ শিখছে কিভাবে করোনায় মৃত্যুবরণ করতে হয়। জো বাইডেন আরো বলেন, দুই লাখ মানুষের মৃত্যুর দায়িত্ব যিনি নিতে পারেন না, তার দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। এ সময় তিনি মহামারী মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা মোকাবেলায় তেমন কোনো পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি। তবে তিনি লকডাউনের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
নির্বাচনে বিদেশী হস্তক্ষেপ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি কংগ্রেসে এবং জাতীয় নিরাপত্তার আলোচনায় প্রভাব বিস্তার করে। বিষয়টি নতুন মাত্রা পায় শেষ বিতর্কে। এবার বিদেশী হস্তক্ষেপে নাম আসে ইরান ও চীনের। এ প্রসঙ্গে জো বাইডেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, আমি নির্বাচিত হলে তাদেরকে অবশ্যই এর মূল্য দিতে হবে। তার ভাষায় চীন, রাশিয়া ও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলা করছে। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও তিনি এ ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন বলে জানান।
উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক : উত্তর কোরিয়ার সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের উষ্ণ সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন দুই প্রার্থী। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং সেখানে কোনো যুদ্ধ নেই। জবাবে জো বাইডেন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনের পিঠ চাপড়ে কথা বলতে পারেন। কিন্তু তার ফল হচ্ছে উত্তর কোরিয়া যে কোনো সময়ের চেয়ে মিসাইল উৎপাদনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সহজে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইমিগ্রান্ট ইস্যু : ইমিগ্রান্ট ইস্যুতেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কড়া সমালোচনা করেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি বলেন, মেক্সিকো সীমান্তে প্রায় পাঁচ শ’ শিশুকে তাদের পিতা-মাতা থেকে আলাদা করা হয়েছে। এখন তারা তাদের পিতা-মাতাকে খুঁজে পাচ্ছে না। এ শিশুগুলো এখন কোথায় দাঁড়াবে। আমরা জাতি হিসেবে সব রীতিনীতি ভঙ্গ করেছি। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ওই শিশুদেরকে তাদের বাবামার কাছে ফেরাতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এসব শিশুদেরকে কিছু খারাপ লোক এ দেশে নিয়ে এসেছে। আমি চাই বৈধভাবে লোকজন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করুক। এ সময় জো বাইডেন প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসে তার ইমিগ্রেশন সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরবেন বলে জানান। বাল্য অবস্থায় পিতা-মাতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রায় ৮০ লাখ কাগজপত্রহীন ব্যক্তির বৈধতা দেয়ার ঘোষণাও দেন জো বাইডেন।


আরো সংবাদ