২৮ অক্টোবর ২০২০
বিশ্ব হার্ট দিবস

হৃদরোগের ঝুঁঁকি বাড়ায় ট্রান্সফ্যাট

-

আজ মঙ্গলবার বিশ্ব হার্ট দিবস। ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ এবং হৃদরোগ ঝুঁকির উচ্চহার ব্যাপকভাবে সম্পর্কযুক্ত। পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগের অবস্থান শীর্ষে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে (মোট মৃত্যুর ৩১%) এবং কেবল ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মারা যায়; যার ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী ট্রান্সফ্যাট। উদ্বেগজনক বিষয় হলোÑ হৃদরোগীদের করোনা সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকগুণ বেশি।
উচ্চমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) গ্রহণ হার্ট অ্যাটাকসহ হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ডব্লিউএইচওর ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ট্রান্সফ্যাট একধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি বা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত Low Density Lipoprotein বা এলডিএল বৃদ্ধি করে। অপর দিকে High Density Lipoprotein বা এইচডিএল কোলেস্টেরল (ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়) কমিয়ে দেয়। এর ফলে রক্তবাহী ধমনীতে কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ট্রান্সফ্যাটজনিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অতি সম্প্রতি ডব্লিউএইচও প্রকাশিত WHO REPORT ON GLOBAL TRANS FAT ELIMINATION-2020 শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে যত মানুষ মারা যায় তার ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী ট্রান্সফ্যাট। এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশে এখন পর্যন্ত কোনো আইন বা নীতি নেই। তবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আওতায় ইতোমধ্যে ট্রান্সফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণে একটি ধারণাপত্র (Position Paper) তৈরি করা হয়েছে।
হৃদরোগ ঝুঁঁকি কমিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডব্লিউএইচওর পরামর্শ অনুযায়ী সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন এবং কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে মোড়কজাত খাবারের পুষ্টিতথ্য তালিকায় ট্রান্সফ্যাটের সীমা উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, উপকরণ তালিকায় পিএইচওর মাত্রা উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলস বাধ্যতামূলক করা, যা খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি নির্দেশ করবে এবং ট্রান্সফ্যাট-মুক্ত বা স্বল্পমাত্রার ট্রান্সফ্যাট জাতীয় স্বাস্থ্যবার্তা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে হৃদরোগজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার কাক্সিক্ষত মাত্রায় হ্রাস পাবে এবং অসংক্রামক রোগ সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৪ অর্জন সহজতর হবে।


আরো সংবাদ