০৫ ডিসেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গা মানবিক বিপর্যয়রোধে বিশ্বের সহায়তা প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনের আবেদন; বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মিয়ানমারকে বেপরোয়া করে তুলেছে : বাংলাদেশ
-

রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়রোধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। রোহিঙ্গা সঙ্কট মানবাধিকারের ক্ষেত্রে একটি ট্র্যাজেডি। এই সঙ্কট থেকে বিশ্ব মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে না। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তার অর্থ জোগাতে গতকাল আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে ভার্চুয়াল এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনের আয়োজকরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের জন্য সহায়তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য চলতি বছর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ১০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছিল জাতিসঙ্ঘ। কিন্তু ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদনের অর্ধেক সহায়তাও মেলেনি। এটি রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার তহবিলে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি করেছে। করোনা মহামারী পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ২০০ মিলিয়ন ডলার বা এক হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা, ব্রিটেন ৪৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৫২৭ কোটি টাকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ৯৭ মিলিয়ন ইউরো বা ৯৭১ কোটি টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে এ সম্মেলন থেকে চলতি বছরের জন্য তিন হাজার ১৯৩ কোটি টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান বলেছেন, রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি মানবাধিকারের সঙ্কট এবং মানবাধিকারের জন্য ট্র্যাজেডি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা ও মর্যাদাসম্পন্ন প্রত্যাবাসনই এর অন্যতম প্রধান সমাধান। আর এ জন্য রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মূল দায়িত্ব মিয়ানমারের ওপর বর্তায়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভব সবকিছুই করবে। নাজুক এই জনগোষ্ঠীর মানবিক দিকটি দেখা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে আঞ্চলিক দেশগুলোকে এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। এই মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করছে।
মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সঙ্কটের টেকসই সমাধান ও রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে রাখাইনে জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর অবাধ প্রবেশাধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্র বদ্ধপরিকর।
রোহিঙ্গা সঙ্কটকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করে দক্ষিণ এশিয়া ও কমনওয়েলথ বিষয়ক ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী লর্ড তারিক আহমেদ বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি চাপ এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবকে মেনে নিয়েই বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। সঙ্কটের টেকসই সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা ও মর্যাদাসম্পন্ন প্রত্যাবাসন প্রয়োজন। মানবিক এই বিপর্যয় মোকাবেলায় ব্রিটেন অবশ্যই রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে।
আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনের প্রাক্কালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এক বিবৃতিতে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক প্রয়োজন মেটাতে এবং বাংলাদেশে করোনা মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় চার কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৫২৭ কোটি টাকার সহায়তা ঘোষণা করেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া মানুষরা অকল্পনীয় কঠিন জীবন কাটাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সহিংসতার শিকার হয়েছে। এই বর্বর কাজের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমরা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি। তিনি বলেন, ব্রিটেনের ঘোষিত নতুন সহায়তা শরণার্থীদের জীবন বাঁচাবে এবং বাংলাদেশকে করোনা মহামারীর মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় সাহায্য করবে। শরণার্থীদের দুর্ভোগ থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
ইইউর সঙ্কট মোকাবেলা সংক্রান্ত কমিশনার জেনিজ লিনের বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি মানবিক বিপর্যয়, যা রোধে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। এই সঙ্কটের টেকসই সমাধানে জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত রাখাইন পরামর্শক কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। রোহিঙ্গা সঙ্কট যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভুলে না যায়, সেজন্য সক্রিয় থাকতে হবে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় ইইউ কমিশনার চলতি বছরের জন্য ৯৬ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা ঘোষণা করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মিয়ানমারকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দায়মুক্তির ক্ষেত্রে আরো বেপরোয়া করে তুলেছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের আগস্টে সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন। মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার হয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু এখন কেউ রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নিতে চাইছে না। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের এই বিপুল বোঝা বাংলাদেশ আর বইতে পারবে না। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের সঙ্ঘাত দেখা দিয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের অবশ্যই রাখাইনে ফিরে যেতে হবে।
শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে বাংলাদেশ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে চায় না। এ জন্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের চারপাশে তারকাঁটার বেড়া দেয়া হচ্ছে। ৩৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ভাসানচরকে রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে সরকার। এই চরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়া হবে।
বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসন বিলম্বিত বা ভণ্ডুল করতে মিয়ানমার নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারের সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের আস্থায় আনতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানসহ জাতিসঙ্ঘকে ভূমিকা রাখতে হবে। সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি ২০১৭ সাল থেকে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। এই সঙ্কট যত বিলম্বিত হবে, ততই জটিল আকার ধারণ করবে। সঙ্কট নিরসনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের ইস্যুটি সমাধান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে আসিয়ানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে উল্লেখ করে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি বলেন, এই সঙ্কটের উৎসে সমাধানের ওপরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোর দিতে হবে। রাখাইন পরিস্থিতিকে ‘জটিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই সমস্যা কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তবে সঙ্কট নিরসনে সময়ের প্রয়োজন। এ জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
ভিয়েতনামের প্রতিনিধি প্রকারান্তরে মিয়ানমারকে সমর্থন করে বলেন, ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার অধিকার বিশ্বের সব দেশের রয়েছে। সংলাপের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আসিয়ান ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা, বেসরকারি এনজিও এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
রোহিঙ্গা গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে ৩৫ সংস্থার আহ্বান
রয়টার্স ও আলজাজিরা জানায়, মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীর চালানো নিপীড়ন, ধর্ষণ এবং হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তত ৩৫টি সংস্থা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘ সমর্থিত রোহিঙ্গা দাতা গোষ্ঠীগুলোর সম্মেলনের আগে এই আহ্বান জানানো হয়। বৃহস্পতিবার এই দাতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়াল এই দাতা সম্মেলন যুক্তরাজ্য, জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক ৩৫টি সংস্থা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা ঘটেছে; তাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও তরুণীদের নির্বিচারে ধর্ষণ, সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও ও হত্যার অভিযোগ উঠে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। হেগে জাতিসঙ্ঘের শীর্ষ আদালতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার অভিযোগের বিচার চলমান রয়েছে। গত জানুয়ারিতে জাতিসঙ্ঘের এই আদালত এক অস্থায়ী রায়ে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত জানান, রোহিঙ্গাদের অধিকারের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে এলেও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার। এমনকি দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতেও অস্বীকার করেন। মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক ফর্টিফাই রাইটস, রিফিউজি ইন্টারন্যাশনাল ও দ্য বার্মা রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে-সহ অন্তত ৩৫টি সংস্থা রোহিঙ্গা দাতা সম্মেলনের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেরও কাছে একটি চিঠি লিখেছে।
চিঠিতে রোহিঙ্গাদের ওপর পরবর্তী নিপীড়ন বন্ধে দুই বছর আগে রাখাইনে সামরিক বাহিনীর অভিযানকে গণহত্যার অভিপ্রায়ে চালানো হয়েছিল বলে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তায় চলতি বছরে আরও এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার চেয়েছে ইউএনএইচসিআর। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সহায়তা তহবিলে প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম অর্থ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 


আরো সংবাদ