২৩ অক্টোবর ২০২০

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

-

গত সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ, যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার, চলতি বছরের একই সময়ে এসেছে ২১৫ কোটি ডলার। এক মাসের ব্যবধানে এ অস্বাভাবিক হারে রেমিট্যান্স বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়ার পর থেকেই রেমিট্যান্স বাড়ছে। অপর দিকে, বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক মুদ্রা বিশেষ করে ডলারের মূল্য কমে গেলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে দেশে ডলারের মূল্য তেমন কমেনি। অপর দিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিদেশ থেকে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেকেই ফিরে আসছেন। দীর্ঘ দিন যাবৎ অবস্থান করার পর জমানো প্রান্তিক অংশটুকুও নিয়ে আসছেন অনেকেই। সবমিলেই রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গেল আগস্ট মাসে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে গিয়েছিল। এর আগের মাসে অর্থাৎ গত জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬০ কোটি ডলার। আগস্টে তা কমে নেমে আসে ১৯৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশে রেমিট্যান্স কমে গিয়েছিল প্রায় ৬৪ কোটি ডলার। যদিও বিগত বছরের আগস্টের তুলনায় গত আগস্টে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছিল প্রায় ৩৬ শতাংশ। এর পরের মাসেই অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সপ্রবাহ আবারো ঘুরে দাঁড়ায় ২১৫ কোটি ডলারে। করোনার প্রভাবে বিদেশ থেকে অব্যাহতভাবে শ্রমিক ফিরে আসায় সর্বশেষ সঞ্চয় নিয়ে এসেছেন অনেকেই। এ কারণে আপাতত রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়ে গেছে। কিন্তু সামনে এটা ভাটা পড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক ফিরে এসেছে। গত পাঁচ মাসে দেশে ফিরে এসেছেন ৯৫ হাজার ৬২ জন প্রবাসী বাংলাদেশী। গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের ২৬টি দেশ থেকে এসব শ্রমিক ফিরে এসেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে বিদেশে কর্মরত এসব শ্রমিকের জমানো অর্থ তারা ফিরে আসার আগে রেমিট্যান্স আকারে পাঠিয়েছেন। এ কারণেই গত কয়েক মাস ধরে এক টানা অস্বাভাবিক হারে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে হারে শ্রমিক ফিরে আসছেন তা অব্যাহত থাকলে সামনে রেমিট্যান্সপ্রবাহে ধস নেমে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত মার্চ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে সবধরনের পণ্য আমদানি কমে গেছে। এতে কমে গেছে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার। কিন্তু রেমিট্যান্স, রফতানি আয়, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানসহ যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে তার বেশির ভাগই উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। প্রায় সব ব্যাংকের হাতে এখন উদ্বৃত্ত ডলার থাকায় বাজারে চাহিদাও কমে গেছে। বাজারে ডলার বিক্রি করতে না পারায় ব্যাংকগুলো প্রতিদিনই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। কিন্তু যে হারে বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে ওই হারে পণ্য আমদানি হয়নি। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট আরেক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ডলারের মূল্য কমে যাচ্ছে। কিন্তু দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে ডলারের মূল্য কমেনি, বরং মূল্য দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে রয়েছে। এর কারণ হিসেবে, ওই সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কিনে নিচ্ছে। এতেই বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হয়েছে।


আরো সংবাদ