২৩ অক্টোবর ২০২০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

সরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ
-

আবারো বাড়ানো হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতেই মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরো বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ দিকে আগামী শিক্ষাবর্ষে ৪০ শতাংশ এলাকা কোটাসহ অন্যান্য কোটা বহাল রেখে সরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: আবুল খায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর এই তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারী করোনার কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। উল্লিখিত সময় পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
এর আগে গত বুধবার শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে ভার্চুয়াল এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর কথা জানান। এর এক দিন পরেই নতুন করে আরো এক মাস ছুটি বাড়ানো হলো। শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছিলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে বর্তমান ছুটি আরো বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিয়ে কত দিন ছুটি বাড়ানো হবে তা জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ দিকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনও বন্ধ থাকবে। এ সময়ে নিজেদের এবং অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে কওমি মাদরাসার ক্ষেত্রে এ ছুটি কার্যকর হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা ও অনুশাসনগুলো শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে কয়েক ধাপে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে নতুন করে এ ছুটি বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ : সরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর করতে নতুন এই নীতিমালায় ৪০ শতাংশ এলাকা কোটাসহ অন্যান্য কোটা বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য বয়স হতে হবে ছয় বছরের বেশি। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণীতে লটারি ও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে হবে। ভর্তির ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭০ টাকা। এসব নির্দেশনা দিয়ে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংশোধিত নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত এই নীতিমালাটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর স্কুল পার্শ্ববর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ এলাকা কোটা রেখে অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ২ শতাংশ প্রতিবন্ধী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানের জন্য ২ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে নির্ধারিত কমিটিকে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে সভা করে পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
নীতিমালায় শিক্ষার্থীর বয়স, ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময় নির্ধারণ, ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি, বিদ্যালয়সমূহ ক্লাস্টার বিভক্তিকরণ, ভর্তির আবেদন ফরম, উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ ফলাফল তৈরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
বিদ্যালয়গুলোর অবস্থান, শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে পরীক্ষা কমিটি বিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন ক্লাস্টারে বিভক্ত করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা আবেদন ফরমে পছন্দক্রম উল্লেখ করে দেবে।
ভর্তির ফরম বিদ্যালয়ের অফিসে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, ডিসি অফিস ও বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এবার ভর্তির আবেদন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ১৭০ টাকা। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত থেকে বেশি হবে না।
ভর্তি পরীক্ষার সময় ও মানবণ্টন : দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পূর্ণমান-৫০। এর মধ্যে বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫, গণিত ২০ নম্বর। ভর্তি পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা। চতুর্থ-অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পূর্ণমান-১০০। এর মধ্যে বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০, গণিত ৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা। নীতিমালায় ভর্তি পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কমিটিও করে দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ