৩০ নভেম্বর ২০২০

কাজ হারানোর শঙ্কায় বিশ্বের অর্ধেক মানুষ

ইতালিতে একদিনে শনাক্তের নতুন রেকর্ড; একদিনে ২৬৬৮৮ জন আক্রান্ত ব্রিটেনে; স্পেনে আক্রান্ত ১০ লাখ ছাড়াল; করোনায় আক্রান্ত জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-

করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। অনেক দেশেই ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কাজ হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশই ভারতীয়।
২৭টি দেশের ১২ হাজার কর্মীর ওপর ‘জব রিসেট সামিট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা প্রকাশ করে বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।
সমীক্ষাটিতে দেখা গেছে, রাশিয়ায় গড়ে প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। অন্য দিকে জার্মানিতে সেটা প্রতি চারজনে একজন। ভারতে ৫৭ শতাংশ জানিয়েছে, তারা তাদের চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এদের মধ্যে ২৫ শতাংশ রীতিমতো উদ্বিগ্ন এবং ৩১ শতাংশ মোটামুটি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পুরো বিশ্বে ৫৪ শতাংশ উদ্বিগ্ন আগামী ১২ মাসে তাদের চাকরি চলে যেতে পারে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন রাশিয়া। সেখানে এ সংখ্যা ৭৫ শতাংশ। তার পরই স্পেন। দেশটিতে ৭৩ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৭১ শতাংশ। জার্মানিতে ২৬ শতাংশ। সুইডেনে ৩০ এবং নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ শতাংশ। খবর বিবিসি, দ্য সান, রয়টার্স, ওয়ার্ল্ডোমিটারস, ডয়চে ভেলে ও এএফপির।
জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত : জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়ান্স স্পাহন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার জার্মানির স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার পর জার্মান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। মন্ত্রী বুধবার সকালেও মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছিলেন। তিনি সেখানে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিকেলে তার সর্দি দেখা দেয়। পরে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে পজিটিভ পাওয়া যায়। তিনি এখন ঘরে আইসোলেশনে আছেন।
ইতালিতে একদিনে শনাক্তের নতুন রেকর্ড : করোনাভাইরাসে আবারো আগের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর আতঙ্ক ফিরে আসছে ইতালিতে। প্রতিদিনই দেশটিতে নতুন রেকর্ড গড়ছে ভাইরাস সংক্রমণ। ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ১৯৯ জন। আক্রান্তের এ সংখ্যা ইতালিতে মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত দৈনিক হিসাবে সর্বোচ্চ এবং গত রোববারের রেকর্ড সংক্রমণ ১১,৭০৫-কেও ছড়িয়ে গেছে। এ দিন করোনাভাইরাসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় ৮৯ জন বেশি। মঙ্গলবার ইতালিতে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০,৮৭৪ জন। বুধবার সেখানে নতুন ৪ হাজার ১২৫ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তা ছাড়া, মিলান ও এর আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার জন শনাক্ত হয়েছেন। ইতালিতেই করোনায় ৩৬ হাজার ৫৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ব্রিটেনে একদিনে আক্রান্ত ২৬৬৮৮ জন : ব্রিটেনে একদিনে সর্বাধিক করোনা আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে। শুধু বুধবারেই দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৬৮৮ জন। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় পাঁচজন হাজার বেশি। মঙ্গলবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৩৩১ জন, সোমবার ১৮ হাজার ৮০৪ জন, রোববার ছিল ১৬ হাজার ৯৮২ জন। তার আগে শনিবার ছিল ১৬ হাজার ১৭১ জন, শুক্রবার ১৫ হাজার ৬৫০ জন। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ৮৯ হাজার ২২০ জন। ব্রিটেনে করোনায় বুধবার মৃত্যু হয়েছে আরো ১৯১ জনের। মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল ২৪১। সোমবার মারা যান ৮০ জন, রোববার ৬৭ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৪ হাজার ১৫৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে ৯৪ জন, ওয়েলসে ১৪ জন ও স্কটল্যান্ডে ২৮ জন।
টিকা পরীক্ষায় ব্রাজিলে স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু : যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকার ট্রায়ালে ব্রাজিলে এক স্বেচ্ছাসেবীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ব্রাজিলের স্বাস্থ্য দফতরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রাজিলিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পুরো ট্রায়াল বন্ধ করে দেয়া হবে না। এই টিকার বিপণন অংশীদার ব্রিটিশ ওষুধ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য গোপনীয়তা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নিয়মের কথা উল্লেখ করে কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মৃত স্বেচ্ছাসেবক ব্রাজিলের নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে ট্রায়ালের সমন্বয়ে সহায়তাকারী সাও পাওলো ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
স্পেনে আক্রান্ত ১০ লাখ ছাড়াল : পশ্চিম ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে স্পেনে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। বুধবার দেশটি ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৯৭৩ জন রোগী শনাক্তের ও ১৫৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। ৩১ জানুয়ারি দেশটিতে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন স্পেনে মোট রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া ও আর্জেন্টিনার পর কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ানো ষষ্ঠ দেশ হলো স্পেন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৩৬৬ জন কোভিড-১৯ জনিত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।
আক্রান্ত চার কোটি ১৪ লাখ ছাড়াল : দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তর সংখ্যা চার কোটি ১৪ লাখ ৬৯ হাজার ৬২৪। এর মধ্যে ১১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে তিন কোটি ৯ লাখ ৯ হাজার ৬৪৩ জন। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ লাখ ৮৪ হাজার ৮১৯। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৪০৯ জনের। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ লাখ পাঁচ হাজার ১৫৮। এর মধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ লাখ ৬৪৯। এর মধ্যে এক লাখ ৫৫ হাজার ৪৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৪ হাজার ৯৫২ জন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৭২৯। এর মধ্যে চার হাজার ৬৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একদিনে আক্রান্ত ৪ লাখ ৩৭ হাজার : গত একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫৫ জনের। করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার একদিনে ৬২ হাজার ৭৩৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ১২৪ জনের। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সংক্রমণে এগিয়ে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, মেক্সিকো, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে দেশে সতর্কতা : করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে ইউরোপে। দেশে দেশে নেয়া হচ্ছে সতর্কতা। দোকানপাট, মার্কেট, পাবলিক প্লেস বন্ধ করে ঘরে ফিরছেন লোকজন। আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, চেক রিপাবলিক এবং আরো অনেক দেশে কারফিউ জারি করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও করোনার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় নেয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। তৈরি রাখা হয়েছে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। লকডাউন, কারফিউ, উৎসব নিষিদ্ধকরণ, জনসমাবেশ সীমিত ও স্বাস্থ্যবিধির কঠোরতা ইউরোপ ও আমেরিকায় নতুন করে ভীতি সঞ্চারিত করেছে।
জার্মানির করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক : করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে জার্মানির পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। বৃহস্পতিবার একদিনে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১১ হাজার ২৮৭ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বুধবারে আক্রান্ত ছিল ৭ হাজার ৫৯৫ জন। মঙ্গলবার সাত হাজার ১৬৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আর মারা গেছেন ৫৬ জন। শুক্রবার রেকর্ড সংক্রমণ ঘটেছিল জার্মানিতে, সাত হাজার ৮৩০। জার্মানিতে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৫১ জন আক্রান্ত। জার্মানিতে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৯০৫ জন। স্লোভেনিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড : স্লোভেনিয়ায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে করোনায় রেকর্ডসংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। একদিনে মধ্য ইউরোপের এ দেশটিতে ৫৯ হাজার ৯৯১ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনের। ভাইরাসটিতে মোট ১৫ হাজার ৯৮২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৬ হাজার ৯২২ জন। গত ১৬ অক্টোবর স্লোভেনিয়ায় একদিনের ব্যবধানে রেকর্ড ৮৯৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়।

 


আরো সংবাদ